পুলিশ প্রশাসনে বড় পদোন্নতি: অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ শীর্ষ কর্মকর্তা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল ও পদোন্নতির খবর পাওয়া গেছে। সরকার বাংলাদেশ পুলিশের ৫ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে। গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ জারি করা হয়। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা এখন থেকে গ্রেড-২ ভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। এই পদোন্নতির ফলে পুলিশ প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যে ৫ জন চৌকস কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ হিসেবে পরিচিত। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক (ডিআইজি) মো. সায়েদুর রহমান। পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) সদস্য ও তাদের পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে চলতি দায়িত্বে থাকা মো. মাইনুল হাসানকেও এই পদে স্থায়ীভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পর্যটন খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইনুল হাসানের নেতৃত্বে ট্যুরিস্ট পুলিশ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ প্রশংসনীয় কাজ করেছে।

তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বর্তমান কমিশনার (ডিআইজি) মো. ইসরাইল হাওলাদার। গাজীপুরের মতো শিল্প ও জনবহুল এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তিনি কঠোর অবস্থান নিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। এছাড়া পুলিশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইজি মো. ইকবাল হোসেন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের (হেডকোয়ার্টার্স) ডিআইজি মো. কামরুল আহসানকেও অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ সদর দপ্তরের প্রশাসনিক কাজে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা পুলিশ বাহিনীকে ১০০% সফলতার দিকে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পদোন্নতি পাওয়া এই ৫ কর্মকর্তাকে এখন যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগদানপত্র জমা দিতে হবে। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর তাদের যোগদানপত্র দাখিল করবেন। এই আদেশ জারির পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন পদে যোগদানের তারিখ থেকেই পদোন্নতি কার্যকর হবে বলে ধরা হবে। কর্মকর্তাদের নতুন স্কেলে বেতন-ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও সরকারি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। গ্রেড-২ পদমর্যাদায় আসার ফলে তাদের দায়িত্বের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি সুযোগ-সুবিধাও পূর্বের চেয়ে প্রায় ২০% থেকে ২৫% বৃদ্ধি পেতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই পদোন্নতিগুলো নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও বর্তমান সময়ে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা এবং পুলিশি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। নতুন অতিরিক্ত আইজিপিরা সরাসরি আইজিপি-কে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে সহায়তা করবেন। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় এই কর্মকর্তাদের নতুন পদমর্যাদা ও ক্ষমতা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই পাঁচ কর্মকর্তাকে বেছে নিয়েছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এবং কেন্দ্রীয় হাসপাতালের মতো জায়গায় অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা থাকাটা সেবা প্রদানের মানকে আরও উন্নত করবে। এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে কামরুল আহসানের মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর এই ধরণের অভ্যন্তরীণ সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ পুলিশে এই পদোন্নতি কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের মেধা ও শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার করবেন বলে জনগণ প্রত্যাশা করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও যোগ্য কর্মকর্তাদের সঠিক সময়ে পদোন্নতি ও মূল্যায়ন করা হবে। ৫ জন নতুন অতিরিক্ত আইজিপি তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে পুলিশি তৎপরতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ