বাংলাদেশ গত এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক দারুণ গল্প হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পেয়েছে। একসময়ের দরিদ্র ও অনুন্নত একটি দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আমরা যদি পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই, তাহলে দেখব যে আমাদের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় বড় মেগা প্রকল্প, যেমন—পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল বা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের চোখের সামনেই দৃশ্যমান হচ্ছে। অবকাঠামোগত এই উন্নয়নগুলো আমাদের মনে একটা আশার সঞ্চার করে যে, বাংলাদেশ হয়তো খুব দ্রুতই একটি উন্নত দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে।
কিন্তু, খবরের কাগজের পাতা উল্টালে বা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দিকে তাকালে আমরা এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হই। বাজারে জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, মানুষের আয় সেভাবে বাড়ছে না, যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্ব প্রবল, এবং দেশের ব্যাংকগুলোতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই অবস্থায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়—বাংলাদেশের এই যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, এটি কতটা টেকসই? আমরা কি সত্যিই একটি মজবুত অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছি, নাকি এটি যেকোনো বড় ধাক্কায় ভেঙে পড়তে পারে? বর্তমান এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের অর্থনীতির টেকসই হওয়ার দিকগুলো এবং এর পেছনের দুর্বলতাগুলো নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অতীত ও বর্তমান চিত্র
স্বাধীনতার পর ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশকে অনেকেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই দেশটিই আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ৬ থেকে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির আগে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছাকাছিও পৌঁছেছিল।
বর্তমান বাস্তবতায় এসে এই চিত্র কিছুটা মলিন হতে শুরু করেছে। করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যা পুরো বিশ্বের অর্থনীতিকেই টালমাটাল করে দেয়। এর প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। বর্তমানে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে এবং অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। কিন্তু এই অর্জনের সাথে সাথে আমাদের সামনে আসবে নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ। কারণ, তখন আমরা আর আগের মতো সহজ শর্তে ঋণ বা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাব না। তাই বর্তমান প্রবৃদ্ধি শুধু সংখ্যার বিচারে বেশি হলেই হবে না, সেটিকে টেকসই হতে হবে।
বর্তমান প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি
বাংলাদেশের আজকের এই যে বিশাল অর্থনীতি, এর পেছনে মূলত কয়েকটি নির্দিষ্ট খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। এগুলো হলো আমাদের অর্থনীতির খুঁটি।
তৈরি পোশাক খাতের অবদান
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ইঞ্জিন বলা যায় তৈরি পোশাক খাত বা গার্মেন্টস শিল্পকে। আমাদের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই আসে এই একটি মাত্র খাত থেকে। লাখ লাখ নারী শ্রমিকের সস্তা শ্রমের ওপর ভর করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। কিন্তু শুধু একটি খাতের ওপর এত বেশি নির্ভরশীল হওয়াটা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যদি কখনো আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যায়, অথবা ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো আরও সস্তায় পোশাক দিতে পারে, তবে আমাদের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপদে পড়বে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর ইউরোপ-আমেরিকায় আমরা যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাই, তা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়
আমাদের অর্থনীতির আরেকটি বড় লাইফলাইন হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউরোপ, আমেরিকা বা মালয়েশিয়ায় কর্মরত আমাদের কোটি কোটি প্রবাসী ভাই-বোনেরা যে টাকা দেশে পাঠান, তা দিয়েই আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। এই রেমিট্যান্স আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করে এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে সাহায্য করে। কিন্তু আমাদের প্রবাসীদের বড় অংশই অদক্ষ বা আধা-দক্ষ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ফলে তারা অন্যান্য দেশের দক্ষ শ্রমিকদের তুলনায় বেতন পান অনেক কম। তাছাড়া হুন্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা থাকায় সরকার অনেক সময় প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হয়।
কৃষি খাতের ভূমিকা
বাংলাদেশের অর্থনীতির আদি ও অকৃত্রিম ভিত্তি হলো কৃষি। যদিও জিডিপিতে কৃষির অবদান আগের তুলনায় কমেছে (বর্তমানে তা প্রায় ১১-১২ শতাংশ), কিন্তু কর্মসংস্থানের দিক থেকে এখনও সবচেয়ে বেশি মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। করোনা মহামারির সময়ে যখন সব কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, তখন এই কৃষি খাতই আমাদের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছিল। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এই খাতের জন্য বড় বাধা।
প্রবৃদ্ধি কি আসলেই টেকসই? বর্তমান চ্যালেঞ্জসমূহ
উপরের চিত্রগুলো দেখলে মনে হতে পারে যে, আমাদের অর্থনীতি তো বেশ ভালোই চলছে। কিন্তু একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাব, এই প্রবৃদ্ধির ভেতরে অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। বর্তমান বাস্তবতায় প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করার পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
বর্তমানে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্টের কারণ হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি। চাল, ডাল, তেল, ডিম থেকে শুরু করে কাঁচাবাজারের প্রতিটি পণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে মানুষের বেতন বা আয় বাড়ছে না। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান নিচে নেমে যাচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে পুষ্টিকর খাবার কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। একটি দেশের অর্থনীতি যদি শুধু ধনীদের সম্পদ বাড়ায় আর গরিব মানুষকে আরও গরিব করে, তবে সেই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কখনোই টেকসই হতে পারে না।
কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি
অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে অনেক সময় “কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি” (Jobless Growth) বলে থাকেন। এর মানে হলো, দেশের জিডিপি বাড়ছে, বড় বড় রাস্তাঘাট হচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে পর্যাপ্ত চাকরি বা কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। প্রতি বছর লাখ লাখ তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বের হচ্ছেন, কিন্তু তাদের জন্য উপযুক্ত চাকরি নেই। দেশে এখন বেকারত্বের হার, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের হার খুবই উদ্বেগজনক। একটি দেশের তরুণ সমাজ যদি বেকার থাকে, তবে সেই দেশের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সম্ভব নয়। আমরা বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’ এর যুগে আছি, যেখানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার বা ডলারের চরম সংকটে ভুগছে। একসময় আমাদের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে আমাদের অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি তেল, সার, ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে। রিজার্ভের এই পতন আমাদের অর্থনীতির ভঙ্গুরতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
ব্যাংক খাতের দুরবস্থা ও খেলাপি ঋণ
টেকসই অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমানে আমাদের ব্যাংক খাতের অবস্থা খুবই নাজুক। হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে আর তা ফেরত দিচ্ছেন না। অনেকেই এই টাকা বিদেশে পাচার করে দিচ্ছেন। ব্যাংকগুলোর কাছে যখন বিনিয়োগ করার মতো টাকা থাকে না, তখন নতুন কলকারখানা তৈরি হয় না এবং নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয় না। এই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে একটি বিশাল দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রভাব
আমাদের এই অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে শুধু যে আমাদের নিজেদের ভুল আছে, তা কিন্তু নয়। বিশ্বায়নের এই যুগে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধ-বিগ্রহ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং উন্নত দেশগুলোর ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে দেওয়া—এই সবই আমাদের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে অভ্যন্তরীণ নীতিমালার দুর্বলতাও কম দায়ী নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও অতিরিক্ত ব্যয়, কর আদায়ের নিম্ন হার, এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অভাব আমাদের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। অর্থাৎ, সরকার দেশের মানুষের আয়ের তুলনায় পর্যাপ্ত কর আদায় করতে পারছে না, ফলে উন্নয়নমূলক কাজ করার জন্য সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য করণীয়
বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে আমাদের কিছু জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো রাতারাতি করা সম্ভব নয়, তবে এখন থেকেই কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ
আমরা আর শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারি না। আমাদের অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত, যেমন—তথ্যপ্রযুক্তি (IT), চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ শিল্প, কৃষিজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল খাতের দিকে নজর দিতে হবে। এই খাতগুলোকে যদি আমরা আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে পারি, তবে রপ্তানি আয় বাড়বে এবং যেকোনো বৈশ্বিক সংকটে আমরা একটি খাতের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে পারব।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি
বিদেশে শুধু অদক্ষ শ্রমিক না পাঠিয়ে আমাদের উচিত তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা। একজন দক্ষ কর্মী একজন অদক্ষ শ্রমিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। অন্যদিকে, দেশের ভেতরেও শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে হবে। শুধু মুখস্থবিদ্যা নির্ভর সার্টিফিকেটধারী তৈরি না করে, প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে।
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা
অর্থনীতিকে টেকসই করার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো সুশাসন বা গুড গভর্ন্যান্স। ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে কঠোরভাবে খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। অর্থ পাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। সরকারি কেনাকাটা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে জনগণের করের টাকার অপচয় না হয়। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে যদি এই বিশ্বাস তৈরি হয় যে তাদের টাকার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে, তবে তারা অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে উৎসাহিত হবে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, এটি একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। গত কয়েক দশকে আমরা অভাবনীয় উন্নতি করেছি, যা বিশ্ববাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই প্রবৃদ্ধি পুরোপুরি টেকসই কি না—সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, ডলারের ঘাটতি এবং ব্যাংক খাতের অব্যবস্থাপনা আমাদের অর্থনীতির ভিতকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তখনই টেকসই হয়, যখন এর সুফল সমাজের একদম নিচের তলার মানুষের কাছে পৌঁছায়। শুধু জিডিপির বড় বড় সংখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের পেট ভরে না। আমাদের এমন একটি অর্থনীতি গড়তে হবে, যেখানে ধনী-গরিবের বৈষম্য কম থাকবে, তরুণরা সহজে কাজ পাবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম মানুষের হাতের নাগালে থাকবে। যদি আমরা দুর্নীতি কমিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং অর্থনীতির বহুমুখীকরণে জোর দিতে পারি, তবেই বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্যিকার অর্থে টেকসই হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
















