ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

একটি দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি বা হৃৎপিণ্ড বলা হয় ব্যাংকিং খাতকে।
মানুষের শরীরের হৃৎপিণ্ড যেমন সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে শরীরকে সচল রাখে,
ঠিক তেমনি ব্যাংকগুলো দেশের আনাচে-কানাচে থাকা মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলো
সংগ্রহ করে তা বড় বড় শিল্প, ব্যবসা ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ করে। এই প্রক্রিয়ার
মাধ্যমেই দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়
এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। সাধারণ মানুষ তাদের জীবনের কষ্টার্জিত
জমানো টাকা সম্পূর্ণ বিশ্বাসের ওপর ভর করে ব্যাংকে জমা রাখেন। কিন্তু কী হবে যদি
এই আস্থার জায়গাতেই ফাটল ধরে?

গত কয়েক বছর ধরে খবরের কাগজ বা টেলিভিশনের পর্দা খুললেই ব্যাংকিং খাতের নানা
কেলেঙ্কারির খবর আমাদের চোখে পড়ে। হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ
জালিয়াতি, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা বের করে নেওয়া, অর্থ পাচার
এবং মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণের খবরে সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও আস্থাহীনতা
তৈরি হয়েছে। সাধারণ একজন মানুষ যখন ব্যাংক থেকে লাখ টাকার একটি ক্ষুদ্র ঋণ নিতে
যান, তখন তাকে নিজের জমিজমা বন্ধক রাখা থেকে শুরু করে হাজারো নিয়মকানুন পার হতে হয়।
অথচ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি কোনো যোগ্য জামানত ছাড়াই ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে
হাজার কোটি টাকা অনায়াসে নিয়ে যাচ্ছেন এবং সেই টাকা আর ফেরত দিচ্ছেন না।
বছরের পর বছর ধরে এই লুটপাট চললেও তা থামানো যাচ্ছে না। বর্তমান বাস্তবতায়
দাঁড়িয়ে আমাদের মনে একটি অত্যন্ত জরুরি প্রশ্ন বারবার উঁকি
দেয়—ব্যাংকিং খাতে এই পাহাড়সম অনিয়ম কেন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে
আসছে না? আজ আমরা সাধারণ মানুষের ভাষায় এই প্রশ্নটির গভীরে যাওয়ার চেষ্টা
করব।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

বর্তমান ব্যাংকিং খাতের রূঢ় চালচিত্র

ব্যাংকিং খাতে কেন অনিয়ম থামছে না, তা বোঝার আগে আমাদের বর্তমান ব্যাংকিং খাতের আসল
অবস্থাটা একটু পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। বাইরে থেকে ব্যাংকগুলোর বড় বড় এসি করা
চকচকে বিল্ডিং দেখলে মনে হয় সব খুব ভালো চলছে, কিন্তু ভেতরের অবস্থা
অনেকটাই অন্তঃসারশূন্য।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

খেলাপি ঋণের এভারেস্ট

আমাদের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় ক্যানসারের নাম হলো ‘খেলাপি ঋণ’ (Non-Performing
Loans বা NPL)। সরকারি হিসাব মতেই বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ
কোটি টাকার ওপরে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের মতে, এর সাথে যদি অবলোপন করা ঋণ (যে
ঋণগুলো খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে), আদালতের আদেশে আটকে থাকা ঋণ এবং
বারবার পুনঃতফসিল করা ঋণ যোগ করা হয়, তবে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ তিন
থেকে চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এটি আমাদের জাতীয় বাজেটের প্রায় অর্ধেক! এই
বিপুল পরিমাণ টাকা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পকেটে আটকে আছে, যা ব্যাংকে আর ফেরত
আসছে না।

তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতা

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের নগদ টাকার ওপর। যখন ব্যাংক তার
দেওয়া ঋণ ফেরত পায় না, তখন তার কাছে নতুন করে ঋণ দেওয়ার মতো বা আমানতকারীদের টাকা
ফেরত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নগদ টাকা (Liquidity) থাকে না। দেশের অনেক পরিচিত ও
বড় ব্যাংক, বিশেষ করে কিছু ইসলামী ব্যাংক ও সরকারি ব্যাংক বর্তমানে চরম তারল্য
সংকটে ভুগছে। অনেক গ্রাহক চাইলেও তাদের জমানো টাকা একবারে তুলতে পারছেন না। এতে
সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই ব্যাংক থেকে
টাকা তুলে নিজের কাছে বা অন্য কোথাও সরিয়ে রাখছেন।

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না?

এই যে দিনের পর দিন ব্যাংকিং খাতে এত বড় বড় জালিয়াতি হচ্ছে, হাজার কোটি টাকা হাওয়া
হয়ে যাচ্ছে, এগুলো কেন থামানো যাচ্ছে না? এর পেছনে কোনো একটি একক কারণ নেই, বরং
অনেকগুলো কাঠামোগত দুর্বলতা ও মানসিকতা এর জন্য দায়ী।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতি

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম বন্ধ না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো রাজনৈতিক প্রভাব ও নগ্ন
হস্তক্ষেপ। যারা ব্যাংক থেকে বড় বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছেন
না, তাদের বেশিরভাগই কোনো না কোনোভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকেন।
একটি ব্যাংকের সাধারণ ম্যানেজার বা এমডি (MD) চাইলেও এই প্রভাবশালী
রাজনৈতিক নেতাদের বা তাদের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীদের ঋণ দেওয়া থেকে
বিরত থাকতে পারেন না। আবার ঋণ খেলাপি হওয়ার পর যখন ব্যাংক টাকা আদায়ের জন্য
চাপ দেয়, তখন ওপর মহল থেকে ফোন আসে বা বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। যখন
রাজনীতির কাছে অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন ব্যাংকের নিয়মকানুন
শুধু সাধারণ মানুষের জন্যই বরাদ্দ থাকে, প্রভাবশালীদের জন্য নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের অভাব ও দুর্বল ভূমিকা

যেকোনো দেশের ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক হলো সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আমাদের
ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক)। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হলো সব ব্যাংকের
ওপর কড়া নজরদারি করা এবং কেউ নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তি দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে দেখা
যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সরকারের অর্থ
মন্ত্রণালয় বা প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের চাপে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক সময় এমন
সব নীতিমালা তৈরি করে, যা খেলাপিদের আরও সুবিধা দেয়। যেমন—মাত্র ২ শতাংশ ডাউন
পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা। যখন অভিভাবক নিজেই
অপরাধীদের প্রতি নমনীয় হয়ে যান বা চাপে পড়ে চোখ বন্ধ করে রাখেন, তখন সেই পরিবারে
বা খাতে অনিয়ম কখনোই বন্ধ হতে পারে না।

পর্ষদ বা বোর্ড সদস্যদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও ‘মিউচুয়াল লোন’

আমাদের দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মালিক বা বোর্ড অব ডিরেক্টরস যারা, তাদের ক্ষমতা
অসীম। অনেক ক্ষেত্রেই একটি ব্যাংকের মালিকানা নির্দিষ্ট কিছু পরিবারের হাতে
কুক্ষিগত হয়ে আছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে একই পরিবারের
একাধিক সদস্যকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাংকের পরিচালক পদে থাকার সুযোগ করে দেওয়া
হয়েছে।

এই পরিচালকরা নিজেদের মধ্যে এক অলিখিত ‘মিউচুয়াল লোন’ বা ‘পারস্পরিক ঋণ’ প্রথা চালু
করেছেন। এর মানে হলো—”তুমি আমার ব্যাংক থেকে তোমার নামে বা বেনামে ঋণ নাও, আমি কোনো
প্রশ্ন করব না; বিনিময়ে আমি তোমার ব্যাংক থেকে ঋণ নেব, তুমিও কোনো প্রশ্ন করবে না।”
যেহেতু পরিচালকরা সরাসরি নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন না, তাই তারা এই ঘুরপথে
এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের টাকা লুট করছেন। এই যোগসাজশ ভাঙা খুব কঠিন হয়ে
দাঁড়িয়েছে।

দুর্বল আইনি কাঠামো ও বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা

আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইনি কাঠামো বড় বড় ঋণখেলাপিদের জন্য এক ধরনের
রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। ব্যাংক যখন কোনো খেলাপির বিরুদ্ধে মামলা
করে বা অর্থঋণ আদালতে যায়, তখন সেই মামলা নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর, এমনকি
যুগ পার হয়ে যায়। ঋণখেলাপিরা খুব সহজেই উচ্চ আদালতে রিট (Writ) করে নিজেদের নাম
খেলাপি তালিকা থেকে সরিয়ে নেন। ফলে তারা নতুন করে আবার অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ
নেওয়ার সুযোগ পান এবং তাদের সামাজিকভাবে কোনো অপদস্থ হতে হয় না। আইনের এই
ফাঁকফোকর এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যান এবং তারা আরও
বড় অপরাধ করতে উৎসাহিত হন।

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি

আমাদের সমাজে এখন এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যে, “ব্যাংকের টাকা মানে হলো জনগণের
টাকা, আর জনগণের টাকা মানেই ফ্রি টাকা।” যারা ব্যবসার লোকসানের কারণে ঋণ দিতে পারেন
না, তাদের কথা আলাদা। কিন্তু আমাদের দেশে বেশিরভাগ ঋণখেলাপিই হলো ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’
(Willful Defaulters)। তারা ঋণ নেওয়ার আগেই ঠিক করে রাখেন যে এই টাকা তারা আর ফেরত
দেবেন না। এই টাকা দিয়ে তারা বিদেশে বাড়ি কেনেন, বেগম পাড়ায় সম্পদ গড়েন, অথবা
সেকেন্ড হোম তৈরি করেন। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর শাস্তি দেওয়ার বদলে
বারবার তাদের নানা রকম আর্থিক ছাড় দেয়, যা সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য চরম হতাশার কারণ হয়ে
দাঁড়ায়।

সাধারণ মানুষ ও অর্থনীতির ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব

ব্যাংকিং খাতের এই অনিয়ম শুধু ব্যাংকের বা সরকারের ক্ষতি করছে না, এটি দিন শেষে
সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি

ব্যাংক যখন খেলাপি ঋণের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ে, তখন তার আয় কমে যায়। সেই ক্ষতি
পুষিয়ে নিতে ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের আমানতের ওপর সুদের হার কমিয়ে
দেয় এবং নতুন ঋণের ওপর সুদের হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া সরকার যখন সরকারি
ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য জনগণের করের টাকা থেকে হাজার
হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, তখন সেই চাপ সাধারণ মানুষের ঘাড়েই এসে পড়ে। সরকার
অনেক সময় টাকা ছাপিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, যার ফলে বাজারে
টাকার সরবরাহ বেড়ে যায় এবং জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ে। বর্তমানের যে
আকাশছোঁয়া মূল্যস্ফীতি, তার পেছনে ব্যাংকিং খাতের এই লুটপাট অনেকাংশেই
দায়ী।

কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত

যখন হাজার হাজার কোটি টাকা গুটিকয়েক মানুষের পকেটে আটকে থাকে, তখন দেশের সত্যিকারের
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (SME) ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ পান না। নতুন
কলকারখানা তৈরি হয় না। আর কলকারখানা না হলে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয় না। লাখ
লাখ শিক্ষিত তরুণ বেকার হয়ে ঘুরে বেড়ায়। দেশের টাকা পাচার হয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায়
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও টান পড়ে, যা বর্তমানে আমাদের ডলার সংকটের অন্যতম
প্রধান কারণ।

উত্তরণের উপায় ও আমাদের করণীয়

এই খাদের কিনারা থেকে ব্যাংকিং খাতকে টেনে তুলতে হলে শুধু মুখে বড় বড় কথা বললে হবে
না, প্রয়োজন অত্যন্ত কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ।

প্রথমত, বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত করতে হবে। ভারতের
রিজার্ভ ব্যাংক (RBI) যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করে, বাংলাদেশ
ব্যাংককেও সেই ক্ষমতা দিতে হবে। তারা যেন প্রভাবশালীদের
রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কঠোর হাতে আইন প্রয়োগ করতে পারে, তা
নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই ক্যানসার সারানো অসম্ভব। সরকার ও রাজনৈতিক
দলগুলোকে শপথ নিতে হবে যে তারা কোনো ঋণখেলাপি বা ব্যাংক লুটেরাকে
আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না। দলের ভেতর থাকা এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে
রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে।

তৃতীয়ত, আইনি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। অর্থঋণ আদালতের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ের
মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে
বয়কট করতে হবে। তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং তাদের
স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোর আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন
করতে হবে।

চতুর্থত, ব্যাংক পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবারের আধিপত্য ভেঙে দিয়ে সৎ, যোগ্য
এবং পেশাদার ব্যাংকারদের সুযোগ দিতে হবে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন বা
করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ব্যাংকিং খাত হলো একটি দেশের অর্থনীতির আয়না। সেই আয়নায় যদি শুধু
লুটপাট, দুর্নীতি আর আস্থাহীনতার প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে, তবে সেই দেশের অর্থনৈতিক
ভবিষ্যৎ কখনোই সুরক্ষিত হতে পারে না। বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাতে যে
মাত্রায় অনিয়ম চলছে, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধিকে পেছন থেকে
টেনে ধরছে।

আমরা স্বপ্ন দেখি একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশের। কিন্তু যে দেশের ব্যাংকিং খাত
কিছু অসাধু ও ক্ষমতাবান মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে, সেই দেশ কখনোই
সত্যিকারের উন্নত হতে পারে না। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত
সঞ্চয়ের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। ব্যাংকিং খাতে সুশাসন
ফিরিয়ে আনা এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি আমাদের বাঁচার একমাত্র উপায়।
দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন সময়
হয়েছে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার। তবেই সাধারণ মানুষের হারানো
আস্থা ফিরে আসবে এবং আমাদের প্রিয় জন্মভূমি একটি শক্তিশালী অর্থনীতির ওপর ভর
করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ