কোটচাঁদপুরে নবাগত ইউএনও শামীম হোসাইনের যোগদান: উন্নয়নের নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শামীম হোসাইন। সোমবার সকালে তিনি কোটচাঁদপুর উপজেলা কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে বিদায়ী কর্মকর্তা ও অন্যান্য দপ্তরের প্রধানরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিসিএস প্রশাসনের একজন দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত শামীম হোসাইন ঝিনাইদহের এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদে সরকারি সেবা আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার এই যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয় সুধী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, একজন তরুণ ও উদ্যমী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলার সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএনও শামীম হোসাইন প্রথমেই উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে একটি পরিচিতি সভায় অংশ নেন। সভায় তিনি বলেন, সরকারি অফিসে সেবা নিতে এসে কোনো সাধারণ মানুষকে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা তিনি ১০০% নিশ্চিত করবেন। তিনি প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না এবং সরকারি প্রতিটি পয়সার সঠিক হিসাব রাখা হবে। স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি কোটচাঁদপুরকে একটি আধুনিক ও নাগরিক বান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

শামীম হোসাইন তার কর্মপরিকল্পনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড শক্ত করতে হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন জরুরি। উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার হার এবং পরিবেশ উন্নত করতে তিনি নিয়মিত পরিদর্শনে যাবেন। বিশেষ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ০% এ নামিয়ে আনতে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে কাজ করবেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। দরিদ্র মানুষেরা যেন সরকারি ওষুধ ও সেবা সঠিকভাবে পায়, সেদিকেও তার কড়া নজর থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়েও নবাগত ইউএনও তার কঠোর অবস্থানের কথা জানান। কোটচাঁদপুরে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো নির্মূল করতে তিনি পুলিশের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবেন। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স।” যুব সমাজকে বিপথগামী হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি উপজেলার খেলার মাঠগুলো সংস্কার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন। বাল্যবিবাহ রোধে তিনি গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা করবেন এবং কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তার এই কঠোর অবস্থানে অপরাধী চক্রের মধ্যে ইতিমধ্যেই এক ধরণের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কোটচাঁদপুরের কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নেও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে শামীম হোসাইনের। উপজেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষকদের পাশে থাকার জন্য। সরকারি সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ যেন প্রকৃত কৃষকরা পান, তা তিনি নিজে তদারকি করবেন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যেন কৃষকের হকের ওপর আঘাত করতে না পারে, সেজন্য তিনি বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করবেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ফলন ২০% থেকে ৩০% পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব, যা এলাকার অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রাস্তাঘাট সংস্কারে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন। গ্রামীণ জনপদের রাস্তাগুলো যেন চলাচলের উপযোগী থাকে, সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সাথে নিয়ে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করবেন। বর্ষার মৌসুমে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সেজন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার ওপরও তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হতে হবে ১০০% মানসম্মত এবং টেকসই। কাজের মান নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না এবং কোনো ঠিকাদার কাজে ফাঁকি দিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাগত ইউএনও শামীম হোসাইনের যোগদানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, তার এইুণ্য এবং কর্মস্পৃহা কোটচাঁদপুরের ঝিমিয়ে পড়া উন্নয়ন কাজে নতুন গতি আনবে। তিনি সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এবং সবার পরামর্শ নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। সাংবাদিক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই। কোটচাঁদপুরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে আমি এই উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করব।”

বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এক ধরণের প্রাণচঞ্চলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন ইউএনও তার দপ্তরে সাধারণ মানুষের সরাসরি যাতায়াতের পথ সহজ করে দিয়েছেন। যেকোনো সমস্যার কথা নিয়ে এখন মানুষ সরাসরি তার সাথে কথা বলতে পারছেন। এই মানবিক ও প্রশাসনিক গুণাবলীর কারণে শামীম হোসাইন অল্প সময়ের মধ্যেই সবার প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছেন। কোটচাঁদপুরবাসী এখন উন্মুখ হয়ে আছে তার নেতৃত্বে এই জনপদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানের জন্য।

সম্পর্কিত নিবন্ধ