চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুটি মোটরসাইকেলের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই চালক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ চালকের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (RMCH) রেফার্ড করা হয়েছে। অন্যজন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাগাদী সোনা মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহতদের পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত তরুণ চালকের নাম মুস্তাকিম (১৮)। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার খোরদ মসজিদপাড়ার মো. শাহাবুদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে আহত অপর ব্যক্তির নাম মো. সেলিম (৫০)। তিনি মহেশপুর দক্ষিণপাড়ার মো. আক্কাস মোল্লার ছেলে। সেলিমের বয়স ৫০ হলেও তিনি পেশায় একজন পান ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় মুস্তাকিমের শরীরের আঘাত অনেক বেশি গভীর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান এবং আহতদের উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে মো. সেলিম আসমানখালী বাজারে গিয়েছিলেন পান বিক্রি করতে। কেনাবেচা শেষ করে তিনি নিজের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। সকাল ১০টা বাজার কিছু সময় আগে তিনি যখন বাগাদী সোনা মোড় এলাকায় পৌঁছান, তখন ঠিক বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা মুস্তাকিমের মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর বাইকের সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা দেখেন, দুই চালকই রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সংঘর্ষের পর মুস্তাকিম ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যান এবং সাথে সাথেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে দেখা যায়। অন্যদিকে সেলিমও শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড আঘাত পান। স্থানীয়রা সময় নষ্ট না করে একটি দ্রুতগামী যানে করে তাঁদের দুজনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে থাকা ডাক্তাররা দ্রুত তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসিমুজ্জামান বলেন, “মুস্তাকিমের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর মাথার ভেতরের অংশে ইন্টারনাল ইনজুরি থাকতে পারে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে শতভাগ (১০০%) ঝুঁকিপূর্ণ। জীবন বাঁচাতে আমরা তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছি। কারণ সেখানে নিউরোসার্জারি বা উন্নত সব আধুনিক যন্ত্রপাতির সুবিধা রয়েছে।” অন্যদিকে আহত সেলিম বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত হলেও তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি জানান।
বর্তমানে মুস্তাকিমের পরিবারের সদস্যরা গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুস্তাকিমকে রাজশাহীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ চালকের জীবন নিয়ে সবাই এখন শঙ্কিত। অন্যদিকে ৫০ বছর বয়সী মো. সেলিমকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই ভর্তি রাখা হয়েছে এবং তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল দুটি উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাগাদী সোনা মোড় এলাকাটি বেশ জনবহুল হলেও সেখানে চালকরা প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মেনে এবং হেলমেট ছাড়াই মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা ১০০ শতাংশের কাছাকাছি। আজকের এই দুর্ঘটনার মূলেও দ্রুতগতি ছিল বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই এলাকায় গতিরোধক বা নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি বাড়ানোর জন্য দাবি তুলেছেন গ্রামবাসী।
সড়ক দুর্ঘটনার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আলমডাঙ্গার ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পথচারী ও স্থানীয়রা বলছেন, ছোটখাটো ভুলের কারণে আজ দুটি পরিবার বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়ল। এই দুর্ঘটনায় কেবল শারীরিক ক্ষতিই হয়নি, দুটি মোটরসাইকেলই প্রায় সম্পূর্ণ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
















