সাঘাটায় জাতীয় পার্টি ছেড়ে ৩ নেতার বিএনপিতে যোগদান: চাঙা হচ্ছে তৃণমূলের রাজনীতি

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে। জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকার ৩ জন প্রভাবশালী সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) সাঘাটা উপজেলার ৬ নম্বর ঘুড়িদহ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ব্লকে এই যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পার্টি ছেড়ে আসা এই ৩ সদস্য হলেন মোঃ আতাউর রহমান বাবলু, তার স্ত্রী মোছাঃ শাবানা বেগম এবং মোঃ আব্দুল মজিদ সরকার। তাদের এই যোগদানের ফলে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সেলিম আহমেদ তুলিপের হাত ধরে তারা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং সদস্য সংগ্রহের রশিদ গ্রহণ করেন। বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এলাকার কয়েক শ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে এই ধরনের দলবদল আগামী দিনে সাঘাটার রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির সক্রিয় সদস্যদের বিএনপিতে আসা দলটির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও ১০০% বাড়িয়ে দিয়েছে। নবাগত সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার সময় পুরো এলাকা দলীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ সেলিম আহমেদ তুলিপ। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ৬ নম্বর ঘুড়িদহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বপন শেখ এবং ৩ নম্বর ব্লক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান প্রধান। ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই মিলনমেলায় অংশ নেন। নেতারা বলেন, বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে দলে ভিড়ছে, তাতে আগামীতে বিএনপির ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তারা নবাগতদের হাতে দলের সংবিধান ও সদস্য রসিদ তুলে দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান।

যোগদানকারী মোঃ আতাউর রহমান বাবলু তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির নীতি ও আদর্শই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার উদ্দেশ্যেই বিএনপিতে এসেছি।” তার স্ত্রী শাবানা বেগমও একই সুরে কথা বলেন এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বিশ্বাস করেন, বিএনপির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় সম্ভব।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সাঘাটায় তাদের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক সাড়া মিলছে। গত কয়েক মাসে এই ইউনিয়নে বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রায় ৮০% থেকে ৯০% বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন যে, প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত ১০০ জন করে নতুন সদস্য সংগ্রহ করবেন। দলবদল করা এই ৩ জন নেতা তাদের নিজ নিজ এলাকায় বেশ জনপ্রিয়, তাই তাদের সাথে আসা আরও অনেক সমর্থক ভবিষ্যতে বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই যোগদান অনুষ্ঠানটি মূলত বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিপ বলেন, “সাঘাটার মাটিতে বিএনপির শিকড় অনেক গভীরে। আজ যারা আমাদের সাথে যুক্ত হলেন, তারা আমাদের পরিবারের অংশ। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে সাধারণ মানুষের সেবা করতে।” তিনি আরও জানান, এলাকার প্রায় ৯৫% মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং তারা বিএনপিকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে নিয়মিতভাবে আরও অনেক কর্মী-সমর্থক বিএনপির পতাকাতলে আসার জন্য যোগাযোগ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যোগদান অনুষ্ঠান শেষে নবাগত সদস্যদের হাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দলীয় নির্দেশনাবলী বুঝিয়ে দেওয়া হয়। উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জাতীয় পার্টির এই ৩ সদস্যের দলত্যাগের ফলে ওই এলাকায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটা ঝিমিয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে, বিএনপি তাদের এই নতুন শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে। এই ঘটনাটি এলাকার রাজনৈতিক মহলে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিশেষে, সাঘাটার রাজনীতিতে এই ৩ জনের অন্তর্ভুক্তি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তৃণমূলের এই গণজোয়ার অব্যাহত থাকলে তারা আগামী নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করতে পারবেন। নতুন সদস্যদের নিয়ে সাঘাটা বিএনপি এখন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী। সাধারণ মানুষও উন্মুখ হয়ে আছে দেখার জন্য যে, এই নতুন নেতৃত্ব সাঘাটার উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ