শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাদারিত্ব যেকোনো আদর্শ পুলিশ বাহিনীর মূল চালিকাশক্তি। বাহিনীর
সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা এবং মানসিক দৃঢ়তা অটুট রাখতে নিয়মিত অনুশীলনের কোনো
বিকল্প নেই। এই ধারাবাহিকতা ও কর্মস্পৃহা ধরে রাখতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ
আজ বুধবার, ২৯ এপ্রিল সকালে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও চমৎকার ‘সাপ্তাহিক মাস্টার
প্যারেড’ আয়োজন করেছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ লাইন্স প্যারেড
গ্রাউন্ডে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই প্যারেড সম্পন্ন হয়।
জেলা পুলিশের সব ইউনিটের ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্সরা বিপুল
উৎসাহ নিয়ে এই মাস্টার প্যারেডে অংশ নেন। জনগণের জানমালের শতভাগ নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ১০০% প্রস্তুত রাখার জন্যই
মূলত প্রতি সপ্তাহে এমন প্যারেডের আয়োজন করে জেলা পুলিশ।
সকাল ঠিক ৮টা বাজার সাথে সাথে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা জেলার
সুযোগ্য পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি অভিবাদন মঞ্চে
দাঁড়িয়ে অত্যন্ত গর্বের সাথে কুচকাওয়াজের সালামি গ্রহণ করেন। সালামি
গ্রহণ শেষে তিনি প্যারেড অধিনায়ককে সাথে নিয়ে সুসজ্জিত কন্টিনজেন্টগুলো
ঘুরে ঘুরে নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করেন। এবারের এই আকর্ষণীয় প্যারেডে অধিনায়কের
মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে পালন করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিনহাজ-উল-ইসলাম। তার বলিষ্ঠ ও সুদক্ষ
নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা নিখুঁতভাবে প্যারেড প্রদর্শন করেন, যা
উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
প্যারেড পরিদর্শন করার সময় পুলিশ সুপার অংশগ্রহণকারী প্রতিটি সদস্যের পোশাক-পরিচ্ছদ
বা টার্ন আউট, শারীরিক ফিটনেস এবং প্যারেডের শৈল্পিক দক্ষতা খুব গুরুত্বের সাথে
পর্যবেক্ষণ করেন। সদস্যদের সুশৃঙ্খল উপস্থিতি ও দারুণ শারীরিক সক্ষমতা দেখে
তিনি বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেন। পুলিশের চাকরি মানেই দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চরম মানসিক চাপ
ও শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এমন প্যারেড ও
শরীরচর্চা করলে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি প্রায়
৪০% থেকে ৪৫% পর্যন্ত কমে যায়। যারা প্যারেডে সবচেয়ে ভালো টার্ন আউট ও
পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, পুলিশ সুপার নিজ হাতে সেই সেরা অফিসার ও
ফোর্সদের জিএস (গুড সার্ভিসেস) মার্ক এবং নগদ অর্থ পুরস্কার দেন। সম্মানসূচক এই নগদ
অর্থ হয়তো ১০ থেকে ২০ (ডলার) বা সমপরিমাণ টাকার সমান, কিন্তু বাহিনীর সদস্যদের কাছে
এই স্বীকৃতি ও সম্মানের মূল্য অনেক বেশি।
পুরস্কার দেওয়ার পর পুলিশ সুপার উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কাজের স্বীকৃতি
হিসেবে এমন পুরস্কার সদস্যদের মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং কর্মস্পৃহা কয়েক গুণ
বাড়িয়ে দেয়। প্যারেডের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশ সুপার সব সদস্যের উদ্দেশে বেশ
কিছু দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি তার বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক
(আইজিপি) এবং খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মহোদয়ের দেওয়া সাম্প্রতিক নির্দেশনাগুলো
সবার সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে
পুলিশকে আরও বেশি জনবান্ধব হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার দৃঢ়কণ্ঠে বলেন,
জনগণকে খুব দ্রুত ও সঠিক আইনি সেবা দেওয়াই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। শৃঙ্খলা
হচ্ছে পুলিশের প্রাণ। তাই ডিউটি পালনের সময় কোনোভাবেই সামান্যতম অলসতা বা শিথিলতা
দেখানো যাবে না। তিনি আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীরা এখন অনেক বেশি
চতুর। তাই অপরাধ দমনে পুলিশকে এখন প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক স্মার্ট পুলিশিং
ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে,
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে সমাজে অপরাধের হার অন্তত
৫০% থেকে ৬০% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকারও স্মার্ট পুলিশ গড়তে
প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ($) খরচ করে বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করছে।
আজকের এই মাস্টার প্যারেডে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বিভিন্ন
ইউনিটের ইনচার্জরা সেখানে হাজির থেকে পুরো আয়োজনটি সফল করেন। বিপুলসংখ্যক সাধারণ
পুলিশ সদস্যও অত্যন্ত শৃঙ্খলার সাথে এই প্যারেডে অংশ নেন। চমৎকার এই আয়োজনটি
প্রমাণ করে যে, চুয়াডাঙ্গা জেলার যেকোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে
এবং সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
















