আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বর্ণাঢ্য ও বিশাল যুব র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালীগঞ্জ উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত তরুণের উপস্থিতি শহরজুড়ে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ঠিক ৫টা ৩০ মিনিটে কালীগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে এই র্যালিটি শুরু হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
এই বিশাল র্যালির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কালীগঞ্জ উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মনিরুজ্জামান মিঠু। তার সুশৃঙ্খল নির্দেশনায় হাজারো যুবক সুসংগঠিতভাবে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। র্যালিটি যখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো অতিক্রম করছিল, তখন চারপাশ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের উপজেলা সেক্রেটারি হাসানুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি ঈশা খান। এছাড়া যুব জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিপুলসংখ্যক তরুণ এই আয়োজনে যোগ দেন।
আয়োজকরা র্যালিতে যুবকদের বর্তমান অবস্থা এবং দেশের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩% এর বেশি হলো যুবসমাজ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি নৈতিকতা এবং আধুনিক শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা না যায়, তবে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ যুবক শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছে। যদি এই যুবকদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বর্তমানের চেয়ে আরও ২% থেকে ৩% বাড়ানো সম্ভব হবে। তারা তরুণদের মাদকের মরণনেশা থেকে দূরে থেকে দেশ গড়ার কাজে ১০০% আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারী যুবকদের হাতে ছিল নানা সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন। সেখানে লেখা ছিল যুবকদের অধিকার এবং নৈতিক চরিত্র গঠনের নানা বার্তা। মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজন যুবক জানান, তারা কোনো হুজুগে নয়, বরং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এই র্যালিতে এসেছেন। তারা মনে করেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের নীরব থাকার সুযোগ নেই। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে যারা প্রবাসে গিয়ে বছরে শত কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখছেন, সেই যুবকদের অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও সচেতন হওয়ার দাবি জানান তারা।
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপজেলা সভাপতি মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, তরুণরা হলো জাতির মেরুদণ্ড। একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে হলে আগে যুবকদের চরিত্র ঠিক করতে হবে। নৈতিক স্খলন হলে কোনো জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.২ বিলিয়ন যুবক রয়েছে, যাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে পুরো পৃথিবীর চেহারা বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশেও এই যুবশক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে জামায়াতে ইসলামী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা চান এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে, যারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের সেবা করবে।
র্যালিটি পুরো শহর প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় মেইন বাসস্ট্যান্ডে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশ থেকে নেতারা ঘোষণা দেন যে, তারা আগামীতে কালীগঞ্জের যুবকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া যারা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে, তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার আশ্বাস দেন নেতৃবৃন্দ। সাধারণ মানুষ এই শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল র্যালির প্রশংসা করেছেন। পুরো কর্মসূচি চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলস কাজ করেছেন।
সবশেষে বলা যায়, কালীগঞ্জের এই যুব র্যালিটি কেবল একটি দিবস পালন ছিল না, বরং এটি ছিল তরুণদের জাগরণের এক বার্তা। আয়োজকরা মনে করেন, যুবকদের হাত ধরেই বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দক্ষতা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই তরুণরাই দেশের অর্থনীতির চেহারা বদলে দেবে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দেবে। আজকের এই আয়োজন সেই স্বপ্নেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।
















