রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল বর্তমানে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বাংলাদেশের অর্থনীতির কথা উঠলেই সবার আগে দুটি বিষয়ের নাম আমাদের মাথায় আসে—একটি
হলো তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টস শিল্প, আর অন্যটি হলো প্রবাসী আয় বা
রেমিট্যান্স। প্রতিদিন হাজার হাজার তরুণ নিজের পরিবার, আপনজন
এবং প্রিয় মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমাচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা
মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে। উদ্দেশ্য একটাই—একটু ভালো থাকা এবং
পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে তারা যে টাকাটা দেশে
পাঠান, অর্থনীতিবিদদের ভাষায় তাকেই আমরা বলি ‘রেমিট্যান্স’।

গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে
যখন অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিল, তখন আমাদের দেশের অর্থনীতিও চরম বিপাকে
পড়েছিল। ডলারের তীব্র সংকট, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার
রিজার্ভ কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে এই প্রবাসী আয়ই আমাদের সবচেয়ে বড়
রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেছে। প্রবাসীদের পাঠানো ডলারের ওপর ভর করেই
আমাদের অর্থনীতি কোনোমতে টিকে আছে। কিন্তু এখানে একটি খুব বড় এবং জরুরি প্রশ্ন
সামনে এসে দাঁড়ায়। একটি দেশের অর্থনীতি যখন এত গভীরভাবে শুধু রেমিট্যান্সের
ওপর নির্ভর করে, তখন সেই অর্থনীতি কি আসলেই স্থিতিশীল? “রেমিট্যান্স নির্ভর
অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল বর্তমানে”—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, প্রবাসীদের কাজের ধরন এবং আমাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক
কাঠামোর দিকে খুব গভীরভাবে তাকাতে হবে। আজকের এই লেখায় আমরা সহজ ভাষায়
বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করব, রেমিট্যান্সের ওপর আমাদের এই অতিরিক্ত
নির্ভরতা আশীর্বাদ নাকি ভবিষ্যৎ কোনো বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

রেমিট্যান্স: আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণশক্তি

রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিতে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা বুঝতে
হলে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন এবং দেশের বৃহত্তর অর্থনীতির দিকে একটু নজর দিতে
হবে। এটি শুধু কিছু বৈদেশিক মুদ্রা নয়, এটি আমাদের টিকে থাকার অন্যতম প্রধান
হাতিয়ার।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আমদানি ব্যয় মেটানো

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে জিনিসগুলো ব্যবহার করি, তার অনেক কিছুই আমাদের বিদেশ থেকে
কিনে আনতে হয় বা আমদানি করতে হয়। জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার, শিল্পের কাঁচামাল
থেকে শুরু করে চাল, গম, ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আমাদের
বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়। এই ডলার আমরা কোথায় পাই? আমরা যা
রপ্তানি করি, তা দিয়ে এই বিশাল খরচের পুরোটা মেটানো সম্ভব হয় না। এই
ঘাটতি পূরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।
প্রবাসীরা যখন দেশে ডলার পাঠান, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার
রিজার্ভ বাড়ে এবং সরকার সেই ডলার দিয়ে বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আনতে
পারে। যদি রেমিট্যান্স আসা হঠাৎ কমে যায়, তবে দেশে তেল-গ্যাসের হাহাকার শুরু
হবে এবং জিনিসপত্রের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখা

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

রেমিট্যান্সের সবচেয়ে সুন্দর এবং দৃশ্যমান প্রভাবটি পড়ে আমাদের গ্রামের অর্থনীতিতে।
যে পরিবারের অন্তত একজন সদস্য বিদেশে আছেন, সেই পরিবারের জীবনযাত্রার মান অনেক
উন্নত। প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় গ্রামে পাকা বাড়ি তৈরি হচ্ছে, ছেলেমেয়েরা
ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, পরিবারের মানুষ ভালো চিকিৎসা পাচ্ছে। এছাড়া
প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় গ্রামে অনেক ছোট ছোট ব্যবসা গড়ে উঠছে। কেউ
হয়তো একটি মুদি দোকান দিচ্ছেন, কেউ পোলট্রি খামার করছেন, আবার কেউ অটোরিকশা কিনে
চালাচ্ছেন। অর্থাৎ, রেমিট্যান্স শুধু একটি নির্দিষ্ট পরিবারকে নয়, বরং পুরো
গ্রামের অর্থনীতিকে সচল ও গতিশীল করে তুলছে।

বর্তমান বাস্তবতায় রেমিট্যান্স নির্ভরতার ঝুঁকি

রেমিট্যান্স আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, এই কথা যেমন সত্যি, তেমনি শুধু রেমিট্যান্সের
ওপর ভরসা করে বসে থাকাটা যে কতটা ভয়ের, সেটাও আমাদের বর্তমান বাস্তবতায় উপলব্ধি
করতে হবে। একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি কখনো বাইরের দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে
পারে না।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনীতি

আমাদের প্রবাসীদের একটি বিশাল অংশ কাজ করেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে, যেমন—সৌদি
আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার বা ওমানে। এই দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত তেলের
ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি কখনো তেলের দাম খুব কমে যায়, তখন ওই
দেশগুলোতে উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমাদের শ্রমিকরা কাজ হারান এবং
তাদের দেশে ফিরে আসতে হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা
দেখা দিলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের রেমিট্যান্সের ওপর। যে আয় আমাদের নিজের
দেশের ভেতরে তৈরি হচ্ছে না, বরং অন্য দেশের মর্জির ওপর নির্ভর করছে, তাকে
কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল অর্থনীতির ভিত্তি বলা যায় না।

অদক্ষ শ্রমিকের আধিক্য এবং কম মজুরি

আমরা প্রতি বছর লাখ লাখ শ্রমিক বিদেশে পাঠাই ঠিকই, কিন্তু তাদের বেশিরভাগই অদক্ষ বা
আধা-দক্ষ। তারা মূলত ক্লিনার, নির্মাণ শ্রমিক, বা কৃষিকাজ করার জন্য যান। ফলে তারা
বেতন পান খুবই সামান্য। যদি আমরা পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই, দেখব ভারত বা
ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো আমাদের চেয়ে অনেক কম মানুষ বিদেশে
পাঠিয়েও আমাদের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রেমিট্যান্স আয় করে। কারণ তারা
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স, আইটি বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ টেকনিশিয়ান পাঠায়। আমাদের
অদক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় এবং হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও
তারা খুব বেশি টাকা জমাতে পারেন না। ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এই
অদক্ষ শ্রমিকদের কাজের সুযোগ আরও কমে যাবে, যা আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহের
জন্য বড় একটি অশনিসংকেত।

হুন্ডি ও অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা

রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ দেশে আসে হুন্ডি বা অবৈধ পথে। প্রবাসীরা কেন হুন্ডি
করেন? কারণ হুন্ডিতে ডলারের রেট ব্যাংকের চেয়ে একটু বেশি পাওয়া যায় এবং
টাকা খুব দ্রুত ও সহজে সরাসরি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে যায়। কিন্তু যখন
প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠান, তখন সেই ডলার আর বাংলাদেশ
ব্যাংকের রিজার্ভে জমা হয় না। ডলারটা বিদেশেই থেকে যায় এবং দেশের ভেতরে
হুন্ডি ব্যবসায়ীরা টাকায় লেনদেন সম্পন্ন করে। এর ফলে দেশে ডলারের তীব্র
সংকট দেখা দেয়, যা আমরা সম্প্রতি খুব ভয়াবহভাবে দেখেছি। হুন্ডির কারণে
সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি পাচারকারীরা এই ডলার ব্যবহার করে দেশের
টাকা বিদেশে পাচার করার সুযোগ পায়। তাই রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরতা থাকলেও,
পুরো টাকাটা ব্যাংকিং চ্যানেলে না আসা পর্যন্ত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল বলা
যায় না।

রেমিট্যান্স নির্ভরতা কি সত্যিই একটি স্থিতিশীল কাঠামো?

অর্থনীতিবিদরা সব সময় বলেন, “ডু নট পুট অল ইউর এগস ইন ওয়ান বাস্কেট” বা সব ডিম এক
ঝুড়িতে রাখা উচিত নয়। আমাদের অর্থনীতি ঠিক এই ভুলটাই করছে।

পরনির্ভরশীলতার বিপদ ও একমুখী অর্থনীতি

আমাদের অর্থনীতির মূলত দুটি খুঁটি—গার্মেন্টস এবং রেমিট্যান্স। এক পায়ের বা দুই
পায়ের ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টেবিল যেমন যেকোনো সময় উল্টে যেতে
পারে, তেমনি আমাদের অর্থনীতিও যেকোনো বড় বৈশ্বিক ধাক্কায় কেঁপে উঠতে পারে।
করোনা মহামারির সময় যখন সারা বিশ্বে লকডাউন চলছিল, তখন আমরা দেখেছি প্রবাসীরা
কতটা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। অনেককে চাকরি হারিয়ে খালি হাতে দেশে ফিরতে
হয়েছিল। একটি স্বাধীন দেশের অর্থনীতি যদি এভাবে বাইরের দেশের চাকরির
বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়, তবে তাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বলার কোনো সুযোগ নেই।
সত্যিকারের স্থিতিশীল অর্থনীতি হতে হলে দেশের ভেতরে শিল্পকারখানা বাড়াতে হবে এবং
নিজস্ব উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে হবে।

অন্যান্য খাতের অবহেলা

রেমিট্যান্স সহজে পাওয়া যায় বলে আমরা অনেক সময় দেশের অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের
দিকে মনোযোগ দিই না। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি
(IT), ওষুধ শিল্প বা পর্যটন খাতের মতো অনেক জায়গা আছে, যেখান থেকে আমরা বিপুল
পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো ডলারের
ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে আমাদের রপ্তানি বহুমুখীকরণ বা অন্যান্য খাতকে বড়
করার তাগিদ অনেক কম। এটি একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড়
ধরনের বাধা।

রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল রাখতে করণীয়

রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি, বর্তমানে যে রেমিট্যান্স
আসছে সেটিকে আরও টেকসই ও স্থিতিশীল করতে আমাদের কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ
নিতে হবে।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও নতুন বাজার খোঁজা

আমাদের অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিদেশে পাঠানোর আগে
তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, ভাষা শিক্ষা এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা
করতে হবে। একজন দক্ষ কর্মী তিনজন অদক্ষ কর্মীর সমান রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন।
এছাড়া শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। জাপান, দক্ষিণ
কোরিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় প্রচুর দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন
রয়েছে। আমাদের সরকারের উচিত কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে ওইসব দেশের
চাহিদানুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।

বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহ ও সুবিধা প্রদান

প্রবাসীরা যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বা বৈধ পথে টাকা পাঠান, সে জন্য তাদের আরও বেশি
সুবিধা দিতে হবে। বর্তমানে সরকার আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে, যা একটি ভালো
উদ্যোগ। কিন্তু শুধু প্রণোদনা দিলেই হবে না, ব্যাংকিং সেবা আরও সহজ করতে
হবে। প্রবাসীরা যেন তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই খুব সহজে দেশে টাকা পাঠাতে
পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, বিশেষ করে
বিমানবন্দরে তাদের যে অসম্মানের শিকার হতে হয়, তা শক্ত হাতে দমন
করতে হবে। প্রবাসীরা যদি দেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সম্মান পান, তবে তারা
নিজেরাই হুন্ডি বাদ দিয়ে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হবেন।

রেমিট্যান্সের উৎপাদনশীল ব্যবহার

প্রবাসীদের পাঠানো টাকার বেশিরভাগই খরচ হয়ে যায় জমি কেনা, বাড়ি বানানো বা
দৈনন্দিন(consumption) এর পেছনে। এই টাকা দিয়ে খুব বেশি
শিল্পকারখানা বা কর্মসংস্থান তৈরি হয় না। প্রবাসীদের জমানো টাকা কীভাবে
দেশের লাভজনক শিল্পে বিনিয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ বন্ড বা শেয়ার বাজারের সুযোগ সহজ করলে এই টাকা
দেশের অবকাঠামো ও শিল্পায়নে কাজে লাগবে, যা অর্থনীতিকে সত্যিকারের স্থিতিশীলতা
দেবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের আজকের যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক উন্নয়ন, তার
পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমাদের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের। তাদের ঘামে ভেজা
টাকায় আমাদের দেশের চাকা ঘুরছে, এটা চরম সত্য। কিন্তু “রেমিট্যান্স নির্ভর
অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল বর্তমানে”—এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের একটু
চিন্তিত হতেই হয়। বর্তমান বিশ্বায়ন, যুদ্ধবিগ্রহ, ডলারের সংকট এবং প্রযুক্তির
দ্রুত পরিবর্তনের যুগে শুধু রেমিট্যান্সের ওপর ভরসা করে টিকে থাকাটা একটি বিশাল
ঝুঁকি।

রেমিট্যান্স আমাদের জন্য আশীর্বাদ, তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। একটি
দেশকে যদি সত্যিকার অর্থে উন্নত ও স্থিতিশীল হতে হয়, তবে তাকে নিজের পায়ে
দাঁড়াতে হবে। রেমিট্যান্সের পাশাপাশি আমাদের দেশের ভেতরে উৎপাদন বাড়াতে
হবে, রপ্তানির নতুন নতুন খাত তৈরি করতে হবে এবং পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে।
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থকে শুধু ভোগবিলাসে বা নিত্যদিনের খরচ মেটানোর কাজে
ব্যবহার না করে, যদি আমরা দেশের দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগাতে
পারি, তবেই আমাদের অর্থনীতি একটি মজবুত ও স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।
প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে
শক্তিশালী করার এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ