শৈলকুপায় ১৬ পিস ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আদর শেখ গ্রেফতার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আদর শেখ (৩৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার হাটফাজিলপুর বাজারের ছাগলহাটার চান্দিঘর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আদর শেখ ওই গ্রামেরই মৃত আমির শেখের ছেলে। এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন শৈলকুপা থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাটফাজিলপুর বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র গোপনে মাদক কেনাবেচা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, ছাগলহাটার চান্দিঘরে মাদকের একটি ছোট চালান হাতবদল হবে। খবর পাওয়া মাত্রই ওসির নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল সেখানে অবস্থান নেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আদর শেখকে ধরে ফেলেন পুলিশ সদস্যরা। পরে তার দেহ তল্লাশি করে পকেট থেকে নীল রঙের প্লাস্টিকের ভেতর রাখা ১৬ পিস মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আদর শেখ এলাকায় একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। সে মূলত খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করত। বর্তমান বাজারে এক পিস ইয়াবার দাম কয়েকশ টাকা হওয়ায় এই ১৬ পিস ইয়াবার বাজারমূল্য প্রায় ৫০০০ টাকা বা তার বেশি। এই কারবারে যুক্ত হয়ে অপরাধীরা প্রায় ২০০% থেকে ৩০০% পর্যন্ত লাভ করে থাকে, যা তরুণ সমাজকে এই অন্ধকার পথে টেনে আনছে। আদর শেখ গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা চান যেন এই বিষাক্ত নেশার ছোবল থেকে তাদের সন্তানদের রক্ষা করা হয়।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা এই বিষয়ে বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদক ব্যবসায়ী সে যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আসামিকে থানায় আনা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, এই চক্রের পেছনে আর কারা জড়িত আছে এবং কার কাছ থেকে এই মাদক সরবরাহ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। মাদক নির্মূলে পুলিশ ১০০% তৎপর রয়েছে বলে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করেন।

শৈলকুপা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এবং গ্রামে মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতাও প্রয়োজন। মাদক ব্যবসার লেনদেনে অনেক সময় অবৈধভাবে আসা বিদেশি ডলার ($) বা হুন্ডির টাকা ব্যবহার হয় কিনা, সেদিকেও নজর দিচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ।

এলাকাবাসীর দাবি, হাটফাজিলপুর বাজারের মতো ব্যস্ত জায়গায় যেখানে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, সেখানে মাদক কেনাবেচা হওয়া খুবই উদ্বেগের বিষয়। তবে পুলিশের এই তাৎক্ষণিক অভিযানে অপরাধী ধরা পড়ায় পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। আদর শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকের কোনো পুরনো রেকর্ড আছে কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী আসামিকে দ্রুতই আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শৈলকুপা থানা পুলিশ নিয়মিত এ ধরনের ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করবে। ওসি মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা জনগণকে অনুরোধ করেছেন, এলাকায় যদি কেউ মাদক বিক্রি বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে নির্ভয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে থাকবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ