যেকোনো দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো সেই দেশের তরুণ সমাজ। তারুণ্য মানেই নতুন কিছু করার অদম্য স্পৃহা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অদ্ভুত শক্তি। আমরা প্রায়ই সভা-সেমিনারে বা খবরের কাগজে একটি কথা খুব শুনি”চাকরিপ্রার্থী না হয়ে চাকরিদাতা হতে হবে।” কথাটি শুনতে খুব ভালো লাগে। একজন সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা তরুণ যখন নিজের একটি ব্যবসা দাঁড় করানোর স্বপ্ন দেখেন, তখন তিনি শুধু নিজের কর্মসংস্থানই করেন না, বরং আরও দশজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেন। একটি দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের কোনো বিকল্প নেই।
কিন্তু এই সুন্দর স্বপ্নটি বাস্তবে রূপ দেওয়া কি এতই সহজ? একজন তরুণ যখন মাথায় একটি চমৎকার আইডিয়া বা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামেন, তখন তাকে এমন কিছু রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, যা অনেক সময় তার উদ্যমকে পুরোপুরি নিভিয়ে দেয়। “তরুণ উদ্যোক্তাদের পথচলায় কী বাধা রয়েছে এখন”—এই প্রশ্নটি বর্তমানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কারণ, আমরা দেখছি হাজারো তরুণ উৎসাহ নিয়ে ব্যবসা শুরু করছেন, কিন্তু তাদের একটি বড় অংশই প্রথম এক বা দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেন এমনটা হচ্ছে? মেধা, পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং নতুন আইডিয়া থাকার পরও আমাদের তরুণেরা কেন বারবার হোঁচট খাচ্ছেন? আজকের এই লেখায় আমরা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে তরুণ উদ্যোক্তাদের পথচলার প্রধান বাধাগুলো, এর পেছনের কারণ এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি বিস্তারিত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করব।
তরুণ উদ্যোক্তাদের বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে আমাদের দেশে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’-এর সুবর্ণ সময় চলছে। অর্থাৎ, কর্মক্ষম তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইন্টারনেটের প্রসার এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে অনেক তরুণ এখন ঘরে বসেই ব্যবসা বা ‘ই-কমার্স’ (E-commerce) এবং ‘এফ-কমার্স’ (F-commerce) শুরু করছেন। কেউ পোশাকের ব্র্যান্ড আনছেন, কেউ কৃষিপণ্য বা নিরাপদ খাবার গ্রাহকের দরজায় পৌঁছে দিচ্ছেন, আবার কেউ আইটি বা টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছেন।
কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি বছর যতগুলো নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ (Startup) শুরু হয়, তার প্রায় ৮০ শতাংশই প্রথম তিন বছরের মধ্যে ঝরে পড়ে। এই ঝরে পড়ার কারণ শুধু তরুণদের অনভিজ্ঞতা নয়, বরং আমাদের চারপাশের ব্যবস্থা, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত দুর্বলতা।
তরুণ উদ্যোক্তাদের পথচলার প্রধান বাধাগুলো
তরুণ উদ্যোক্তাদের পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না, তবে বর্তমান সময়ে এই বাধাগুলো আরও বহুমাত্রিক রূপ ধারণ করেছে। নিচে প্রধান বাধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আর্থিক সংকট ও ব্যাংক ঋণের জটিলতা
একজন তরুণের মাথায় হয়তো কোটি টাকার একটি ব্যবসায়িক আইডিয়া আছে, কিন্তু সেই আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে যে প্রাথমিক মূলধন বা ‘সিড ফান্ডিং’ (Seed funding) প্রয়োজন, তা তার কাছে থাকে না। আমাদের দেশে তরুণ উদ্যোক্তাদের সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা হলো এই আর্থিক সংকট।
যখন একজন তরুণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে যান, তখন ব্যাংক তার কাছে ‘জামানত’ বা মর্টগেজ (Mortgage) চায়। একজন সদ্য পাস করা মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণের পক্ষে নিজের নামে জমি বা ফ্ল্যাট থাকা প্রায় অসম্ভব। ব্যাংকগুলো সাধারণত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা ঋণ দিতে রাজি থাকে, কিন্তু একজন নতুন উদ্যোক্তাকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ দিতে হাজারটা শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে টাকার অভাবে অঙ্কুরেই অনেক সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া দেশে ‘অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর’ (Angel Investor) বা ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল’ (Venture Capital)-এর ধারণাও এখনো খুব একটা পরিপক্ক হয়নি।
পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বাধা
আমাদের সমাজব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় বাধাটা অনেক সময় নিজের ঘর থেকেই আসে। আমাদের দেশের বাবা-মায়েরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই রক্ষণশীল। তারা চান সন্তান বড় হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হবে অথবা একটি সরকারি চাকরি (বিশেষ করে বিসিএস) করবে, যেখানে মাসের শেষে একটি নির্দিষ্ট বেতন আসবে এবং চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে।
যখন কোনো তরুণ পড়াশোনা শেষ করে বলেন যে তিনি ব্যবসা করতে চান, তখন পরিবার থেকে সবচেয়ে বেশি বাধা আসে। “ব্যবসা তো বড়লোকদের কাজ”, “চাকরি না পেলে মানুষের কাছে মুখ দেখাব কী করে?”—এমন সব নেতিবাচক কথা শুনতে হয়। সমাজে একজন বেকার ছেলের চেয়েও অনেক সময় একজন ছোট উদ্যোক্তাকে বেশি অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়। সামাজিক এই মানসিক চাপ একজন তরুণের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আইনি বাধা
ব্যবসা শুরু করতে গেলে সরকারি কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়। যেমন—ট্রেড লাইসেন্স, টিন (TIN) সার্টিফিকেট, ভ্যাট (VAT) রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি। একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য সরকারি অফিসগুলোর এই চক্কর কাটা এক বিশাল যন্ত্রণার নাম। একটি সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স বের করতে গিয়ে অনেক সময় টেবিলে টেবিলে ঘুরতে হয়, কখনো বা ঘুষের শিকার হতে হয়।
এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতা একজন তরুণের উদ্যমকে শুরুতেই মাটি করে দেয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদন নিতে গেলে যে পরিমাণ আইনি মারপ্যাঁচ পার হতে হয়, তাতে অনেক তরুণই হতাশ হয়ে ব্যবসা করার চিন্তাই বাদ দিয়ে দেন।
সঠিক দিকনির্দেশনা ও মেন্টরশিপের অভাব
ব্যবসা মানে শুধু একটি পণ্য কিনে এনে বিক্রি করা নয়। এর সাথে জড়িয়ে আছে হিসাবরক্ষণ, মার্কেটিং, কাস্টমার সার্ভিস, আইনি বিষয় এবং ব্যবসা বড় করার কৌশল। আমাদের তরুণদের আইডিয়া ভালো হলেও, কীভাবে ব্যবসাটি পরিচালনা করতে হবে সে সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকে না।
উন্নত দেশগুলোতে নতুন উদ্যোক্তাদের পথ দেখানোর জন্য অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা ‘মেন্টর’ বা পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু আমাদের দেশে এমন নিঃস্বার্থ মেন্টরশিপের খুব অভাব। সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার কারণে অনেক তরুণ ভুল খাতে বিনিয়োগ করে বসেন এবং খুব দ্রুত নিজেদের জমানো পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা ও দক্ষতার ঘাটতি
আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত মুখস্থবিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর। স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত ‘চাকরিজীবী’ তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করছে। সেখানে ব্যবসা বা উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বাস্তবমুখী পাঠ দেওয়া হয় না। একজন তরুণ ২০ বছর পড়াশোনা করার পরও জানেন না কীভাবে একটি ‘বিজনেস মডেল’ দাঁড় করাতে হয় বা কীভাবে একজন ক্রেতার সাথে যোগাযোগ (Communication) করতে হয়। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোর অভাব তরুণদের পথচলার একটি বড় বাধা।
অসম বাজার প্রতিযোগিতা
বর্তমান সময়ে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ছোট একজন উদ্যোক্তাকে অনেক সময় বড় বড় করপোরেট কোম্পানিগুলোর সাথে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। বড় কোম্পানিগুলোর প্রচুর টাকা, বড় মার্কেটিং বাজেট এবং সাপ্লাই চেইন থাকে, যা একজন নতুন তরুণের থাকে না। এছাড়া ই-কমার্সের ক্ষেত্রে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠানের (যেমন কিছু আলোচিত ই-কমার্স স্ক্যাম) কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটার প্রতি এক ধরনের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই আস্থার সংকটের চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে সৎ ও নতুন তরুণ উদ্যোক্তাদের।
সমাজ ও অর্থনীতিতে এর ক্ষতিকর প্রভাব
তরুণ উদ্যোক্তারা যখন এই বাধাগুলোর কারণে টিকতে পারেন না, তখন এর প্রভাব শুধু তাদের ব্যক্তিজীবনেই পড়ে না, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রথমত, দেশে বেকারত্বের হার বাড়ে। যে তরুণ নিজে চাকরি করে আরও দশজনের চাকরি দিতে পারতেন, তিনি ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে নিজেই বেকার হয়ে যান এবং সরকারি চাকরির সেই ইঁদুর দৌড়ে আবার শামিল হন।
দ্বিতীয়ত, মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ ঘটে। অনেক মেধাবী তরুণ দেশে ব্যবসার ভালো পরিবেশ না পেয়ে হতাশ হয়ে ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডায় পাড়ি জমান। ওই দেশগুলো তাদের আইডিয়া কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়, আর আমাদের দেশ হারায় তার সবচেয়ে মূল্যবান মানবসম্পদ।
তৃতীয়ত, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থবিরতা দেখা দেয়। দেশের অর্থনীতি শুধু বড় বড় গার্মেন্টস বা গুটিকয়েক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বাধাগুলো দূর করার কার্যকর উপায়
তরুণ উদ্যোক্তাদের পথচলার এই কণ্টকাকীর্ণ পথকে মসৃণ করতে হলে রাষ্ট্র, পরিবার এবং সমাজ—সবাইকে একযোগে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন ঋণ প্রদান
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সহজ অর্থায়ন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে তাদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু জমির বা সম্পত্তির দলিল না খুঁজে, তরুণের ব্যবসার আইডিয়া এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতাকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের (Refinancing Scheme) সুফল যেন সত্যিকারের প্রান্তিক ও নতুন উদ্যোক্তারা পান, তা কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।
ওয়ান স্টপ সার্ভিস ও আইনি সহজীকরণ
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে সরকারি সেবাগুলোকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স থেকে শুরু করে ভ্যাট, ট্যাক্স সবকিছু যাতে একজন তরুণ ঘরে বসে অনলাইনে এক জায়গা থেকে (One Stop Service) করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম দুই-তিন বছর কর অবকাশ (Tax Holiday) বা ভ্যাট মওকুফের সুবিধা দিলে তারা দ্রুত নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন।
সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তন
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা আসতে হবে আমাদের মানসিকতায়। বাবা-মা ও সমাজকে বুঝতে হবে যে, সরকারি চাকরিই জীবনের একমাত্র সফলতা নয়। একটি বৈধ ও সৎ ব্যবসা করে একজন তরুণ দেশের অর্থনীতিতে যে অবদান রাখেন, তা কোনো অংশেই কম নয়। উদ্যোক্তাদের সামাজিকভাবে সম্মান দিতে হবে। একবার ব্যবসায় ব্যর্থ হলেও তাকে কটূক্তি না করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক কোর্স অন্তর্ভুক্তকরণ
স্কুল ও কলেজ পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার বীজ বপন করতে হবে। সিলেবাসে শুধুমাত্র তাত্ত্বিক পড়া না রেখে, বাস্তবমুখী ‘আন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ’ বা উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনকিউবেশন সেন্টার (Incubation Center) তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়া অবস্থায়ই ব্যবসার হাতেখড়ি নিতে পারবেন এবং অভিজ্ঞদের কাছ থেকে মেন্টরশিপ পাবেন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, একটি বীজ থেকে বিশাল বটগাছ হতে গেলে যেমন সঠিক মাটি, আলো, বাতাস আর যত্নের প্রয়োজন হয়, তেমনি একজন তরুণ উদ্যোক্তার সফলতার জন্যও একটি সুস্থ, বাধাহীন ও সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন। “তরুণ উদ্যোক্তাদের পথচলায় কী বাধা রয়েছে এখন”—এই বাস্তবতাগুলো আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু শুধু সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না, এর বাস্তব সমাধানগুলো দ্রুত প্রয়োগ করতে হবে।
আমাদের তরুণেরা মেধা ও পরিশ্রমে বিশ্বের কোনো দেশের চেয়ে পিছিয়ে নেই। তাদের শুধু একটু আর্থিক সমর্থন, আইনি সহযোগিতা এবং মানসিক ভরসা প্রয়োজন। ব্যাংকগুলোর ঋণের দরজা খোলা, পরিবারের সমর্থন এবং রাষ্ট্রের একটু সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিই পারে এই তরুণদের অদম্য শক্তিকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির প্রধান হাতিয়ারে পরিণত করতে। যেদিন একজন তরুণ বিনা বাধায় ও হাসিমুখে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন এবং সমাজ তাকে একজন চাকরিজীবীর চেয়েও বেশি সম্মান দেবে, সেদিনই আমরা সত্যিকার অর্থে একটি স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পারব। তরুণ উদ্যোক্তারাই আগামীর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি, তাই তাদের পথচলার বাধাগুলো দূর করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
















