শৈলকুপায় ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার: পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক আরও ৪

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানায় গত ২৪ ঘণ্টায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে পুলিশ। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২০:০০ ঘটিকার সময় শৈলকুপা থানাধীন মহেশপুর গ্রামের হাইওয়ে রাস্তার পাশে অবস্থিত ‘আল্লাহর দান হোটেল’ ও হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ূন কবির মোল্লার দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন গাড়াখোলা গ্রামের মৃত সোহেল রানার ছেলে শিশির আহমেদ (২৪) এবং মহেশপুর গ্রামের মো. রেজাউল ইসলামের ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (৩০)। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭ পিস করে মোট ১৪ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়, যা বর্তমান বাজার মূল্যে প্রায় ৪২০০ টাকা বা আনুমানিক ৫০$ ডলারের কাছাকাছি।

পুলিশের এই নিয়মিত অভিযানের ফলে শৈলকুপা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১টি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও গত এক দিনে পুলিশি তৎপরতায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৪ জনকে সামারি ট্রায়ালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় শৈলকুপা থানায় মোট ৬ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে এলাকায় অপরাধের মাত্রা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১২% থেকে ১৫% কমেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুল পরিমাণ মুলতবি পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট। শৈলকুপা থানার নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৫৮৮টি ওয়ারেন্ট তামিল বা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে জিআর (জেনারেল রেজিস্টার) মামলায় ৬২৩টি এবং সিআর (কমপ্লেন রেজিস্টার) মামলায় ৬০৮টি পরোয়ানা ঝুলে আছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ওয়ারেন্ট। বর্তমানে জিআর সাজাপ্রাপ্ত মামলায় ৬১টি এবং সিআর সাজাপ্রাপ্ত মামলায় ২৯৬টি ওয়ারেন্ট মুলতবি রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে পুলিশের ওপর চাপ বাড়ছে ১০০%। প্রতিটি সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা পুলিশের জন্য এখন প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ ১টি ওয়ারেন্ট সফলভাবে নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। একই সাথে আদালত থেকে ১টি জিআর রিকল প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার জিডি নম্বর ৯৭৪। তবে এই সময়ে নতুন করে কোনো জিআর বা সিআর ওয়ারেন্ট থানায় আসেনি। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টের প্রায় ১৯% হলো সিআর সাজা মামলা। এই আসামিরা অনেক সময় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকে, যার ফলে তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অতিরিক্ত জ্বালানি ও সময় ব্যয় হয়। একটি বড় অভিযানে পুলিশের যাতায়াত ও সোর্স মানি বাবদ গড়ে ২০০থেকে৩০০ ডলার খরচ হতে পারে, যা সরকারি বাজেটের অংশ হিসেবে ব্যয় করা হয়।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, মহেশপুর হাইওয়ে এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পাওয়ার পর আমাদের বিশেষ টিম সেখানে হানা দেয় এবং হাতেনাতে ২ জনকে আটক করে। এই অভিযানে পুলিশের সাফল্যে সাধারণ মানুষের আস্থা ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুলিশ আইনের ৩৪ ধারা বা ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৫১ ধারায় গত একদিনে কাউকে গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন পড়েনি, কারণ সরাসরি অপরাধের সাথেই জড়িতদের বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

এছাড়া থানা এলাকায় অপরাধ দমনে ৫টি নন-এফআইআর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে থানায় কোনো অপমৃত্যু বা গুরুতর সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়নি। শৈলকুপার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল টিমগুলো এখন গ্রামে গ্রামে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিশেষ করে হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের লক্ষ্য হলো ঝুলে থাকা ১৫৮৮টি ওয়ারেন্টের অন্তত ১০% আগামী মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

পরিশেষে বলা যায়, শৈলকুপা থানা পুলিশের এই সাম্প্রতিক অভিযান মাদকের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে। ইয়াবাসহ ২ জন নিয়মিত মামলার আসামি এবং সামারি ট্রায়ালে ৪ জনের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি এনেছে। যদিও মুলতবি ওয়ারেন্টের সংখ্যা ১৫৮৮ একটি বড় সংখ্যা, তবুও পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও প্রশাসনিক দক্ষতা এই জট কমিয়ে আনতে সহায়ক হবে। অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে শৈলকুপা থানা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত জনপদে পরিণত হবে বলে এলাকাবাসী প্রত্যাশা করছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ