খবরটি নিচে দেওয়া হলো:

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সাংসদদের গাড়ির দাবি: ছোটদের ‘না’ বলতে হয় না, বললেন বিরোধীদলীয় নেতা

জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য সরকারিভাবে গাড়ির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) তরুণ সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া একটি অনুশাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল সংসদ সদস্যরা কোনো শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। তখন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছোটদের আবদারে সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়, তাদের সরাসরি ‘না’ বলা ঠিক নয়। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গাড়ি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এমন মজাদার ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

গত ৩১ মার্চ এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গার দাবি জানিয়েছিলেন। এর সূত্র ধরে আজ অধিবেশনের এক পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ফ্লোর নিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য তিনি একটি সম্মানজনক খবর নিয়ে এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এমপিদের অভিযোগ ছিল যে তারা উপজেলা পরিষদে গেলে বসার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা পান না।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কয়েক দিন আগে একজন সংসদ সদস্য এই দাবি জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরামর্শ অনুযায়ী একটি সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের দোতলায় অ্যাটাচড বাথরুম ও আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীদের বসার জন্য একটি চমৎকার কক্ষ প্রস্তুত করে দেওয়া হবে।

যেহেতু নিয়মানুযায়ী কোনো সংসদ সদস্যের নামে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার আইনি বিধান নেই, তাই এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। সংসদ সদস্যরা যখন তাদের এলাকায় যাবেন, তখন এই কক্ষে বসে তারা প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবেন। কোনো সংসদীয় আসনে যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে সেই এমপি সব উপজেলাতেই এমন একটি অফিস পাবেন এবং সেখানে সময় কাটাতে পারবেন।

সরকারের এই দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য হাসনাত আবদুল্লাহ ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অন্তত একটা বসার জায়গা তো হলো! এরপর তিনি এমপিদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, “আমি এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটু লজ্জার মাথা খেয়েই কথাটা বলছি। আমাদের ইউএনও মহোদয়ের এবং উপজেলা চেয়ারম্যানেরও একটি করে সরকারি গাড়ি থাকে। কিন্তু আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়। এখন যেহেতু বসার ব্যবস্থা হয়েছে, মানুষের কাছে দ্রুত যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়।”

হাসনাত আবদুল্লাহর এই দাবির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উঠে দাঁড়ান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হন, সেদিনই তিনি দলের বৈঠকে দুটি কড়া অনুশাসন বা নিয়ম জারি করেছিলেন। একটি হলো জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা আলাদা কোনো সুযোগ–সুবিধা নেবেন না এবং অন্যটি হলো কোনো সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। বর্তমানে সরকার ও মন্ত্রীদের কিছু সুবিধাও কমানো হয়েছে। তবে তিনি হাসনাতকে আশ্বস্ত করে বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন, এখন গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। তাই সরকারি দল ও বিরোধী দলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে একটি বিহিত-ব্যবস্থা করার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। বিরোধী দলের একজন সদস্যের দাবি পূরণ হওয়ায় তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। হাসনাতের গাড়ির দাবির বিষয়ে তিনি হাসিমুখে বলেন, “একটা কথা আছে যে ছোটদের কখনো ‘না’ বলতে নাই। তাদের আবদারে সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে হয়। হাসনাত যেহেতু বলেই ফেলেছে, তাই সাথে সাথে ‘না’ না বললে আমি বেশি খুশি হতাম।” পরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা বহু আগেই বলেছেন যে তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না, কারণ সরকারি দলও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংসদ, হাসনাত আবদুল্লাহ, শফিকুর রহমান, সালাহউদ্দিন আহমদ, তারেক রহমান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গাড়ি, উপজেলা পরিষদ, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী

সম্পর্কিত নিবন্ধ