মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে বিসিএস ক্যাডারের অধ্যক্ষ নিয়োগে শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

দেশের শীর্ষস্থানীয় ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে সরকার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকার বিখ্যাত মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের একজন অভিজ্ঞ অধ্যাপককে প্রেষণে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫টি শাখায় শাখা প্রধান হিসেবে সহযোগী অধ্যাপকদের নিযুক্ত করা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পর অভিভাবক মহলে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে। এই সাহসী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাকারী দেশের অন্যতম বড় সংগঠন ‘অভিভাবক ঐক্য ফোরাম’।

আজ বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু এই অভিনন্দন বার্তা জানান। তিনি বলেন, বিগত দিনের স্বৈরাচারী সরকারের আমলে দেশের বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছিল। এমন দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে এই নতুন নিয়োগের ফলে অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক দাবি অন্তত কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন হলো। এতে সাধারণ অভিভাবকরা অনেক বেশি খুশি এবং তারা মনে করছেন যে, এখন থেকে স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান আগের চেয়ে অন্তত ৫০% থেকে ৬০% উন্নত হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু তার বিবৃতিতে অতীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের নেতারা সরাসরি সাক্ষাৎ করেছিলেন। ওই সাক্ষাতে তারা একটি লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। সেখানে তারা স্পষ্টভাবে দাবি করেছিলেন যে, ঢাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম প্রশাসনিক অবক্ষয় চলছে। এই অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করতে হলে অবিলম্বে সেনাবাহিনীর কোনো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অথবা বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ কোনো অধ্যাপককে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পদে প্রেষণে নিয়োগ দিতে হবে।

আইডিয়াল ও মনিপুর স্কুলে সরকারের এই নতুন পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ফোরামের সভাপতি। তিনি জানান, দেশের অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজটি অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দীর্ঘ দিন ধরে শুধু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে। একজন স্থায়ী ও দক্ষ অধ্যক্ষ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, আইডিয়াল স্কুলের মতোই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেও খুব দ্রুত বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের একজন যোগ্য অধ্যাপককে স্থায়ী অধ্যক্ষ পদে প্রেষণে নিযুক্ত করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ বাণিজ্যের যে নোংরা সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন মো. জিয়াউল কবির দুলু। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন লাখ লাখ টাকা বা অনেক সময় ১০,০০০থেকে২০,০০০(ডলার) সমপরিমাণ অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের বড় বড় স্কুলের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসানো হতো। এই পতিত স্বৈরাচারের দোসররা টাকার জোরে নিয়োগ পেয়ে স্কুলগুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসার জায়গায় পরিণত করেছিল। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায় করত।

তাই তিনি শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা সচিবকে অত্যন্ত বিনীতভাবে অনুরোধ করেন, তারা যেন এই বিষয়টির দিকে বিশেষভাবে নজর রাখেন। ভবিষ্যতে যাতে কোনো দুর্নীতিবাজ বা স্বৈরাচারের দোসর টাকার লেনদেনের বিনিময়ে প্রেষণে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ না পায়, সেদিকে প্রশাসনকে ১০০% সজাগ থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো মানুষ গড়ার কারখানা। এখানকার নেতৃত্ব যদি সৎ ও দক্ষ হাতে না থাকে, তবে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যাবে।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের এই বিবৃতি সাধারণ মানুষের মনের কথারই প্রতিফলন। শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়ানোর জন্য নিজেদের আয়ের একটি বড় অংশ খরচ করেন। তারা চান স্কুলগুলোতে যেন শুধু মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হয়। সরকার যদি বিসিএস ক্যাডারের সৎ কর্মকর্তাদের দিয়ে এসব স্কুল পরিচালনা করে, তবে খুব দ্রুতই স্কুলগুলোর হারানো গৌরব ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সবাই গভীরভাবে বিশ্বাস করেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ