ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধীদের পাকড়াও করতে দিন ও রাতের সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পুলিশ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত দুইজন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে। একই সাথে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক এক তরুণীর ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসায় আদালত তাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা এই সফল অভিযানের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে পলাতক থাকা আসামিদের ধরতে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যরা চেকপোস্ট বসান। ২৪ ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে জিআর-১৮০/২৩ নম্বর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোঃ ওয়াহিদুল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি শৈলকুপা উপজেলার মহেষপুর গ্রামের মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে। এর পাশাপাশি সিআর-১৭২/২৫ নম্বর মামলার আরেক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী মোঃ মহবার মোল্যাকেও পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তিনি ভগবাননগর গ্রামের মৃত সামছুল মোল্যার ছেলে। পুলিশ এই দুই আসামীকে গ্রেফতারের পরপরই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে।
অন্যদিকে মাদক নির্মূলের অংশ হিসেবে শৈলকুপা থানা পুলিশ দিনব্যাপী এলাকায় বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। এই অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মোছাঃ আফসানা খাতুন (১৮) নামের এক তরুণীকে পুলিশ আটক করে। তিনি উপজেলার কাচেরখোল গ্রামের মোঃ রাজু আহমেদের মেয়ে। আটকের পর পুলিশ তার মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে আধুনিক ডোপ টেস্ট করায়। পরীক্ষার ফলাফলে তরুণীর মাদক গ্রহণের প্রমাণ পুরোপুরি পজিটিভ আসে। পুলিশ জানায়, তরুণ সমাজের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবণতা ১০০% নির্মূল করতেই তারা সন্দেহভাজনদের দ্রুত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার আওতায় আনছে, যাতে কোনো অপরাধী ছাড় না পায়।
ডোপ টেস্টের ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ কোনো রকম বিলম্ব না করে আসামী আফসানা খাতুনকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে। বিজ্ঞ বিচারক আদালতে সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত শুনানি নেন। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১৬ ধারা অনুযায়ী আসামীকে ১০ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে বিচারক তাকে নগদ ১,০০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার এই অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও অতিরিক্ত ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের রায়ের পর পুলিশ তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
শৈলকুপা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে মাদক চক্রের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদক কারবারীদের অপতৎপরতা বন্ধে এমন নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান খুব প্রয়োজন ছিল। তরুণ প্রজন্মের অন্তত ১০% থেকে ১৫% যাতে কোনোভাবেই ভুল পথে পা না বাড়ায়, সেজন্য পুলিশের এই নজরদারি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মাদক ও চোরাচালানের মাধ্যমে যাতে কোনো অবৈধ অর্থ কিংবা ডলার ($) লেনদেন না হয়, সেদিকেও কড়া দৃষ্টি রাখছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের মতে, তাৎক্ষণিক বিচার প্রক্রিয়া মাদকসেবীদের মনে স্পষ্ট ভীতি তৈরি করবে।
অভিযান শেষে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, শৈলকুপাকে শতভাগ অপরাধ ও মাদকমুক্ত করতে পুলিশ দিন-রাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো চিহ্নিত অপরাধী, পরোয়ানাভুক্ত আসামী কিংবা মাদক ব্যবসায়ী আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পার পাবে না। এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের নিয়মিত টহল ও আকস্মিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। ওসি আরও বলেন, অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের তথ্যগত সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধির খবর দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি সবার প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান।
এদিকে পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামীকে আদালতে সোপর্দ করার পর বিজ্ঞ বিচারক তাদেরও জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। থানা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের তালিকা ধরে পুলিশ নিয়মিতভাবে এভাবেই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবে। সমাজ থেকে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে এবং জনসাধারণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আইন অমান্যকারী ও অপরাধীদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে শৈলকুপা থানা পুলিশ।















