কথা রাখলেন তামিম ইকবাল: ৭ জুনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিসিবির নির্বাচন

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে তামিম ইকবাল যখন গত ৭ এপ্রিল দায়িত্ব নেন, তখন দেশের ক্রিকেটে এক ধরনের অস্থিরতা চলছিল। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, নির্ধারিত তিন মাস সময়ের অনেক আগেই তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করবেন। তামিম ইকবাল তার সেই কথা রেখেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথাতেই আগামী ৭ জুন বিসিবির বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় আজ বিসিবি পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ৭ জুন ভোটগ্রহণ চলবে এবং ওই দিনই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সবার সামনে প্রকাশ করবে কমিশন। বিসিবি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ক্রীড়া সংস্থা। প্রতি বছর এই বোর্ডটি স্পনসরশিপ, টিভি স্বত্ব ও আইসিসির অনুদান মিলিয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার ($) বাজেটের বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলায়। দেশের মোট ক্রীড়া বাজেটের প্রায় ৮০% থেকে ৯০% একাই নিয়ন্ত্রণ করে ক্রিকেট বোর্ড। তাই এমন একটি বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য দ্রুত একটি নির্বাচিত ও স্থায়ী পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে কাউন্সিলরদের নাম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ। সারা দেশের জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের পাঠানো এই নামের তালিকার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন কমিশন আগামীকাল ১৭ মে বিকেল চারটায় একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা জানানোর সুযোগ থাকছে। ১৮ মে এই তালিকার ওপর আপত্তি গ্রহণ করবে কমিশন এবং ১৯ মে সেই আপত্তির ওপর শুনানি চলবে। সব ঝামেলা চুকিয়ে ১৯ মে বিকেল পাঁচটায় নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে, যার মাধ্যমে জানা যাবে কারা এবার ভোট দিতে পারছেন।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুরু হবে মূল নির্বাচনী উত্তাপ। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ ও ২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর ২১ ও ২২ মে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা। জমা পড়া এসব মনোনয়নপত্র নিবিড়ভাবে বাছাই করে আগামী ২৩ মে একটি তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। বাছাই প্রক্রিয়ায় কারও প্রার্থিতা বাতিল হলে ২৪ মে তিনি আপিল করতে পারবেন এবং সেদিনই এর শুনানি করে ফয়সালা দেওয়া হবে। পরদিন ২৫ মে কেউ চাইলে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন। ওই দিনই চূড়ান্ত প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ছোঁয়াও রাখছে কমিশন। যারা সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাদের জন্য পোস্টাল বা ই-ব্যালটের ব্যবস্থা থাকছে। ২৫ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিনই আগ্রহীদের ই-ব্যালটের জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে নির্বাচনী কার্যক্রমে কয়েক দিনের একটি ছোট বিরতি থাকবে। ঈদের ছুটি কাটিয়ে আগামী ১ জুন আবার পুরোদমে নির্বাচনী কাজ শুরু হবে। সেদিন থেকেই পোস্টাল বা ই-ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু করবে কমিশন, যা চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এই পোস্টাল বা ই-ব্যালট পৌঁছানোর একেবারে শেষ সময় হলো ৭ জুন বেলা একটা। এর পর আর কোনো ব্যালট তারা গ্রহণ করবেন না।

বহু প্রতীক্ষিত ভোটগ্রহণের দিনটি হলো ৭ জুন। মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অবস্থিত বিসিবি কার্যালয়ের বোর্ডরুমে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এরপর ভোট গণনা শেষে ওই দিনই সন্ধ্যা ছয়টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে সারা দেশ থেকে আসা কাউন্সিলররা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন। এর পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সরাসরি মনোনয়নে আরও দুজন পরিচালক বোর্ডে যুক্ত হবেন। সব মিলিয়ে এই ২৫ জন পরিচালক মিলে এরপর নিজেদের ভোটের মাধ্যমে বিসিবির নতুন সভাপতি নির্বাচন করবেন, যিনি আগামী চার বছর দেশের ক্রিকেটের নেতৃত্ব দেবেন।

পুরো এই বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার দায়িত্বে আছেন অত্যন্ত দক্ষ কয়েকজন ব্যক্তি। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিমের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন এই বিশাল দায়িত্ব পালন করছে। গত ১৩ মে এই শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করে সরকার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহসানুল করিমের পাশাপাশি এই কমিশনে আরও দুজন সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তারা হলেন গাজীপুর মহানগরের পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক ও সহকারী সচিব এ বি এম এহসানুল মামুন। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন এক যুগে প্রবেশ করবে বলে সাধারণ ভক্তরা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সম্পর্কিত নিবন্ধ