কাবা শরিফ কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়, ভেতরে আছে কী?

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন এবং পবিত্রতম স্থান হলো মক্কা নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় বিশ্বের সব প্রান্তের মুসলমানরা এই কাবা ঘরের দিকে মুখ করেই পরম করুণাময়ের দরবারে সিজদাহ করেন। প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে লাখো কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র মক্কায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে যখন তারা প্রথমবারের মতো কালো গিলাফে মোড়ানো চারকোনা বিশাল আকৃতির এই পবিত্র ঘরটির দিকে তাকান, তখন তাদের চোখে পানি চলে আসে এবং এক অনির্বচনীয় আধ্যাত্মিক প্রশান্তিতে মন ভরে যায়।

বাইরে থেকে পবিত্র কাবা শরিফকে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ এবং রহস্যময় বলে মনে হয়। কারণ, এটি সব সময় একটি কালো রঙের বিশাল কাপড়ে সম্পূর্ণভাবে আবৃত থাকে, যার ওপর সোনালি সুতোয় কোরআনের নানা আয়াত লেখা থাকে। এই দৃশ্য দেখার পর প্রতিটি সাধারণ মানুষের মনেই কিছু স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে। যেমন কেন এই পবিত্র ঘরটিকে সারাবছর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়? এই কাপড় তৈরির ইতিহাস বা প্রক্রিয়াই বা কী? আর সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি মানুষের মনে কৌতূহল সৃষ্টি করে তা হলো, পবিত্র কাবা শরিফের ভেতরে আসলে কী আছে? সেখানে কি কোনো বিশেষ বস্তু রাখা আছে, নাকি সেটি একেবারেই ফাঁকা? আজকের এই বিস্তারিত বিশ্লেষণী আর্টিকেলে আমরা সহজ ভাষায় পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ বা কাপড়ে ঢেকে রাখার ইতিহাস এবং এর ভেতরের অজানা দৃশ্য সম্পর্কে জানব।

কাবা শরিফ কাপড়ে কেন ঢেকে রাখা হয়? এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

পবিত্র কাবা শরিফকে যে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, ইসলামি পরিভাষায় তাকে ‘কিসওয়া’ (Kiswah) বা গিলাফ বলা হয়। কাবা ঘরকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার এই ঐতিহ্য কোনো নতুন বিষয় নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের এক সুদীর্ঘ ও চমকপ্রদ ইতিহাস।

ইসলাম পূর্ববর্তী সময় ও কিসওয়ার সূচনা

ঐতিহাসিকদের মতে, পবিত্র কাবা শরিফে প্রথম গিলাফ বা কাপড় পরানোর ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল ইসলাম পূর্ববর্তী যুগে। ইয়েমেনের রাজা ‘আসআদ আবু কারব’ (যিনি তুব্বা নামেও পরিচিত ছিলেন) সর্বপ্রথম কাবা শরিফে গিলাফ পরানোর প্রথা চালু করেন। বলা হয়ে থাকে, তিনি মক্কা পরিদর্শনে এসে এই পবিত্র ঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ইয়েমেনের তৈরি বিশেষ একধরনের কাপড় দিয়ে পুরো কাবা শরিফ ঢেকে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে মক্কার কুরাইশরাও এই প্রথাকে ধারণ করে এবং বংশপরম্পরায় কাবার গিলাফ পরানোর দায়িত্ব পালন করতে থাকে।

নবীজির (সা.) আমল ও গিলাফ পরানোর প্রথা

মক্কা বিজয়ের দিন পর্যন্ত পবিত্র কাবায় কুরাইশদের পরানো গিলাফই ছিল। মক্কা বিজয়ের পর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কাবার ভেতরে থাকা সব মূর্তি অপসারণ করে একে পবিত্র করেন। এরপর নবম হিজরিতে তিনি সর্বপ্রথম ইয়েমেনি কাপড় দিয়ে পবিত্র কাবার গিলাফ পরান। পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে হজরত উমর (রা.) এবং হজরত উসমান (রা.) মিসরের তৈরি উন্নত মানের সাদা ‘কুবাতী’ কাপড় দিয়ে কাবা শরিফ ঢেকে দিয়েছিলেন। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম শাসকরা কাবার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এর গায়ে গিলাফ পরিয়ে আসছেন।

গিলাফের রঙের বিবর্তন: কেন এটি আজ কালো?

অনেকেই হয়তো ভাবেন কাবার গিলাফ বুঝি সবসময় কালো রঙেরই ছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন যুগে কাবার গিলাফের রঙ পরিবর্তন হয়েছে। কখনো এটি সাদা, কখনো লাল, আবার কখনো সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে ঢাকা হতো। আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে অনেক সময় বছরে তিনবার গিলাফ পরিবর্তন করা হতো এবং ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যবহার হতো। তবে আব্বাসীয় খলিফা আল-নাসির শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন যে, পবিত্র কাবার গিলাফ হবে গাঢ় কালো রঙের। কারণ কালো রঙ সহজে ময়লা হয় না, অনেক দূর থেকে স্পষ্ট দেখা যায় এবং এর ওপর সোনালি সুতোর কাজ করলে তা দেখতে অত্যন্ত রাজকীয় ও গম্ভীর মনে হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত পবিত্র কাবা শরিফ কালো কাপড়ে ঢেকে রাখার ঐতিহ্যই চলে আসছে।

গিলাফ পরানোর আধ্যাত্মিক ও ব্যবহারিক তাৎপর্য

কাবা ঘরকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো এর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, তাজিম ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা। মানুষ যেমন তার সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটিকে পরম যত্নে সুন্দর আবরণে ঢেকে রাখে, তেমনি আল্লাহর ঘরকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও দামি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এটি মুসলমানদের ঈমানের একটি অংশ। এছাড়া, মক্কার তীব্র রোদ, ধুলোবালি এবং বৈরী আবহাওয়া থেকে পবিত্র কাবার দেয়ালকে রক্ষা করার ব্যবহারিক উদ্দেশ্যও এই গিলাফ পরানোর পেছনে কাজ করে।

বর্তমান যুগে গিলাফ বা কিসওয়া তৈরির রাজকীয় আয়োজন

বর্তমান সময়ে কাবা শরিফের গিলাফ তৈরি করা একটি অত্যন্ত বিশাল, ব্যয়বহুল এবং রাজকীয় কর্মযজ্ঞ। এটি সাধারণ কোনো কারখানায় তৈরি হয় না; এর জন্য মক্কায় বিশেষ একটি কারখানা রয়েছে।

খাঁটি রেশম ও স্বর্ণের সুতোর ব্যবহার

মক্কার ‘উম্মুল জুদ’ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির জন্য একটি অত্যাধুনিক ও নিবেদিত কারখানা রয়েছে। এই গিলাফ তৈরিতে ব্যবহার করা হয় প্রায় ৬৭০ কেজি খাঁটি সাদা রেশম (সিল্ক), যা প্রথমে কালো রঙে রাঙানো হয়। গিলাফের ওপর কোরআনের যে আয়াতগুলো লেখা থাকে, তা বুনতে ব্যবহার করা হয় প্রায় ১২০ কেজি খাঁটি স্বর্ণের সুতো এবং ১০০ কেজি রুপার সুতো। প্রায় ২০০ জন দক্ষ কারিগর এবং ক্যালিগ্রাফার সারা বছর ধরে নিজেদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় এই গিলাফ তৈরি করেন। বর্তমানে একটি গিলাফ তৈরি করতে প্রায় আড়াই কোটি সৌদি রিয়াল বা বাংলাদেশি টাকায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়, যা সৌদি সরকার বহন করে থাকে।

গিলাফ পরিবর্তনের বিশেষ দিন ও পুরনো গিলাফ

ঐতিহ্যগতভাবে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, অর্থাৎ পবিত্র হজের দিন (আরাফাতের দিন) কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হতো। তবে সম্প্রতি সৌদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন থেকে প্রতি বছর হিজরি নববর্ষের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ মহররম পবিত্র কাবার নতুন গিলাফ পরানো হবে।
নতুন গিলাফ পরানোর পর পুরনো গিলাফটি খুলে ফেলা হয়। এরপর সেই পুরনো গিলাফটি ছোট ছোট টুকরো করে কাটা হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং বড় বড় জাদুঘরে উপহার হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পবিত্র কাবা শরিফের ভেতরে আসলে কী আছে?

কাবা শরিফ নিয়ে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের জায়গা হলো এর ভেতরে আসলে কী আছে? যেহেতু পবিত্র কাবা শরিফ সারা বছর বন্ধ থাকে এবং খুব কম মানুষই এর ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান, তাই এর ভেতরের দৃশ্য নিয়ে মানুষের মনে নানা জল্পনা-কল্পনা কাজ করে। যারা এর ভেতরে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন, তাদের বর্ণনা থেকে কাবার ভেতরের স্পষ্ট চিত্র জানা যায়।

ভেতরের দৃশ্য, মেঝে ও দেয়ালের গঠনশৈলী

কাবা শরিফের ভেতরে ঢুকলে প্রথমে একটি অত্যন্ত স্নিগ্ধ ও পবিত্র পরিবেশের অনুভূতি হয়। ভেতরের মেঝে এবং দেয়ালের নিচের অংশ দামি ও দুর্লভ শ্বেতপাথর বা মার্বেল পাথর দিয়ে ঢাকা। এই মার্বেল পাথরগুলোতে চমৎকার কারুকাজ করা আছে। মেঝের ঠিক মাঝখানে কিছু অংশ একটু ভিন্ন রঙের পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা আছে, যা নির্দেশ করে যে ঠিক এই জায়গাতেই মহানবী (সা.) মক্কা বিজয়ের দিন নামাজ আদায় করেছিলেন।

দেয়ালের ওপরের দিক থেকে শুরু করে ভেতরের পুরো ছাদ একটি সবুজ রঙের রেশমি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এই সবুজ কাপড়ের ওপর অত্যন্ত সুন্দরভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এবং আল্লাহর বিভিন্ন পবিত্র নাম সোনালি সুতোয় খচিত রয়েছে।

তিনটি ঐতিহাসিক কাঠের স্তম্ভ ও প্রাচীন লণ্ঠন

কাবার ছাদকে ধরে রাখার জন্য ভেতরের ঠিক মাঝ বরাবর তিনটি বড় ও মজবুত কাঠের পিলার বা স্তম্ভ রয়েছে। শুনলে অবাক হতে হয় যে, এই তিনটি কাঠের স্তম্ভ আজ থেকে প্রায় ১৩৫০ বছরের বেশি সময় আগে প্রখ্যাত সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের (রা.)-এর আমলে স্থাপন করা হয়েছিল। শত শত বছর পার হয়ে গেলেও এই সেগুন কাঠের স্তম্ভগুলো এখনো প্রায় অক্ষত রয়েছে। প্রতিটি স্তম্ভের পরিধি প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার।

এই তিনটি স্তম্ভের মাঝখানে ওপরের দিকে একটি মোটা কাঠের আড়া বা রড বসানো আছে। এই আড়া থেকে ঝুলে আছে ঐতিহাসিক বিভিন্ন যুগের তৈরি অনেকগুলো লণ্ঠন (বাতি) এবং চমৎকার সব কারুকার্যময় পাত্র। এই লণ্ঠনগুলো মূলত সোনা, রুপা ও পিতলের তৈরি, যা অতীতের বিভিন্ন মুসলিম শাসক ও খলিফারা কাবার জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।

‘বাব-উত-তাওবা’ এবং ছাদের সিঁড়ি

কাবা শরিফের ভেতরে ঢুকে ডান দিকের কোণায় তাকালে একটি ছোট ও সুন্দর দরজা দেখতে পাওয়া যায়। এই দরজাটিকে বলা হয় ‘বাব-উত-তাওবা’ বা তওবার দরজা। এটি সম্পূর্ণ সোনা দিয়ে মোড়ানো একটি দরজা। এই দরজাটি খুললেই একটি প্যাঁচানো সিঁড়ি দেখতে পাওয়া যায়। এই সরু ও প্যাঁচানো সিঁড়িটি দিয়ে পবিত্র কাবার ছাদে ওঠা যায়। সাধারণত কাবা ধোয়ার দিন বা গিলাফ পরিবর্তনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা এই সিঁড়ি ব্যবহার করে কাবার ছাদে ওঠেন।

দেয়ালের স্মৃতিফলক ও শূন্যতা

ভেতরের দেয়ালে শ্বেতপাথরের তৈরি বেশ কিছু স্মৃতিফলক বা ফলক (Plaques) গাঁথা আছে। কাবা ঘরকে এ পর্যন্ত যে সকল মুসলিম শাসক সংস্কার করেছেন, মূলত তাদের নাম এবং সংস্কারের সাল এই ফলকগুলোতে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে খোদাই করা আছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো কাবার ভেতরে পূজা বা উপাসনা করার মতো কোনো প্রতিমা, ছবি বা মূর্তি নেই। ইসলাম পূর্ববর্তী যুগে কাবার ভেতরে ৩৬০টি মূর্তি ছিল, কিন্তু মহানবী (সা.) মক্কা বিজয়ের পর তার সব ভেঙে পরিষ্কার করে দেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ মূর্তিমুক্ত এবং ফাঁকা। এই শূন্যতা এক অসীম সত্যের জানান দেয়—তা হলো ‘তাওহিদ’ বা একত্ববাদ। আল্লাহ নিরাকার, তাঁকে কোনো দেয়াল বা মূর্তির মাঝে বন্দি করা যায় না।

কাবা শরিফ ধৌত করা বা ‘গোসল’ প্রক্রিয়া

পবিত্র কাবার ভেতরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও, প্রতি বছর একটি বিশেষ দিনে কাবা শরিফ ধৌত করার রাজকীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। একে কাবার ‘গোসল’ বলা হয়। সাধারণত সৌদি আরবের বাদশাহ, মক্কার গভর্নর এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মুসলিম স্কলাররা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গোসলের এই প্রক্রিয়ায় কোনো সাধারণ পানি ব্যবহার করা হয় না। পবিত্র জমজমের পানি, বিখ্যাত তায়েফ শহরের গোলাপজল এবং বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও খাঁটি ‘আতর’ (ওদ বা আগর কাঠ থেকে তৈরি) একসাথে মিশিয়ে এই বিশেষ পানি তৈরি করা হয়। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাদা কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে কাবার ভেতরের মেঝে এবং দেয়ালের নিচের অংশ পরম মমতায় মুছে পরিষ্কার করেন। এই ধৌত করার কারণে কাবা শরিফের ভেতরে সব সময় জান্নাতি এক অদ্ভুত সুঘ্রাণ লেগে থাকে, যা ভেতরে প্রবেশকারীকে এক ভিন্ন জগতে নিয়ে যায়।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, পবিত্র কাবা শরিফ শুধু ইট, পাথর আর সিমেন্টের তৈরি কোনো সাধারণ ইমারত নয়। এটি মুসলমানদের ঈমান, ঐক্য এবং আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্রবিন্দু। কাবা শরিফ কালো কাপড়ে বা কিসওয়ায় ঢেকে রাখা মূলত আল্লাহর ঘরের প্রতি মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ সম্মান ও তাজিমের প্রতীক। হাজার বছর ধরে যুগের পর যুগ মুসলিম শাসকরা এই গিলাফ পরানোর ঐতিহ্যকে সযত্নে লালন করে আসছেন, যা আজ মক্কার কারখানায় অত্যন্ত আধুনিক ও নিখুঁতভাবে তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, কাবা শরিফের ভেতরে কী আছে, সেই প্রশ্নের উত্তর আসলে জাগতিক কোনো বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভেতরের শ্বেতপাথর, ঐতিহাসিক কাঠের স্তম্ভ, ঝুলন্ত লণ্ঠন এবং নবীজির (সা.) সিজদাহ করার জায়গা এসব কিছু মিলে কাবার ভেতরের পরিবেশকে এক অভাবনীয় পবিত্রতা দান করেছে। এর ভেতরের শূন্যতা আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, ইসলামে স্রষ্টাকে কোনো নির্দিষ্ট রূপে কল্পনা করা হয় না; বরং তিনি নিরাকার এবং সর্বব্যাপী। কাবার এই গিলাফের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য এবং এর ভেতরের অপার্থিব পবিত্রতা প্রতিটি মুসলমানের অন্তরে এক গভীর আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেয় যাতে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই পবিত্র ঘর স্পর্শ করার ও জিয়ারত করার সৌভাগ্য তাদের হয়।


সম্পর্কিত নিবন্ধ