ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের তেল সরবরাহ বন্ধ করার যে নতুন ঘোষণা দিয়েছেন, তা এখন সরাসরি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় আঘাত হানছে। বেইজিংয়ের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ এটি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী মে মাসে বেইজিংয়ে এই দুই নেতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, কিন্তু তার আগেই এমন সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘ সাত সপ্তাহ নিরব থাকার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মঙ্গলবার অবশেষে মুখ খুলেছেন। তিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থাকে “বিশৃঙ্খলা” হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই নৌ-অবরোধকে “বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে অভিহিত করেছে। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান ভঙ্গুর শান্তি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী যদি অবরোধ লঙ্ঘনকারী চীনা জাহাজগুলোকে আটক বা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে মাঝসমুদ্রে সরাসরি সংঘাত শুরু হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছেন যে, যেসব দেশ ইরানকে অস্ত্র সহায়তা দেবে তাদের ওপর 50% শুল্ক (Tariff) আরোপ করা হবে। জবাবে চীনও কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পালটা ব্যবস্থা হিসেবে তারা ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। উল্লেখ্য, আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত স্থায়ী চুম্বক তৈরির প্রায় 90% বিরল খনিজ এখন চীনের নিয়ন্ত্রণে, যা বন্ধ হলে মার্কিন উৎপাদন ব্যবস্থা ধসে পড়তে পারে।
এর মধ্যে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে একটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট নিয়ে। খবর বেরিয়েছে যে, ইরান চীনের তৈরি একটি আধুনিক গোয়েন্দা স্যাটেলাইট গোপনে সংগ্রহ করেছে, যা দিয়ে তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে হামলা করার ক্ষমতা অর্জন করেছে। ট্রাম্প ফক্স বিজনেসকে জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করেছেন। তবে জিনপিং এসব অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প অবশ্য সামাজিক মাধ্যমে কিছুটা রসিকতা করে দাবি করেছেন যে, জিনপিং তাকে বেইজিংয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন।
এদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট চীনকে একটি “অনির্ভরযোগ্য অংশীদার” বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চীন বর্তমানে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত বা “হোর্ডিং” করছে। এমনকি দুইটি বড় চীনা ব্যাংককেও ইরানকে লেনদেনে সহায়তার অভিযোগে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প হয়তো চীনের তেলের উৎস বন্ধ করে শি জিনপিংকে দিয়ে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করাতে চাইছেন। কিন্তু বেইজিং এই চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে উলটো মার্কিন সয়াবিন আমদানিতে কাটছাঁট করতে পারে।
সব মিলিয়ে মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফর নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চীনের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন যখন ইরানের সাথে যুদ্ধে জিততে পারছে না, তখন তারা বেইজিংয়ের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ট্রাম্প আশা করেছিলেন তিনি একজন বিজয়ী হিসেবে চীনে যাবেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে এই যুদ্ধ তার জন্য বড় কোনো বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
















