যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প, লেবাননেও চুক্তি

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির ব্যাপারে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আগামী সপ্তাহে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দুই পক্ষ এটি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সাথে খুব শিগগিরই একটি দারুণ চুক্তি হতে যাচ্ছে এবং সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা ত্যাগ করতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে। চুক্তি হলে বিনামূল্যে তেল পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ছাড় দেওয়ার কথা এখনও স্বীকার করেনি।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে বেশ উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে এই উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন। এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা ওঠানামা করছে। বৃহস্পতিবার প্রায় ৫% দাম বৃদ্ধির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৯৩ ডলারের কাছাকাছি রয়েছে। তবে বাস্তব বাজারে তেলের সরবরাহ কম থাকায় ফিজিক্যাল দাম আরও বেশি, ডেটেড ব্রেন্ট লেনদেন হচ্ছে প্রায় ১১৬ ডলারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণাও দিয়েছেন। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা থেকে এটি কার্যকর হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে একে বৃহত্তর শান্তি চুক্তির একটি ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সাথেও কথা বলেছেন এবং আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে উভয় নেতাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে চলমান এই সংঘাতে লেবাননে ইতিমধ্যে ২০০০ এর বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ গৃহহীন হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। গত সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা হলেও ৬ সপ্তাহের এই যুদ্ধে বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। এরপর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির চলতি সপ্তাহে ইরানে গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে বৈঠক করেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে চুক্তি চূড়ান্ত হলে তিনি পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ২ সপ্তাহ বাড়ানোর কথা ভাবছে।

জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনও বড় বিরোধ রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ৪ দিনে গড়িয়েছে। ফলে গত ৩ দিনে ১৪টি জাহাজ ওই পথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক করেছেন যে, আগামী মাসের পর প্রণালীটি বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স প্রায় ৪০টি দেশ নিয়ে একটি বহুজাতিক নৌবাহিনী গঠনের বিষয়ে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, তাদের বাহিনী বোতাম চাপলেই পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এদিকে ইরান সতর্ক করেছে যে, অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হতে পারে। এই সংঘাতের মূল কারণ হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। তেহরান বারবার দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।

Donald-Trump

সম্পর্কিত নিবন্ধ