দামুড়হুদায় দুর্গাপূজা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা: আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রস্তুতি সভায় কড়া নির্দেশনা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই যৌথ সভা বসে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় জানানো হয়, এ বছর পুরো উপজেলায় মোট ২০টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মণ্ডপে যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে প্রতিমা দর্শন ও পূজা-অর্চনা করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা এতে যোগ দেন। বক্তারা প্রত্যেকেই এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে যুগ যুগ ধরে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে। আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে থাকবে। তিনি বলেন, পূজা মণ্ডপগুলোতে শতভাগ (১০০%) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি মণ্ডপে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে এবং রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিদ্যুৎ চলে গেলে যাতে মণ্ডপ অন্ধকার না হয়, সেজন্য বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক আরও নির্দেশ দেন, পূজার দিনগুলোতে প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবে। বিশেষ করে রাতের বেলা স্বেচ্ছাসেবকদের অন্তত ৫০% সদস্যকে সজাগ থেকে পাহারা দিতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ঢিলেমি সহ্য করা হবে না। পাশাপাশি পূজা পরিচালনা কমিটির খরচের হিসাব এবং অনুদান সংগ্রহের বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বলেন। বিশেষ করে প্রবাসী ভক্তদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার ($) কিংবা সাধারণ মানুষের অনুদান সংগ্রহের ক্ষেত্রে যাতে কোনো জোরজবরদস্তি বা অনিয়ম না হয়, সেদিকেও নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ্ বলেন, পূজার দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। থানা পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। মণ্ডপগুলোর আশপাশে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরাও নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে সমন্বয় থাকলে যেকোনো উৎসব সফল করা সম্ভব। তিনি জানান, প্রতিটি মণ্ডপে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পূজা চলাকালীন মণ্ডপের আশপাশে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া উচ্চশব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি না করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিজ নিজ এলাকার মণ্ডপগুলো নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশ দেন তিনি।

পূজা প্রস্তুতির পাশাপাশি সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সীমান্ত উপজেলা হওয়ায় দামুড়হুদায় মাদক চোরাচালান ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসক ও ইউএনও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মাদকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা নিয়ে অপরাধমুক্ত দামুড়হুদা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে সবার আন্তরিক সহযোগিতায় একটি আনন্দঘন ও নিরাপদ পূজা উৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সভার সমাপ্তি টানা হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ