শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএ নাকি ম্যানেজিং কমিটির হাতে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা, আর সেই মেরুদণ্ড শক্ত রাখার মূল কারিগর হলেন শিক্ষকরা। একজন যোগ্য, মেধাবী ও আদর্শ শিক্ষক কেবল একটি শ্রেণিকক্ষই পরিচালনা করেন না, তিনি একটি সুন্দর সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রূপকার হিসেবেও কাজ করেন। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

একসময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সম্পূর্ণ ক্ষমতা ছিল স্থানীয় পরিচালনা পর্ষদ বা ‘ম্যানেজিং কমিটি’র হাতে। কিন্তু সেই ব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর, ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ’ বা এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর হাতে। এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত হলেও, দীর্ঘসূত্রিতা ও নানা জটিলতার কারণে এটিও এখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মহল থেকে আবারও দাবি উঠছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার। অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরা এর তীব্র বিরোধিতা করছেন। বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একটি বড় প্রশ্ন আমাদের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ আসলে কার হাতে থাকা উচিত? এনটিআরসিএ নাকি ম্যানেজিং কমিটি? আজ আমরা অত্যন্ত সহজ ও সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুই ব্যবস্থার সুবিধা, অসুবিধা এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করব।

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ: অতীত অভিজ্ঞতা

২০১৫ সালের আগে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে। এই ব্যবস্থার কিছু সুবিধা থাকলেও, এর নেতিবাচক দিকগুলোই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।

স্থানীয়দের অগ্রাধিকার ও দ্রুত নিয়োগ

ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা থাকার একটি বড় সুবিধা ছিল নিয়োগের দ্রুততা। কোনো স্কুলে একজন শিক্ষকের পদ শূন্য হলে, ম্যানেজিং কমিটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়েক মাসের মধ্যেই একজন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারত। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খুব একটা ক্ষতি হতো না। এছাড়া, স্থানীয় প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হতো বলে শিক্ষকরা নিজ এলাকায় থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে শিক্ষকতা করতে পারতেন। এতে শিক্ষকদের থাকা-খাওয়ার বা যাতায়াতের খুব একটা সমস্যা হতো না।

দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও মেধার অবমূল্যায়ন

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সবচেয়ে বড় এবং ভয়ংকর দিকটি ছিল লাগামহীন দুর্নীতি ও ‘নিয়োগ বাণিজ্য’। সে সময় শিক্ষকতার যোগ্যতা বা মেধা কোনো বড় বিষয় ছিল না; যার পকেটে টাকা আছে অথবা যার মামা-চাচার জোর আছে, চাকরি তার জন্যই বরাদ্দ ছিল। একটি সাধারণ শিক্ষকের পদের জন্য ৫ লাখ থেকে শুরু করে ১৫-২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ছিল ওপেন সিক্রেট।

স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজশে এই টাকার ভাগবাঁটোয়ারা হতো। অনেক সময় নামমাত্র পরীক্ষা নেওয়া হতো শুধু আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য, কিন্তু কে চাকরি পাবে তা আগে থেকেই টাকার বিনিময়ে ঠিক করা থাকত। এর ফলে একজন মেধাবী, সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দিনের পর দিন ঘুরেও চাকরি পেতেন না। টাকার বিনিময়ে অযোগ্য লোক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। এই নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে সাধারণ মানুষের মনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছিল।

এনটিআরসিএ-এর আগমন: মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের নতুন যুগ

ম্যানেজিং কমিটির এই লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে সরকার ২০১৫ সালে এনটিআরসিএ-কে নিয়োগের সুপারিশ করার ক্ষমতা প্রদান করে। এটি ছিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন

এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দেশের দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের মেধাবী সন্তানেরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। বিসিএস (BCS) বা অন্যান্য সরকারি চাকরির মতো এখানেও প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা যাচাই করা হয়। এরপর জাতীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর মেধা ছাড়া অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না। গ্রামের একজন সাধারণ কৃষকের ছেলেও নিজের যোগ্যতায় বিনা ঘুষে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পায়। মেধার এই মূল্যায়নের ফলে স্কুল-কলেজগুলোতে অপেক্ষাকৃত তরুণ, উদ্যমী ও যোগ্য শিক্ষকরা প্রবেশ করতে শুরু করেন, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

আর্থিক দুর্নীতির লাগাম টানা

এনটিআরসিএ-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক দুর্নীতি বা ঘুষ বাণিজ্যকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এখন আর কোনো প্রার্থীকে চাকরি পাওয়ার জন্য জমি বিক্রি করে বা ধারদেনা করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে লাখ লাখ টাকা দিতে হয় না। এটি সমাজের জন্য একটি বিশাল স্বস্তির বিষয়। শিক্ষকরা এখন মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে স্কুলে প্রবেশ করতে পারেন, কারণ তারা জানেন এই চাকরি তারা কারো দয়ায় নয়, নিজের যোগ্যতায় পেয়েছেন।

এনটিআরসিএ-এর বর্তমান সংকট ও সীমাবদ্ধতা

দুর্নীতি বন্ধ করার ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ শতভাগ সফল হলেও, তাদের কাজের ধরন এবং ব্যবস্থাপনায় এত বেশি ত্রুটি ও দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে যে, এটি এখন চাকরিপ্রার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উভয়ের জন্যই এক চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘসূত্রিতা ও শূন্য পদ পূরণে বিলম্ব

এনটিআরসিএ-এর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো তাদের কাজের ধীরগতি। একটি নিয়োগ চক্র (Cycle) শেষ করতে তারা বছরের পর বছর সময় লাগিয়ে দেয়। শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ, গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ এবং চূড়ান্ত সুপারিশ এই পুরো প্রক্রিয়ায় কখনো কখনো ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে। ধরুন, একটি স্কুলে অংকের শিক্ষক অবসরে গেছেন। স্কুলটির এখনই একজন অংকের শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু এনটিআরসিএ-এর দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ওই স্কুলটিকে নতুন শিক্ষক পেতে ৩ বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই ৩ বছর স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অংক শিখতে পারছে না, তাদের পড়াশোনার অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।

বদলি সমস্যা ও দূরবর্তী পদায়ন

এনটিআরসিএ জাতীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কারণে একজন প্রার্থীর পোস্টিং বা পদায়ন অনেক সময় তার নিজ জেলা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে হয়। পঞ্চগড়ের একজনকে হয়তো পোস্টিং দেওয়া হয় রাঙ্গামাটিতে বা ভোলায়। আমাদের দেশের এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষকদের বেতন কাঠামো খুবই সামান্য। শুরুর দিকে একজন শিক্ষক মাত্র ১২-১৩ হাজার টাকা বেতন পান। এই সামান্য টাকা দিয়ে বাড়ি থেকে এত দূরে গিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা এবং নিজের সংসার চালানো একজন শিক্ষকের পক্ষে আক্ষরিক অর্থেই অসম্ভব।

অথচ এনটিআরসিএ এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের জন্য কোনো সুষ্ঠু ‘বদলি বা ট্রান্সফার’ ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি। এর ফলে অনেক শিক্ষক চরম হতাশা নিয়ে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন, আবার অনেকেই বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দূরবর্তী পোস্টিংয়ের কারণে নারী শিক্ষকদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।

বর্তমান বিতর্ক: ক্ষমতা কার হাতে থাকা উচিত?

সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং এনটিআরসিএ-এর দীর্ঘসূত্রিতার অজুহাত দেখিয়ে একটি মহল শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি তুলছে। এই নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি ও শঙ্কা

যারা ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা চাইছেন, তাদের প্রধান যুক্তি হলো—স্কুলের শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন, যা এনটিআরসিএ পারছে না। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকে তাদের নিজেদের শিক্ষক বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া উচিত।

কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষাবিদরা এই দাবির মধ্যে এক ভয়ংকর অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছেন। মানুষের শঙ্কা, ক্ষমতা আবার ম্যানেজিং কমিটির হাতে গেলে সেই পুরোনো ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব ফিরে আসবে। স্কুলের সভাপতিরা আবার নিজেদের আত্মীয়স্বজন বা টাকা দেওয়া অযোগ্য লোকদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেবেন। মেধার মূল্যায়ন আবার টাকার কাছে হেরে যাবে। একটি দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে পুনরায় দুর্নীতির দরজা খুলে দেওয়া কোনোভাবেই একটি সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না।

চাকরিপ্রার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ

এনটিআরসিএ-তে নিবন্ধিত লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার তরুণ এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা রাজপথে আন্দোলন করছেন। তাদের বক্তব্য পরিষ্কার—তারা মেধা দিয়ে পরীক্ষা পাস করেছেন, এখন যদি ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির কাছে চলে যায়, তবে তাদের মেধার কোনো মূল্য থাকবে না। যাদের টাকা নেই, তারা কখনোই চাকরি পাবেন না। তরুণ প্রজন্ম কোনোভাবেই মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল করে ঘুষভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না।

সমাধানের উপায়: একটি কার্যকর ও যুগোপযোগী নিয়োগ ব্যবস্থা

বাস্তবতা হলো, ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া মানে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। আবার এনটিআরসিএ-এর বর্তমান কচ্ছপ গতির ব্যবস্থাও মেনে নেওয়ার মতো নয়। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের মাঝামাঝি একটি বাস্তবসম্মত ও আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এনটিআরসিএ-কে আরও গতিশীল করা

এনটিআরসিএ-কে বাতিল না করে এটিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি (PSC) যেভাবে প্রতি বছর নিয়মিত বিসিএস পরীক্ষা নেয়, এনটিআরসিএ-কেও ঠিক একইভাবে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার বা রুটিন মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ থেকে শুরু করে নিয়োগ দেওয়া পর্যন্ত পুরো কাজ এক বছরের মধ্যে শেষ করতে হবে, যাতে স্কুলগুলো শিক্ষক সংকটে না ভোগে।

বিকেন্দ্রীকরণ বা জোনাল নিয়োগ ব্যবস্থা

দূরবর্তী পদায়নের সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ ব্যবস্থাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। অর্থাৎ, সারা দেশকে কয়েকটি জোনে (Zone) বা বিভাগে ভাগ করে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। একজন প্রার্থী যে বিভাগের, তাকে সেই বিভাগের আশেপাশেই নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও সহজ ‘বদলি নীতিমালা’ দ্রুত কার্যকর করতে হবে, যাতে তারা নির্দিষ্ট সময় পর নিজ এলাকায় বদলি হয়ে আসতে পারেন।

শিক্ষা কমিশনের অধীনে নিয়োগ

অনেক শিক্ষাবিদ মনে করেন, এনটিআরসিএ-এর বদলে একটি স্বতন্ত্র ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন’ (Non-Government Teacher Selection Commission) গঠন করা উচিত। এই কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, তা নির্ভর করে সে দেশের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর। “শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএ নাকি ম্যানেজিং কমিটির হাতে”—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমাদের আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, ম্যানেজিং কমিটির হাতে ক্ষমতা থাকা মানেই নিয়োগের নামে লক্ষ লক্ষ টাকার বাণিজ্য এবং মেধাকে গলা টিপে হত্যা করা। আমরা কোনোভাবেই সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে পারি না।

অন্যদিকে, এনটিআরসিএ আমাদের মেধাভিত্তিক নিয়োগের যে স্বপ্ন দেখিয়েছে, দীর্ঘসূত্রিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে তা এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে চলেছে। তবে মাথা ব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়, তেমনি এনটিআরসিএ-এর ত্রুটি আছে বলে পুরো মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেওয়া চরম বোকামি হবে। আমাদের এখন প্রয়োজন এনটিআরসিএ-এর কাঠামোগত সংস্কার, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনা এবং শিক্ষকদের বদলি সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। দেশের আপামর জনসাধারণ, মেধাবী চাকরিপ্রার্থী এবং শিক্ষাবিদদের একটাই প্রত্যাশা শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই যেন দুর্নীতিবাজদের হাতে ফিরে না যায়। মেধার জয় হোক, কারণ মেধাবী শিক্ষকেরাই পারবেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ উপহার দিতে।


সম্পর্কিত নিবন্ধ