চাশ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণের আনুষ্ঠানিক সূচনা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সিলেটের সবুজ চা-বাগানগুলোতে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে আমাদের জন্য চা উৎপাদন করেন, সেই শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় বড় এক উদ্যোগ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোদ-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় চাশ্রমিকদের কাজ সহজ করতে এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণের কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজের কার্যালয়ে এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের সবাই যদি একটু একটু করে এগিয়ে আসে, তবে অনেক বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।” মানবিক ও সামাজিক এই উদ্যোগে বেসরকারি খাতকে ১০০% সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা জনকল্যাণে অংশ নিতে চায়, সরকার সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।

বেসরকারি খাতের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর (CSR) তহবিলের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ রেইনকোট সংগ্রহ করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তত্ত্বাবধানে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বাগানগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের মাঝে এসব রেইনকোট বিতরণ করা হবে। বিতরণের মোট সংখ্যা ২০,০০০টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি) দিয়েছে ১০,০০০টি, জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠান শেভরন বাংলাদেশ দিয়েছে ৫,০০০টি এবং পাণ্ডুঘর গ্রুপ সরবরাহ করেছে বাকি ৫,০০০টি রেইনকোট। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১০ জন চাশ্রমিকের শরীরে রেইনকোট পরিয়ে দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় যখন শ্রীমঙ্গলের মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকী রায় চাশ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে এক প্যাকেট খাঁটি চা-পাতা উপহার দেন। সন্তুকী রায় ছাড়াও শান্তি উড়িয়া, মুন্নী কুর্মি, জ্যোৎস্না আক্তার ও রিনা তাঁতীর মতো শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার ফলে তাদের আয়ে টান পড়ে। এখন এই রেইনকোটগুলো তাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং সুস্থ থাকতে ৯৯% সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সহজভাবে তাদের সাথে কথা বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের সাথে থাকতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাপির উপদেষ্টা তপন চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান এবং শেভরন বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তারা ভবিষ্যতে চা-শ্রমিকসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সাথে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বিশেষ করে শীতকালে গরম কাপড় এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে তারা বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন বলে জানান।

এই অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। মন্ত্রীরা জানান, চা-শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি অন্যতম স্তম্ভ। চা-শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো মানেই হলো এই শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। সরকার চা-বাগানগুলোতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখার চিন্তা করছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। সরকার চায় ব্যবসায়ীরা শুধু ব্যবসাই করবে না, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে মানুষের সেবাও করবে। আজকের এই ২০ হাজার রেইনকোট বিতরণ একটি প্রতীকী শুরু মাত্র। পর্যায়ক্রমে দেশের সব চাশ্রমিক যেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পায়, সে ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগের ফলে চা-বাগান এলাকায় খুশির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর এমন হস্তক্ষেপ তাদের অবহেলিত জীবনের মান বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ