ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি-এর একটি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু করেছে সরকার। তৃণমূল পর্যায় থেকে ভালো খেলোয়াড় তুলে আনার লক্ষ্যেই মূলত সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। সোমবার বিকেলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সরাসরি শৈলকুপায় এসে এই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত স্থানটি ঘুরে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং ক্রীড়াপ্রেমীরা এমন একটি উন্নত ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের স্বপ্ন দেখছিলেন। এবার তাদের সেই স্বপ্ন সত্যিই পূরণ হতে চলেছে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ঠিক পাশেই অবস্থিত দুধসর আবাসন প্রকল্প এলাকায় যান। তিনি সেখানে বেশ কিছুটা সময় কাটান এবং প্রস্তাবিত জায়গার চারপাশ ভালোভাবে ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি এই প্রকল্পের কারিগরি দিক, মাটির অবস্থা ও উপযোগিতা নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে খোলামেলা কথা বলেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে এই জায়গাটি অত্যন্ত চমৎকার একটি অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কের ঠিক পাশে হওয়ায় কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়রা খুব সহজেই এখানে যাতায়াত করতে পারবেন।
জায়গাটি পরিদর্শন করার পর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উপস্থিত সবার সামনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে লুকিয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে এই আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো দারুণ কাজ করে। বর্তমানে আমাদের জাতীয় দলগুলোতে খেলা প্রায় ৭০% থেকে ৮০% ভালো মানের খেলোয়াড় গ্রাম থেকেই উঠে আসেন। শৈলকুপায় এই কেন্দ্রটি তৈরি হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নতুন প্রতিভারা খুব সহজেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তারা ঢাকা বা বড় শহরে না গিয়েও বাড়ির কাছে উন্নত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।
সরকার বর্তমানে দেশের ক্রীড়া খাতকে ঢেলে সাজাতে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করছে। আধুনিক এই বিকেএসপি কেন্দ্রটি তৈরি করতে প্রায় ২ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার ($) বা কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই বিশাল বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি সাফল্য ছিনিয়ে আনা। তরুণরা যদি খেলাধুলার মতো সঠিক পথে থাকে, তবে সমাজ থেকে অন্তত ৪০% অপরাধ ও মাদকাসক্তি এমনিতেই কমে যাবে। তাই এই প্রকল্প এলাকার সামাজিক পরিবেশও বদলে দেবে।
প্রতিমন্ত্রীর এই সরকারি সফরে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তার সাথে ছিলেন। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ প্রশাসক এম. এ মজিদ সেখানে উপস্থিত থেকে প্রতিমন্ত্রীকে জায়গার ম্যাপ ও নানা তথ্য দিয়ে সাহায্য করেন। তাদের সাথে আরও ছিলেন শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. খলিলুর রহমান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসাইন মোল্লাও এই পরিদর্শনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ সরকারের এই চমৎকার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, শৈলকুপায় বিকেএসপি স্থাপিত হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলার দক্ষতা ১০০% বাড়বে। একই সাথে এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতেও দারুণ গতি আসবে, অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য এখন শুধু জমি অধিগ্রহণের কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। এলাকার মানুষ গভীরভাবে আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করে মূল ভবনের কাজ শুরু করবে।
















