চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় রাতের অন্ধকারে ইয়াবা নিয়ে ঘোরার সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের হাতে ধরা পড়েছেন বান্দরবানের এক ছাত্রলীগ নেতা। আটক হওয়া ওই নেতার নাম রায়হান উদ্দীন। তিনি বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বর্তমান সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন ছাত্রনেতা যখন নিজেই মরণনেশা ইয়াবার সাথে যুক্ত হন, তখন সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চরম হতাশা তৈরি হয়। গত রাতে সাতকানিয়া উপজেলার একটি এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা এখন পুরো এলাকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানা যায়। তারা জানান, গত রাতে সাতকানিয়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় রায়হান উদ্দীনের চলাফেরা ও গতিবিধি স্থানীয়দের কাছে বেশ সন্দেহজনক মনে হয়। অনেক রাত হওয়ায় এবং তাকে এলাকায় অপরিচিত লাগায় কয়েকজন যুবক তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কিন্তু রায়হান তাদের প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারছিলেন না এবং বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তার এই অসংলগ্ন আচরণে মানুষের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে জোর করে আটকে রাখেন এবং তার শরীর তল্লাশি করার সিদ্ধান্ত নেন।
সাধারণ মানুষ যখন তার শরীর তল্লাশি শুরু করেন, তখন প্যান্টের পকেট থেকে বেশ কয়েক পিস গোলাপি রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট বেরিয়ে আসে। একজন ছাত্রনেতার পকেট থেকে এমন ভয়ংকর মাদক বের হওয়ায় উপস্থিত জনতা রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মাদকের কারণে আমাদের দেশের অনেক তরুণ বিপথগামী হচ্ছে, পরিবারগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটা চাপা রাগ সবসময়ই থাকে। সেই রাগের বশবর্তী হয়ে উপস্থিত জনতা রায়হান উদ্দীনকে আটকে রেখে উত্তম-মধ্যম বা গণপিটুনি দেয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে (ভাইরাল হয়েছে), যেখানে রায়হানকে জনতার হাতে আটকা পড়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রায়হান উদ্দীন বান্দরবানের সুয়ালক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন পরিচিত মুখ এবং সহ-সভাপতি। কিন্তু রাজনীতির আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত বলে তাদের সন্দেহ ছিল। বান্দরবানের মতো পাহাড়ি এলাকায় মাদকের চোরাচালান ও বিস্তার বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক পদের পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের ব্যবসা বা বহন করার কাজ করে। এতে তারা হয়তো প্রতি রাতে ৫বা১০(ডলার) সমপরিমাণ টাকা লাভ করে, কিন্তু এর বিনিময়ে তারা এলাকার শত শত তরুণের জীবন ধ্বংস করে দেয়।
মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে সবার আগে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা। একজন ছাত্রনেতা যাকে দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভালো কিছু শিখবে, সে নিজেই যদি মাদকের সাথে যুক্ত হয়, তবে তা সমাজের জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে অবৈধ মাদকের কারণে প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ()বিদেশেপাচারহয়েযাচ্ছে।একটিইয়াবাট্যাবলেটহয়তোবাজারে২)বিদেশেপাচারহয়েযাচ্ছে।একটিইয়াবাট্যাবলেটহয়তোবাজারে২বা ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়, কিন্তু এর কারণে একটি পরিবারকে পরে চিকিৎসার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। তাই সাধারণ মানুষ এখন দাবি করছেন, শুধু এই রায়হান উদ্দীনকেই নয়, তার মতো আরও যারা রাজনীতির আড়ালে মাদকের ব্যবসা করছে, তাদের সবাইকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে এখন পুলিশেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই আটকের বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। রায়হান উদ্দীনকে জনতার হাত থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে কি না বা তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ১০০% কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাজনীতির মাঠ থেকে এমন মাদক ব্যবসায়ীদের চিরতরে পরিষ্কার করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
















