রাজধানীর অন্যতম সেরা ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটির অনুমোদন দেয়। নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী একে মোস্তাফিজুর রহমান হিরু। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা মনে করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির হারানো গৌরব আবারও ফিরে আসবে।
ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট রাজনীতিক মির্জা আব্বাস এর সুপারিশের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ৪ সদস্য বিশিষ্ট এই এডহক কমিটিকে আগামী ৬ মাসের জন্য দায়িত্ব প্রদান করেছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হবে এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সভাপতি একে মোস্তাফিজুর রহমান হিরু একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। শিক্ষার প্রসারে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আইডিয়াল স্কুলের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাধারণ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ একটি বিদ্যাপিঠ। বর্তমানে এই স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ এর বেশি। অর্থাৎ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন অন্তত ৬০,০০০ অভিভাবক। শুধু তাই নয়, এখানে প্রায় ১,০০০ জন শিক্ষক এবং কর্মচারী কর্মরত আছেন। এত বিশাল সংখ্যক মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং শিক্ষা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছরে নানা কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম কিছুটা ক্ষুন্ন হলেও ১০০% পাসের হার এবং ভালো ফলাফল ধরে রাখার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন কমিটির প্রধান কাজ।
নতুন সভাপতি একে মোস্তাফিজুর রহমান হিরু দায়িত্ব পাওয়ার পর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু এক বিবৃতিতে এই আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আইডিয়াল স্কুলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন যোগ্য নেতৃত্বের খুব প্রয়োজন ছিল। একে মোস্তাফিজুর রহমান হিরু সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি একজন শিক্ষানুরাগী মানুষ, তার হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠানের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।”
জিয়াউল কবির দুলু আরও আশা প্রকাশ করেন যে, নবগঠিত এডহক কমিটি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে শুধু শিক্ষার মান উন্নয়নের দিকে নজর দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, স্কুলের সাধারণ অভিভাবকদের অনেক দিনের দাবি ছিল একটি স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন। বিশেষ করে ভর্তি প্রক্রিয়া এবং উন্নয়নমূলক কাজে যেন ১০০% স্বচ্ছতা বজায় থাকে, সেই বিষয়টি নতুন কমিটির অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা উচিত। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষকদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষার পরিবেশ দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই এডহক কমিটি আগামী ১৮০ দিনের (৬ মাস) জন্য দায়িত্ব পালন করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা নিয়মিত গভর্নিং বডি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংক্ষিপ্ত সময়েই সভাপতি হিরুকে কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশেষ করে স্কুলের ল্যাবরেটরি উন্নয়ন, ডিজিটাল ক্লাসরুমের সুবিধা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া স্কুলের উন্নয়ন তহবিলের কয়েক কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও একটি বড় দায়িত্ব। অভিভাবকরা চান, তাদের দেয়া টিউশন ফি’র প্রতিটি পয়সা যেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে ব্যয় হয়।
আইডিয়াল স্কুলের অতীত ঐতিহ্য বেশ সমৃদ্ধ। একটা সময় ছিল যখন এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের প্রথম ১০টি স্থানের মধ্যে এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের জয়জয়কার থাকত। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সময়ে সেই গৌরব পুনরুদ্ধার করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। নতুন কমিটির সদস্যরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করেন এবং সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের দিকনির্দেশনা মেনে চলেন, তবে কোনো বাধাই টিকবে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর ধরে যেসব প্রশাসনিক জটিলতা ঝুলে ছিল, এখন সেগুলো সমাধানের পথ প্রশস্ত হলো।
পরিশেষে, নবনিযুক্ত সভাপতি একে মোস্তাফিজুর রহমান হিরুর প্রতি সকল মহলের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তিনি যেন দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে শুধুমাত্র শিক্ষার প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দেন, এটাই সাধারণ মানুষের চাওয়া। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, হিরুর নেতৃত্বে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ তার পুরনো জৌলুস ফিরে পাবে এবং দেশের শিক্ষা খাতে আবারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। শিক্ষা বোর্ডের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে অভিভাবকরা ৫ তারকার রেটিং দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন এবং তারা এই নতুন যাত্রায় পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
















