ডিজিটাল অগ্রগতি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে দেশে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

এক যুগ আগের কথা একটু মনে করে দেখুন তো! ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য স্টেশনে ঘণ্টার
পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল দিতে গিয়ে ব্যাংকের সামনে
মানুষের ঘাম ঝরানো ভিড়, কিংবা দূরগ্রামে থাকা বাবা-মায়ের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য
মানি অর্ডারের ওপর নির্ভরশীলতা—এসব ছিল আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের খুব সাধারণ
দৃশ্য। কিন্তু আজকের দিনে এই দৃশ্যগুলো অনেকটাই বদলে গেছে। পকেটে থাকা একটি
স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট কানেকশন আমাদের জীবনকে করে তুলেছে অনেক সহজ ও
গতিশীল। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন থেকে শুরু করে আজকের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর
পথে হাঁটার এই যাত্রায় আমাদের অর্জন নেহায়েত কম নয়।

কিন্তু যখন আমরা এই ডিজিটাল অগ্রগতির চাদরটি একটু সরিয়ে ভেতরের দিকে তাকাই, তখন
আমাদের সামনে বেশ কিছু রূঢ় বাস্তবতা ফুটে ওঠে। প্রশ্ন জাগে, এই যে ডিজিটাল
অগ্রগতি, এটি আসলে বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে? শহরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে
আমরা ইন্টারনেটের যে সুফল ভোগ করছি, গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক বা প্রান্তিক মানুষ
কি সেই একই সুবিধা পাচ্ছেন? আমাদের তথ্যের নিরাপত্তা কতটা মজবুত? ইন্টারনেটের
ধীরগতি, চড়া দাম এবং ডিজিটাল বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো কি আমাদের এই
অগ্রগতিকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে না? বর্তমান প্রেক্ষাপটে
দাঁড়িয়ে ডিজিটাল অগ্রগতির দৃশ্যমান সাফল্য এবং এর পেছনের লুক্কায়িত
ঘাটতিগুলো নিয়ে আজ একটি বিস্তারিত ও সহজবোধ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

ডিজিটাল অগ্রগতির দৃশ্যমান সাফল্য ও অর্জন

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ডিজিটাল ব্যবস্থার যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা অস্বীকার
করার কোনো উপায় নেই। বেশ কিছু খাতে এই অগ্রগতি রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়ে
দিয়েছে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by hardwareanalytic.com.

মোবাইল ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি

ডিজিটাল অগ্রগতির সবচেয়ে বড় ও সফল উদাহরণ হলো আমাদের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস
(MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিং। বিকাশ, নগদ, রকেট-এর মতো সেবাগুলো দেশের মানুষের টাকা
লেনদেনের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে। আজ একজন রিকশাচালক তার সারাদিনের জমানো আয়
খুব সহজেই গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিতে পারছেন। কেনাকাটা,
মোবাইল রিচার্জ, স্কুলের বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে শ্রমিকদের বেতন—সবকিছুই
এখন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এটি দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে,
যাদের হয়তো ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্টই ছিল না, তাদের অর্থনীতির মূল স্রোতে যুক্ত
করেছে।

ই-কমার্স এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের উত্থান

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

আগে কেনাকাটা মানেই ছিল বাজারে গিয়ে দরদাম করা। কিন্তু ডিজিটাল অগ্রগতির ফলে
ই-কমার্স এবং এফ-কমার্স (ফেসবুক ভিত্তিক ব্যবসা) এখন ব্যাপক জনপ্রিয়।
বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি একটি বিশাল সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ঘরে বসেই
অনেক নারী এখন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হচ্ছেন। অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং বা
আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের লাখো তরুণ ঘরে বসেই বিদেশি কোম্পানির
কাজ করে ডলার আয় করছেন। ইন্টারনেট সুবিধা না থাকলে এই বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ
কোনোভাবেই তৈরি হতো না।

সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন

সরকারি অফিস মানেই ফাইলের পাহাড় আর দীর্ঘসূত্রিতা—এই ধারণাও কিছুটা হলেও ভাঙতে শুরু
করেছে। এখন জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন, পাসপোর্টের আবেদন, ড্রাইভিং
লাইসেন্স বা জমির পর্চা তোলার মতো অনেক কাজই অনলাইনে করা সম্ভব হচ্ছে। ‘ই-নথি’ চালু
হওয়ার কারণে সরকারি দপ্তরে ফাইলের কাজ দ্রুত হচ্ছে। ট্রেনের বা বাসের টিকিট কাটার
জন্য এখন আর স্টেশনে গিয়ে রাত জাগতে হয় না, অ্যাপের মাধ্যমেই টিকিট কাটা যায়।
এই ডিজিটালাইজেশন মানুষের সময় এবং শ্রম—দুটিই বাঁচিয়েছে।

ADVERTISEMENT
3rd party Ad. Not an offer or recommendation by dailyalo.com.

তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও সামাজিক যোগাযোগ

আজ দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষের হাতে স্মার্টফোন পৌঁছে গেছে। গ্রামের চায়ের দোকানে
বসেও মানুষ এখন ইউটিউবে দেশ-বিদেশের খবর দেখছেন, বিনোদন নিচ্ছেন। ফেসবুক,
হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর মতো অ্যাপগুলোর কারণে প্রবাসে থাকা প্রিয়জনের
সাথে ভিডিও কলে কথা বলা এখন একদম সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যের এই অবাধ
প্রবাহ মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে অনেক বড় ভূমিকা রাখছে।

বাস্তবতার উল্টোপিঠ: ঘাটতি ও চ্যালেঞ্জসমূহ

উপরের চিত্রগুলো দেখলে মনে হতে পারে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। কিন্তু এই অগ্রগতির
সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। বেশ কিছু জায়গায় বড় ধরনের গলদ ও ঘাটতি রয়ে
গেছে, যা ডিজিটাল অগ্রগতির আসল সুফল পাওয়ার পথে বড় বাধা।

ইন্টারনেটের ধীরগতি ও চড়া দাম

ডিজিটাল সেবার মূল চালিকাশক্তি হলো ইন্টারনেট। কিন্তু আমাদের দেশে ইন্টারনেটের গতি
ও মান নিয়ে মানুষের হতাশার শেষ নেই। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের
ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল ইন্টারনেটের গতি বেশ হতাশাজনক। কাগজে-কলমে
ফোর-জি (4G) সেবার কথা বলা হলেও, শহরের বাইরে বা একটু প্রত্যন্ত এলাকায় গেলে
টু-জি (2G) বা থ্রি-জি (3G) নেটওয়ার্কও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এর পাশাপাশি
ইন্টারনেটের চড়া দাম সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় বোঝা। ডেটা প্যাক
কেনা অনেকের জন্যই বেশ ব্যয়বহুল। মানসম্মত ও সুলভ মূল্যের ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে
না পারলে ডিজিটাল অগ্রগতি কখনোই পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে না।

চরম ডিজিটাল বৈষম্য (শহর বনাম গ্রাম)

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল মূলত শহরের উচ্চ ও মধ্যবিত্ত মানুষেরাই বেশি ভোগ করছেন।
কিন্তু গ্রামের প্রান্তিক মানুষ, দরিদ্র কৃষক বা দিনমজুররা এই সুবিধার অনেক
বাইরে রয়ে গেছেন। একটি ভালো মানের স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ কেনার সামর্থ্য এখনো
দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীর নেই। ফলে তারা বাধ্য হয়েই অনেক ডিজিটাল সেবা থেকে
বঞ্চিত হচ্ছেন। করোনা মহামারির সময় যখন স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল, তখন শহরের
ছেলেমেয়েরা অনলাইনে ক্লাস করেছে। কিন্তু গ্রামের সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা
ডিভাইসের অভাবে এবং ইন্টারনেটের অভাবে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছিল। এই ডিজিটাল
বৈষম্য আমাদের সমাজে ধনী-গরিবের ব্যবধানকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তার চরম অভাব

আমরা খুব সহজেই বিভিন্ন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, এনআইডি (NID)
নম্বর বা আঙুলের ছাপ দিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু এসব তথ্যের নিরাপত্তা কি আসলেই আছে?
গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার সরকারি ওয়েবসাইট থেকে লাখ লাখ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য
ফাঁসের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে, আমাদের সাইবার
নিরাপত্তা কতটা দুর্বল। এছাড়া ওটিপি (OTP) জালিয়াতি, বিকাশ
হ্যাকিং বা এটিএম (ATM) কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারকরা সাধারণ
মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল
লিটারেসি বা প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব থাকার কারণে তারা সহজেই প্রতারকদের
ফাঁদে পা দিচ্ছেন।

ই-কমার্সে প্রতারণা ও আস্থার সংকট

ডিজিটাল অগ্রগতির সুফল হিসেবে ই-কমার্স খাত বড় হলেও, এই খাতটি প্রতারকদের একটি বড়
আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ বা ধামাকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো অর্ধেক
দামে পণ্য দেওয়ার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ
করেছে। সঠিক মনিটরিং এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকার কারণে ডিজিটাল মাধ্যম
ব্যবহার করে এত বড় প্রতারণা করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে ই-কমার্সের ওপর থেকে অনেক
মানুষেরই আস্থা উঠে গেছে, যা প্রকৃত ও সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির
কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাজিক ও মানসিক প্রভাব: একটি নীরব মহামারি

ডিজিটাল অগ্রগতির শুধু অর্থনৈতিক বা কাঠামোগত চ্যালেঞ্জই নেই, এর একটি গভীর সামাজিক
ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও রয়েছে, যা আমাদের সমাজকে ভেতর থেকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

গুজব, অপতথ্য ও সামাজিক অস্থিরতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন খবরের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি
অপতথ্য (Misinformation) ও গুজব ছড়ানো হয়। খুব সাধারণ একটি মিথ্যা খবর বা
ভুয়া ছবি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেক সময় এর জেরে সমাজে বড় ধরনের
দাঙ্গা, ভাঙচুর বা ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে
কোনটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা তা যাচাই করার ক্ষমতা বা অভ্যাস না থাকায়,
তারা সহজেই গুজবের শিকার হচ্ছেন।

সাইবার বুলিং ও তরুণ সমাজের মানসিক অবক্ষয়

ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের কোনো প্রাইভেসি নেই। বিশেষ করে
নারীরা প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিং, ট্রোলিং বা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।
একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করলেই তাকে নিয়ে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা
হচ্ছে। অন্যদিকে, তরুণ ও শিশু-কিশোরেরা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে
স্মার্টফোন ও গেমিংয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের মাঠের খেলাধুলা বা বই
পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে, যার ফলে সমাজে এক ধরনের মানসিক অবসাদগ্রস্ত ও শারীরিকভাবে
দুর্বল প্রজন্মের জন্ম হচ্ছে।

টেকসই ও ফলপ্রসূ ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য করণীয়

ডিজিটাল অগ্রগতিকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থেই দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ফলপ্রসূ
করতে চাই, তবে শুধু বড় বড় কথার ফুলঝুরি দিয়ে কাজ হবে না। আমাদের বেশ কিছু
বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রথমত, ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে এবং গ্রাম থেকে
শহর—সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে। মোবাইল
অপারেটরগুলোর সেবার মান কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার জন্য শিক্ষার্থীদের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে
সহজ শর্তে বা ভর্তুকি দিয়ে স্মার্ট ডিভাইস বা ল্যাপটপ কেনার সুযোগ করে দিতে
হবে।

তৃতীয়ত, আমাদের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ শক্তিশালী করতে হবে।
নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য কঠোর ‘ডেটা প্রটেকশন
আইন’ করতে হবে এবং যারা তথ্য চুরি বা আর্থিক প্রতারণা করবে, তাদের দ্রুত
শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সর্বোপরি, সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা প্রযুক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে
হবে। স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে সব জায়গায় নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, পাসওয়ার্ড
সুরক্ষিত রাখা এবং গুজব যাচাই করার কৌশল শেখাতে হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে ডিজিটাল অগ্রগতি কোনো রূপকথার গল্প নয়, এটি একটি
দৃশ্যমান বাস্তবতা। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইনে সরকারি সেবা পাওয়া বা
ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো বিষয়গুলো আমাদের দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সত্যিকার অর্থেই
কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। কিন্তু “এই অগ্রগতি কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে?”—এই প্রশ্নের
উত্তরে আমাদের একটু থামতে হয়। কারণ, যতক্ষণ পর্যন্ত ইন্টারনেটের ধীরগতি
ও চড়া দাম থাকবে, যতক্ষণ গ্রামের মানুষ ডিজিটাল বৈষম্যের শিকার হবে এবং যতক্ষণ
সাইবার প্রতারক ও হ্যাকাররা সাধারণ মানুষের টাকা বা তথ্য লুটে নেওয়ার
সুযোগ পাবে, ততক্ষণ এই অগ্রগতির সুফল পরিপূর্ণভাবে পাওয়া সম্ভব নয়।

প্রযুক্তি হলো একটি হাতিয়ার। এই হাতিয়ার দিয়ে আমরা যেমন একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে
পারি, তেমনি সঠিক নিরাপত্তার অভাবে এটি আমাদের জন্য বিপদের কারণও হতে পারে।
ডিজিটাল অগ্রগতির এই চাকচিক্যের নিচে যে অন্ধকার দিকগুলো রয়ে গেছে, তা
অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তাই এখন সময় এসেছে শুধু সেবার পরিধি না
বাড়িয়ে, সেবার মান এবং নিরাপত্তার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার। রাষ্ট্র,
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রযুক্তিগত
দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে তবেই দেশের এই ডিজিটাল অগ্রগতি সত্যিকার
অর্থে প্রতিটি নাগরিকের জীবনে একটি ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম
হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ