সাঘাটায় স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত: রক্ত পরীক্ষা ও ডায়াবেটিস টেস্ট এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয়

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এখন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেন না, তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা (SUS)। আজ এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা এবং সাঘাটা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের নাগালে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার খরচ কমিয়ে আনা।

এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় এখন থেকে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার (SUS) সুপারিশ নিয়ে আসা যে কেউ বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা করাতে পারবেন। বর্তমানে বাজারে একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করাতেও প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়, যা নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য বেশ কষ্টকর। এই চুক্তির ফলে মানুষের পকেটের ১০০% খরচ বেঁচে যাবে। শুধু তাই নয়, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও রোগীরা বিশেষ ছাড় এবং বিশেষ সুবিধা পাবেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বছরে প্রায় $৫,০০০ থেকে $৮,০০০ ডলার সমমূল্যের স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষ কোনো খরচ ছাড়াই ভোগ করতে পারবেন।

সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার পরিকল্পনা আরও অনেক বড়। তারা শুধু উপজেলা সদরে এই সেবা সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদুল ইসলাম মোল্লা রানা জানান, খুব দ্রুতই তারা সাঘাটার ১০টি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করবেন। বর্তমানে সাঘাটার প্রায় ৫৫% মানুষ সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় না করার কারণে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে এই ক্যাম্পগুলো শুরু হলে গ্রামের অসহায় মানুষের যাতায়াত খরচ যেমন বাঁচবে, তেমনি তারা তাদের রোগের অবস্থা সম্পর্কে ১০০% নিশ্চিত হতে পারবেন।

এই মহতী কাজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার পক্ষে ফাহমিদুল ইসলাম মোল্লা রানা এবং সাঘাটা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পক্ষে পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সই করার পর মোঃ রফিকুল ইসলাম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে মানুষের সেবা করা আমাদের কাছে বড়। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ যেন সঠিক রিপোর্ট পায় এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।” তিনি ল্যাবের মান ও নির্ভুলতা নিয়ে ১০০% নিশ্চয়তা প্রদান করেন যাতে রোগীরা কোনোভাবেই বিভ্রান্ত না হন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রী জয় চন্দ্র বিলাশ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান। তারা জানান, তাদের ভলান্টিয়াররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের খুঁজে বের করবেন। এতে করে দালালের দৌরাত্ম্য প্রায় ০% এ নেমে আসবে এবং প্রকৃত অভাবী মানুষরা সরাসরি সুবিধা পাবেন। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে সাঘাটার স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা (SUS) দীর্ঘ দিন ধরেই এলাকায় শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছে। তবে এবারের স্বাস্থ্য বিষয়ক চুক্তিটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় একজন কৃষকের মতে, “রক্ত পরীক্ষা করতে গেলেই ডাক্তাররা অনেক টাকা চান, এখন ফ্রিতে করতে পারলে আমাদের মতো গরিবদের অনেক উপকার হবে।” পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গ্রামীণ এলাকায় সঠিক স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকায় প্রায় ২০% মানুষ ভুল চিকিৎসার শিকার হন। এই ধরনের সমঝোতা চুক্তি সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পরিশেষে, সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে তারা ভবিষ্যতে আরও বড় পদক্ষেপ নেবেন। তাদের এই নিঃস্বার্থ কাজে তারা সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার, আর সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় SUS এবং সাঘাটা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এই যৌথ প্রয়াস সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এর ফলে সাঘাটার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মান আগের চেয়ে অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ