৭০০ দূরে থাক, একটি রিকশা থাকার প্রমাণ দিতে পারলে মেনে নেব: মিয়া গোলাম পরওয়ার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

নিজের নামে ৭০০ থেকে ৮০০টি রিকশা থাকার প্রচারণাকে মিথ্যা ও অপপ্রচার বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে তাঁকে বিপুলসংখ্যক রিকশার মালিক সাজানোর চেষ্টা চলছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বিরোধীদের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, ৭০০ বা ৮০০ তো দূরের কথা, সারা দেশের কোনো প্রান্তে তাঁর নামে সাকুল্যে একটি রিকশাও আছে—এমন প্রমাণ দিতে পারলে তিনি তা মাথা পেতে নেবেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোনো ইস্যু না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই নির্লজ্জ মিথ্যাচার চালাচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সম্প্রতি এক বক্তব্যে জামায়াত নেতার ৭০০ অটোরিকশা থাকার দাবি করেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গোলাম পরওয়ার বলেন, সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া একজন প্রশাসকও যখন এমন আজগুবি তথ্য আওড়ান, তখন বলার কিছু থাকে না। কোনো দায়িত্বশীল পদে বসে এমন ভিত্তিহীন অসত্য বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই শোভনীয় নয়। কিছু করার না থাকলে মানুষ যেমন খই ভাজে, প্রশাসকের ভূমিকাও তেমনই হয়েছে। কোনো শিক্ষিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ এমন নির্লজ্জ অসত্য কথা বলতে পারেন না। এমন রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা দেখে তিনি সংশ্লিষ্টদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক ময়দানে আদর্শ দিয়ে লড়তে না পেরেই বিরোধীরা নোংরা চরিত্র হননে নেমেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনীতির লড়াই চরিত্র ও নৈতিকতা দিয়ে হওয়া উচিত। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করতে পারে না, তখন এমন কুরুচিপূর্ণ পথ বেছে নেয়। এই অপপ্রচার সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চরম সংকটের প্রমাণ। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এ নিয়ে মুখ খুলবেন না, কারণ এমন সস্তা বিষয়ে কথা বলা তাঁর রুচির সঙ্গে মেলে না। তবে সরকারি পদের অপব্যবহার করে যখন বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, তখন নীরব থাকা সম্ভব হয়নি।

টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নেওয়া চাটুকার বুদ্ধিজীবীদেরও তিনি কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, পদোন্নতি ও সরকারি আনুকূল্য পাওয়ার লোভে কিছু ব্যক্তি ক্যামেরার সামনে মনগড়া গল্প ফাঁদছেন। অথচ সরকারের হাতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনিক বিভাগ থাকা সত্ত্বেও তারা তাঁর নামে একটি রিকশার প্রমাণও দিতে পারল না। পুরো পরিবহন খাত ঘিরে কোটি কোটি ডলারের ($) বাণিজ্যের গুঞ্জন থাকে। অথচ কোনো নথিপত্র ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১০০% মিথ্যা গল্প সাজিয়ে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরানোর অপচেষ্টা চলছে। তিনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে সত্য থাকলে তা জাতির সামনে প্রকাশ করুন।

সামাজিক মাধ্যমে চরিত্র হননের এই সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করবে বলে সতর্ক করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, যারা ভুয়া আইডি ও ফেক ফটোকার্ড বানিয়ে সম্মানিত নেতাদের হেনস্তা করছে, তাঁদের পারিবারিক মূল্যবোধ কোথায়? মা-বাবার দেওয়া শিক্ষা ও ভদ্রতার পাঠ কি তাঁরা ভুলে গেছেন? তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে ক্রমাগত মিথ্যাচার চললে কোনো সৎ, ভদ্র ও শিক্ষিত মানুষ রাজনীতিতে আসার সাহস পাবে না। এতে জাতি এক গভীর নেতৃত্ব সংকটে পড়বে।

সুস্থ রাজনীতির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধকে সুস্থ নীতি ও আদর্শ দিয়ে মোকাবিলা করা দরকার। সামাজিক প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহির অভাব থাকায় প্রায় ৮০% থেকে ৯০% ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়িয়ে পড়ে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে উপস্থাপন করা উচিত। প্রমাণহীন কুৎসা কোনো সভ্য সমাজের ভাষা হতে পারে না। তাই সব অপপ্রচারকারীকে এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে অবিলম্বে সরে আসার জোর আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমের বিকৃত অপপ্রচারে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। একই সঙ্গে হলুদ সাংবাদিকতা ও সাজানো মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকদের মাঠে নামার আহ্বান জানান। গোলাম পরওয়ার আশা প্রকাশ করেন, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য তুলে ধরে গুজববাজদের মুখোশ উন্মোচন করবেন এবং একটি সুস্থ ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ