যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম মুর্তজার সাথে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ দুপুরে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টে এই সভার আয়োজন করা হয়। ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রবাসী কমিউনিটি’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রবাসীদের নানা সমস্যা এবং দেশের রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সুপরিচিত সংগঠক আহমেদ সোহেল এবং রাসিক মালিক যৌথভাবে এই চমৎকার সভার আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সব গণ-আন্দোলনে যেসব বীর শহীদ আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মূল আলোচনা শুরু হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা প্রবাসীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং কনস্যুলেট এখন অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত ও উন্নত সেবা দিচ্ছে। প্রবাসীদের কাছ থেকে কোনো সমস্যার কথা বা অভিযোগ পেলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধানের চেষ্টা করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যেকোনো সংবাদের তথ্য যাচাই করার জন্য সংবাদকর্মীরা যেকোনো সময় তাকে সরাসরি ফোন করতে পারেন। তিনি সব সময় সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছেন।
দূতাবাসের সেবা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগে দূতাবাসের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত একজনের ব্যবহার নিয়ে প্রবাসীদের অনেক অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি বড় অভিযোগ হলো—দূতাবাসে ফোন করলে কেউ তা রিসিভ করেন না। এই বিষয়ে প্রেস মিনিস্টার বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, দূতাবাসে প্রতি মিনিটে গড়ে অন্তত ৪টি করে ফোন কল আসে। একসঙ্গে এত কল রিসিভ করা সত্যিই কঠিন। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এখন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও গোলাম মুর্তজা কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনবরত নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। এই মিথ্যা প্রচারণার একটি বড় প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং সেখানকার মূলধারার রাজনীতিবিদদের ওপর পড়ছে। একজন প্রেস মিনিস্টার হিসেবে তাকে প্রতিনিয়ত এই ধরনের অপপ্রচারের শক্ত জবাব দিতে হচ্ছে এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নিরলস কাজ করতে হচ্ছে।
এই মতবিনিময় সভায় নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন আইটি বিশেষজ্ঞ মিজান চৌধুরী, নিউ হরাইজন লায়নস ক্লাবের ডিরেক্টর ও সমাজসেবক আমির হোসেন কামাল, বাপসনিউজ এডিটর ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট জে মোল্লা সানী এবং নিউজ পোর্টাল নিউইয়র্ক কাগজের সম্পাদক আফরোজা ইসলামসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আয়োজক সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ সোহেল উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজাসহ সব অতিথিকে রকমারি খাবারে দুপুরের ভোজে আপ্যায়ন করেন। প্রবাসীরা আশা করছেন, নতুন প্রেস মিনিস্টারের আন্তরিকতায় আগামীতে দূতাবাসের সেবার মান আরও উন্নত হবে।
















