কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির আলহাজ আনোয়ার হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার সকাল ৭টার দিকে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তার এই অকাল মৃত্যুতে এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব, এবং নানা সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
আলহাজ আনোয়ার হোসেনের পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ছনবান্দা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এসএসসি পাস করার পর তিনি তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) যোগ দেন। সেনাবাহিনীতে তিনি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করেন। দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে ২০০৬ সালে তিনি সম্মানের সঙ্গে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর তিনি নিজেকে সমাজসেবা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সর্বশেষ ভূরুঙ্গামারী উপজেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি প্রথমে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির সমস্যাসহ নানা জটিল রোগে তার অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বুধবার বিকেল ৪টায় সোনাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
আলহাজ আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তিনি সমাজের অনেক ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি এই অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের কাজকে একটি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সবসময় ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।’
কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আলহাজ আজিজুর রহমান সরকার স্বপনও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আলহাজ আনোয়ার হোসেন ছিলেন একজন আদর্শবান, নিষ্ঠাবান ও সংগ্রামী মানুষ। দ্বীনের পথে তার অবদান ও নেতৃত্ব আমাদের সংগঠনের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি দ্বীনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’
শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজি আলা উদ্দিন মন্ডল, এনসিপির উপজেলা মুখ্য সমন্বয়ক মাহফুজুল ইসলাম কিরণ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা আমির মুফতি ওমর ফারুক শোকবার্তায় তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। এছাড়া ভূরুঙ্গামারী প্রেসক্লাব, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ছাত্রশিবির, ভূরুঙ্গামারী ফাজিল মাদ্রাসা অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং আন নুর ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
















