সরকারি রুগ্ণ শিল্প বাঁচাতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এক বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ, রুগ্ণ ও অলাভজনক শিল্পকারখানাগুলোর জমি ও অবকাঠামো কাজে লাগাতে চায় তারা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার তেজগাঁওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই পুরোনো কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এর আগেও আরও দুটি বৈঠক করেছেন।

বৈঠকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “একটি রাজনৈতিক সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথ তৈরি করা। একা সরকারের পক্ষে এই বিশাল কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। আসুন, আমরা সবাই মিলে পরিবর্তন আনি। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।”

সরকারের পাঁচটি বড় সংস্থার চেয়ারম্যানরা বৈঠকে তাদের কারখানাগুলোর বর্তমান করুণ চিত্র এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি), ইস্পাত শিল্প করপোরেশন (বিএসইসি), পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) এবং বস্ত্রকল করপোরেশন (বিটিএমসি)। বিজেএমসি জানিয়েছে, তাদের ২৫টি কারখানার বেশির ভাগকেই এখন ইজারা বা নতুন বিনিয়োগের আওতায় আনার কাজ চলছে। বিশেষ করে ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস ও করিম জুট মিলসকে বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিটিএমসি তাদের ১৬টি কারখানাকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় বিনিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুত করেছে।

বিএসইসির অধীন বগুড়ায় একটি নতুন স্টিল মিল প্রকল্পে ১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা বা প্রায় ১৬০ মিলিয়ন ডলার ($) বিনিয়োগের একটি বড় প্রস্তাব রয়েছে। এটি চালু হলে বছরে ৩ লাখ টন রড উৎপাদন সম্ভব হবে, যা দেশের নির্মাণ খাতে বড় অবদান রাখবে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের বিশাল জায়গায় আধুনিক অটোমোবাইল হাব ও বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা জানায় বিএসইসি। বিএসএফআইসি তাদের পঞ্চগড়, সেতাবগঞ্জ ও পাবনা চিনিকলের বিশাল জমিকে নতুন শিল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্পগোষ্ঠীর প্রধানরা অংশ নেন। এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেসের এমডি তামারা হাসান আবেদ এবং স্কয়ার ফুডের সিইও পারভেজ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। জাপানের মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা এবং এমইউএফজি ব্যাংকের মতো বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই রোডশোতে অংশ নেন।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কৃষি ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে বিপ্লব চান। আমরা ইতিমধ্যে কয়েকটি কারখানা নিয়েছি এবং আরও নিতে চাই।” ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, “বন্ধ কারখানাগুলো চালু হলে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশের রপ্তানি বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী যেকোনো খাতে বিনিয়োগে সরকারের নীতিসহায়তা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা অত্যন্ত উৎসাহজনক।” ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজেস তেল ও চিনির ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। নাবিল গ্রুপের এমডি মো. আমিনুল ইসলাম সেতাবগঞ্জ ও রাজশাহী চিনিকল নিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা বৈঠকে জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ যদি ১০০% সফল হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে। প্রতি বছর রুগ্ণ কারখানার পেছনে সরকারের যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ($) লোকসান হয়, তা বন্ধ হবে এবং উল্টো এখান থেকে বিপুল রাজস্ব আয় হবে। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ