যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার নতুন সেনা পাঠাচ্ছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, তার অবসান ঘটাতেই তিনি মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সামরিক ভয় দেখিয়ে ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে সই করতে জোর চাপ দিচ্ছে। তারা চাইছে খুব দ্রুত এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান বের করতে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিজস্ব স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান যদি কোনোভাবে এই যুদ্ধবিরতি ভাঙে বা মার্কিন স্বার্থে আঘাত করে, তবে আমেরিকা এবার আর কোনো ছাড় দেবে না। তারা সরাসরি ইরানে নতুন করে বড় পরিসরে বিমান হামলা চালাবে। এমনকি শুধু আকাশপথেই নয়, প্রয়োজনে তারা ইরানের মাটিতে সরাসরি স্থল অভিযান চালানোর ছকও পুরোপুরি প্রস্তুত রেখেছে।
নতুন করে যেসব মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছেন, তাদের বহর বেশ বড়। মার্কিন নৌবাহিনী তাদের অন্যতম বড় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ওই অঞ্চলে মোতায়েন করছে। এই বিশাল রণতরি এবং এর চারপাশে পাহারায় থাকা অন্যান্য কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ মিলিয়ে মোট প্রায় ৬,০০০ নৌসেনা সেখানে অবস্থান করছেন। এই রণতরি থেকে যুদ্ধবিমানগুলো যেকোনো মুহূর্তে উড়ে গিয়ে শত্রু শিবিরে নিখুঁতভাবে বোমা ফেলার ক্ষমতা রাখে। মার্কিন কর্মকর্তারা নিজেদের নাম গোপন রাখার শর্তে এই সেনা সমাবেশের তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
শুধু রণতরিই নয়, এর বাইরেও আরও একটি বড় সেনাদল সাগরপথে ওই অঞ্চলের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাহিনীর মধ্যে রয়েছে বক্সার অ্যামফিবিয়াস রেডি গ্রুপ এবং ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের বিশেষ টাস্কফোর্স। এই দলটিতে আরও প্রায় ৪,২০০ জন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মেরিন সেনা রয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকেই এই বিশাল সেনাবহর মধ্যপ্রাচ্যের পানিসীমায় পৌঁছে যাবে বলে সবাই ধারণা করছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০,২০০ নতুন মার্কিন সেনা সেখানে জড়ো হচ্ছেন, যা ওই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে।
আমেরিকা ও ইরানের এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা পুরো বিশ্বের অর্থনীতির জন্য একটি বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লেই বিশ্ববাজারে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন করে পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তখন প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম খুব সহজেই $৯০ বা $১০০ ছাড়িয়ে যাবে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে তেল কিনতে গিয়ে বাড়তি মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে, যা আমাদের দেশের বাজারের জিনিসপত্রের দামও বাড়িয়ে দেবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনেও অনেক ভয় আর দুশ্চিন্তা কাজ করছে। সৌদি আরব, আমিরাত, ওমানসহ ওই পুরো অঞ্চলে আমাদের লাখ লাখ প্রবাসী মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করেন। সেখানে যদি সত্যি সত্যি বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ বেধে যায়, তবে তাদের কাজ এবং জীবনের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। অনেকেই চাকরি হারাবেন, যার ফলে দেশে রেমিট্যান্স বা ডলার আসাও অনেক কমে যাবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের এই সেনা পাঠানোর নতুন পদক্ষেপ এবং ইরানের পরবর্তী চাল কী হয়, সেদিকেই এখন বাংলাদেশের মানুষ খুব মনোযোগ দিয়ে নজর রাখছেন।
















