শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব কেন বাড়ছে বর্তমান সময়ে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

একটি সন্তান যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখন একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের চোখে অনেকগুলো স্বপ্ন উঁকি দেয়। বাবা-মা ভাবেন, ছেলে বা মেয়েটি একদিন বড় ডিগ্রি নিয়ে বের হবে, একটা ভালো চাকরি পাবে এবং সংসারের হাল ধরবে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর আর প্রাণবন্ত সময়গুলো পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করার পর, সমাবর্তনের দিন কালো গাউন আর মাথায় হ্যাট পরে যখন একজন তরুণ হাসিমুখে ছবি তোলেন, তখন তার চোখে থাকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। কিন্তু এই স্বপ্নের রঙিন চশমাটা খুব দ্রুতই খুলে যায়, যখন সে বাস্তব চাকরির বাজারে পা রাখে।

বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে আমরা এক রূঢ় ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হই। আমাদের দেশে এখন অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত মানুষের চেয়ে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বেকারত্বের হার ভয়াবহভাবে বেশি। একজন দিনমজুর বা রিকশাচালক ঠিকই দিন শেষে তার পরিবারের জন্য খাবার জোগাড় করতে পারেন, কিন্তু অনার্স-মাস্টার্স পাস করা একজন তরুণ চাইলেই রাস্তায় নেমে যেকোনো কাজ করতে পারেন না। সমাজের চোখরাঙানি আর নিজের আত্মসম্মানবোধ তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। উচ্চশিক্ষার ভারী সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চাকরির আশায় মানুষের দরজায় দরজায় ঘোরা এখন আমাদের শিক্ষিত তরুণদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষিত তরুণদের মাঝে বেকারত্ব কেন এত দ্রুত বাড়ছে, এর পেছনের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো কী এবং এটি সমাজ ও রাষ্ট্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আজ একটি গভীর ও সহজবোধ্য বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বর্তমান সময়ের বেকারত্বের বাস্তব চিত্র

শিক্ষিত বেকারত্ব কেন বাড়ছে, তার গভীরে যাওয়ার আগে বর্তমান সময়ের বেকারত্বের চিত্রটা আমাদের একটু বোঝা দরকার।

সার্টিফিকেটের পাহাড় আর শূন্য পকেট

পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কয়েক লাখ। প্রতি বছর দেশের সরকারি, বেসরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে দেশে নতুন কর্মসংস্থান বা চাকরি তৈরি হচ্ছে না। ফলে, চাকরির বাজারে তৈরি হচ্ছে এক বিশাল জট। একটি সাধারণ পদের জন্য যখন কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, তখন কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে। এই যে এত এত গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে, অথচ তাদের পকেট শূন্য—এটি আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ এর জন্য এক বিশাল ট্র্যাজেডি। যে তরুণদের দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার কথা, তারা আজ নিজেরাই পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধির মূল কারণসমূহ

এই বিশাল বেকারত্বের দায় শুধু তরুণদের নয়। এর পেছনে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং মানসিকতার অনেক বড় ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান সময়ে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ার প্রধান কারণগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

মুখস্থবিদ্যা নির্ভর সেকেলে শিক্ষাব্যবস্থা

আমাদের দেশে বেকারত্ব বাড়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো আমাদের ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আমাদের পড়াশোনার মূল ভিত্তি হলো মুখস্থবিদ্যা। শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে এমন অনেক বিষয় পড়ছেন, যার সাথে বাস্তব জীবনের বা কর্মক্ষেত্রের কোনো মিল নেই। শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য বা জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করেন। এর ফলে তারা সার্টিফিকেট অর্জন করছেন ঠিকই, কিন্তু তাদের ভেতর কোনো বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem-solving skills) বা নতুন কিছু ভাবার ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না।

শিল্পের চাহিদার সাথে শিক্ষার ফারাক (Skill Mismatch)

চাকরির বাজারের সবচেয়ে বড় অদ্ভুত দিক হলো—একদিকে লাখ লাখ তরুণ চাকরি না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন, অন্যদিকে দেশের বড় বড় শিল্পমালিক বা করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে যে তারা কাজ করার মতো যোগ্য লোক পাচ্ছেন না। একে অর্থনীতিবিদরা বলেন ‘স্কিল মিসম্যাচ’ বা যোগ্যতার অমিল। করপোরেট দুনিয়ায় এখন প্রয়োজন কম্পিউটার দক্ষতা, ভালো ইংরেজি জানা, যোগাযোগের দক্ষতা (Communication skills) এবং টেকনিক্যাল জ্ঞান। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করে বের হওয়া বেশিরভাগ তরুণের মধ্যে এই গুণগুলোর অভাব রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই অনেক দেশি কোম্পানি বিদেশি কর্মীদের (যেমন- ভারত বা শ্রীলঙ্কার কর্মী) বেশি বেতনে নিয়োগ দিচ্ছে, আর আমাদের তরুণেরা বেকার থাকছেন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

সরকারি চাকরির প্রতি অন্ধ মোহ ও ‘বিসিএস’ নির্ভরতা

বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে সরকারি চাকরি, বিশেষ করে বিসিএস (BCS)-এর প্রতি এক ধরনের অন্ধ মোহ বা ‘ইঁদুর দৌড়’ তৈরি হয়েছে। এর পেছনের কারণ হলো সরকারি চাকরিতে সামাজিক মর্যাদা, ক্ষমতার দাপট এবং চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা। অনার্স প্রথম বর্ষ থেকেই তরুণেরা মূল বিষয়ের পড়াশোনা বাদ দিয়ে লাইব্রেরিতে বসে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা আর গণিত গাইড মুখস্থ করছেন। ২৭-২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তারা শুধু সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেন। যখন চাকরিটা হয় না, তখন তাদের বয়স শেষ হয়ে যায় এবং বেসরকারি চাকরিতে ঢোকার মতো দক্ষতাও তাদের থাকে না। তরুণদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়গুলো এভাবে নষ্ট হওয়ার কারণে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

বেসরকারি খাতের দুর্বল কাঠামো ও আস্থার অভাব

সবাই তো আর সরকারি চাকরি পাবে না, বেশিরভাগকেই বেসরকারি খাতে কাজ করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশের বেসরকারি খাতের চাকরির পরিবেশ খুব একটা সন্তোষজনক নয়। কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, যখন তখন চাকরি চলে যাওয়ার ভয় থাকে এবং শুরুতে বেতন দেওয়া হয় অত্যন্ত কম। এই কম বেতন দিয়ে বর্তমানের অগ্নিমূল্যের বাজারে একজন তরুণের পক্ষে শহরে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। কাজের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় এবং চাকরির নিশ্চয়তা না থাকায় অনেক তরুণই বেসরকারি চাকরিতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বেকার থাকতে বাধ্য হন।

স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং নিয়োগ বাণিজ্য

“মামা-চাচার জোর না থাকলে চাকরি হয় না”—এই প্রবাদটি আমাদের সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতা। অনেক সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার চেয়ে তদবির বা ঘুষ বাণিজ্যের কদর বেশি দেখা যায়। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করেও ভাইভাতে গিয়ে অনেক মেধাবী তরুণ ছিটকে পড়েন শুধু রাজনৈতিক প্রভাব বা টাকার জোর না থাকার কারণে। যোগ্য প্রার্থীরা যখন বারবার দুর্নীতির কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত হন, তখন তাদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করে এবং বেকারত্বের এই দুষ্টচক্র আরও দীর্ঘ হয়।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

ধীরগতির শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ ঘাটতি

যেকোনো দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির মূল উপায় হলো শিল্পায়ন। নতুন নতুন কলকারখানা, গার্মেন্টস, আইটি ফার্ম বা উৎপাদনমুখী শিল্প তৈরি হলে লাখ লাখ মানুষের চাকরি হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং দুর্নীতির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসছে না। বিনিয়োগ না হলে নতুন কর্মসংস্থান হবে কোথা থেকে? অর্থনীতি বা জিডিপির আকার বড় হলেও, সেটি পর্যাপ্ত চাকরি তৈরি করতে পারছে না, যাকে ‘জবলেস গ্রোথ’ বলা হয়।

বেকারত্বের চাপে তরুণ সমাজ ও রাষ্ট্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব

বেকারত্ব শুধু একজন তরুণের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; এটি একটি ঘুনপোকার মতো, যা পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

চরম মানসিক হতাশা এবং আত্মহত্যার প্রবণতা

পড়াশোনা শেষ করার পর যখন একজন তরুণ দিনের পর দিন বেকার বসে থাকেন, তখন তার জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শি এমনকি অনেক সময় নিজের পরিবারের কাছ থেকেও তাকে নানা ধরনের কটু কথা শুনতে হয়। “এখনো বাবার হোটেলে খাচ্ছিস?”—এই ধরনের কথা একজন তরুণের আত্মসম্মানকে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। এই তীব্র মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা সইতে না পেরে প্রতি বছর অনেক মেধাবী তরুণ আত্মহত্যার মতো ভয়ংকর পথ বেছে নিচ্ছেন। পত্রিকায় যখন বেকার তরুণের আত্মহত্যার খবর ছাপা হয়, তখন তা আমাদের পুরো সমাজের জন্য এক বিশাল ব্যর্থতার গল্প হয়ে দাঁড়ায়।

মেধা পাচার বা ব্রেইন ড্রেইন

যে মেধাবী তরুণটি দেশে তার যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন পান না, তিনি স্বভাবতই বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেন। উচ্চশিক্ষার নাম করে বা স্কলারশিপ নিয়ে দেশের সেরা মেধাবীরা ইউরোপ, আমেরিকা বা কানাডায় চলে যাচ্ছেন এবং সেখানেই স্থায়ী হচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, দেশে থাকলে তাদের ভাগ্যে জুটবে বেকারত্বের গ্লানি। মেধা পাচারের এই ভয়াবহতার কারণে আমাদের দেশ তার সবচেয়ে মূল্যবান মানবসম্পদ হারাচ্ছে।

পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা, অপরাধ ও মাদক

একজন বেকার তরুণের পকেটে টাকা থাকে না, কিন্তু তার অনেক প্রয়োজন থাকে। অভাবের তাড়নায় এবং হতাশা ভুলতে অনেক তরুণ খুব সহজেই মাদকের ভয়াল থাবায় আটকে পড়ছেন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তারা জড়িয়ে পড়ছেন চুরি, ছিনতাই বা চাঁদাবাজির মতো নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। একটি সমাজের তরুণরা যখন বিপথগামী হয়, তখন সেই সমাজে পারিবারিক ভাঙন ও সামাজিক অস্থিরতা মারাত্মক আকার ধারণ করে।

এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী?

শিক্ষিত বেকারত্বের এই অভিশাপ থেকে রাতারাতি মুক্তি পাওয়া হয়তো সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র, সমাজ ও তরুণ সমাজ—সবাইকে কিছু কার্যকর এবং সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই।

শিক্ষাব্যবস্থার যুগোপযোগী সংস্কার

মুখস্থবিদ্যাকে পুরোপুরি বাতিল করে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। শিল্পের বা বাজারের কী ধরনের কর্মী প্রয়োজন, তা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম বা সিলেবাস তৈরি করতে হবে। সাধারণ ডিগ্রির (যেমন- বাংলা, ইতিহাস বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান) সিট কমিয়ে যুগোপযোগী বিষয়গুলোতে জোর দিতে হবে, যাতে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষার্থীদের বসে থাকতে না হয়।

কারিগরি ও আইটি (IT) শিক্ষার প্রসার

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তির বিশ্ব। আমাদের তরুণদের সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় (Vocational Training) দক্ষ করে তুলতে হবে। আইটি, ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং কোডিংয়ের মতো বিষয়গুলোতে তরুণদের হাতে-কলমে কাজ শেখাতে হবে। যাতে পড়াশোনা শেষ করে তারা অন্যের দরজায় চাকরির জন্য না ঘুরে, নিজেরাই ঘরে বসে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের কাজ করতে পারেন।

উদ্যোক্তা তৈরিতে সহজ অর্থায়ন ও সহায়তা

সবাইকে যে চাকরিজীবী হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তরুণদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। তাদের “চাকরিপ্রার্থী” না হয়ে “চাকরিদাতা” বা উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। তবে শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, রাষ্ট্রকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে, বিনা জামানতে এবং স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে। ব্যবসা করার ক্ষেত্রে লাইসেন্স পাওয়ার হয়রানি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা

সব ধরনের সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং মেধাভিত্তিক করতে হবে। ঘুষ বা তদবিরের সংস্কৃতি থেকে সমাজকে বের করে আনতে হবে, যাতে মেধাবীরা তাদের যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন পান এবং তরুণদের মাঝে আস্থার জায়গাটি আবার ফিরে আসে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় জাতীয় সংকটগুলোর একটি। যে তরুণদের অদম্য শক্তি আর মেধা দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাওয়ার কথা, তারা আজ বেকারত্বের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছেন। বাবা-মায়ের জমানো টাকা খরচ করে অর্জিত সার্টিফিকেট যখন চাকরি দিতে পারে না, তখন সেই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

আমরা চাইলেই রাতারাতি সবার হাতে চাকরি তুলে দিতে পারব না, কিন্তু আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলাতে পারি, দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা গড়তে পারি এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার পথটি সহজ করে দিতে পারি। আমাদের মনে রাখতে হবে, তরুণ সমাজ একটি দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে যদি আমরা কর্মমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে না পারি, তবে দেশের মেগা প্রজেক্ট বা বড় বড় উন্নয়ন কোনো কাজেই আসবে না। বেকার তরুণদের দীর্ঘশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো দেশ কখনো সত্যিকারের উন্নত দেশ হতে পারে না। তাই এখনই সময় জেগে ওঠার, বেকারত্বের এই অভিশাপ থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করে একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ নির্মাণ করার।


সম্পর্কিত নিবন্ধ