সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকের বিস্তার রোধে একটি বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)[1]। দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী চক্র এই এলাকায় মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসছিল। এই চক্রের মূলোৎপাটন করতে ডিএনসি একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে। আজ মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ভোরে এই টাস্কফোর্সের চৌকস সদস্যরা এক শ্বাসরুদ্ধকর ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও নগদ টাকাসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করেছে[1]।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে, আজ সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু করে সকাল ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন রামচন্দ্রপুরহাট দিহির মাঠ এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাস্কফোর্সের সদস্যরা পুরো এলাকা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এরপর দুই দফায় অভিযান চালিয়ে তারা দুই জনকে হাতেনাতে আটক করে।
আটক হওয়া ওই দুই মাদক কারবারির নাম মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে ভুট্টু এবং মোসা. আমেনা খাতুন[1]। শরিফুল ইসলামের বয়স ৪২ বছর এবং তার বাবার নাম মৃত মোহাম্মদ আলী[। অন্যদিকে, আমেনা খাতুনের বয়স ২৭ বছর এবং তার বাবার নাম মো. এনামুল হক। আটক হওয়া দুজনেরই বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অন্তর্গত রামচন্দ্রপুরহাট দিহির মাঠ গ্রামে। পুলিশ ও ডিএনসি বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখছিল।
অভিযান চলাকালে তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে টাস্কফোর্সের সদস্যরা ১৫৮ গ্রাম উচ্চমূল্যের মাদক হেরোইন উদ্ধার করেন। এই পরিমাণ হেরোইনের বাজারমূল্য অনেক বেশি। তবে শুধু মাদকই নয়, এই অভিযানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার। তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের ঘর থেকে ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৯১৪ টাকা (প্রায় ৭,৫০০ ডলার বা $৭,৫০০) উদ্ধার করা হয়। ডিএনসির কর্মকর্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই বিপুল পরিমাণ টাকা মূলত অবৈধ মাদক বিক্রির মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে। কারণ, আটককৃতদের এমন কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই যার মাধ্যমে এত নগদ টাকা তাদের কাছে থাকতে পারে।
বর্তমানে আটককৃত দুজনের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনসির একজন অত্যন্ত দক্ষ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম এই মামলায় বাদী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি আরও বেশ কয়েকটি সফল মাদকবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থেকে একটি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে তাদের এই ধরনের বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। যেকোনো মূল্যে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে ডিএনসি ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি মেনে কাজ করে যাচ্ছে[1]। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ডিএনসির এই সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং তারা আশা করছেন এমন অভিযান এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টাস্কফোর্স, হেরোইন, নগদ টাকা, ডিএনসি, মাদক কারবারি, শরিফুল ইসলাম, আমেনা খাতুন, রামচন্দ্রপুরহাট, জিরো টলারেন্স।
















