ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর, অবাক করা এবং লজ্জাজনক এক ঘটনা ঘটেছে। ভাসুরের ছেলের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে। স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে এখন হাটে-বাজারে শুধুই এই খবর। গত ৯ জুন রাতের অন্ধকারে ওই গৃহবধূ তার ভাসুরের ছেলে অর্থাৎ সম্পর্কের আপন ভাতিজা হাসানের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা ও তীব্র সমালোচনা চলছে। সাধারণ মানুষ এমন অনৈতিক সম্পর্ককে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা বলছেন, সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সত্যিই ভাবিয়ে তোলার মতো।
ভুক্তভোগী স্বামীর নাম সানজেদুর রহমান ওরফে ছল্টু জোয়ার্দার। তিনি গবরাপাড়া গ্রামের একজন সাধারণ ও পরিশ্রমী বাসিন্দা। সানজেদুর রহমান জানান, আজ থেকে প্রায় আট বছর আগে রুমানা ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক অত্যন্ত পারিবারিকভাবে ও ধুমধাম করে তার বিয়ে হয়। দীর্ঘ আট বছরের এই দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানও রয়েছে। একটি সাজানো গোছানো সুন্দর সংসার ছিল তাদের। কিন্তু জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সানজেদুরকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে কাজে থাকতে হতো। আর স্বামীর এই অনুপস্থিতির সুযোগটাই খুব সুকৌশলে কাজে লাগিয়েছে আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান। চাচির সঙ্গে ভাতিজা হাসানের এক অবৈধ ও চরম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আজকাল স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের অবাধ অপব্যবহারের কারণে সমাজে এমন পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্কের হার আগের চেয়ে প্রায় ৪০% থেকে ৫০% বেড়ে গেছে।
স্ত্রীর এই অবৈধ সম্পর্কের কথা একপর্যায়ে স্বামী সানজেদুর রহমান লোকমারফত জেনে যান। তিনি পারিবারিকভাবে এর তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং স্ত্রীকে ওই খারাপ পথ থেকে ফিরে আসতে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু স্ত্রী রুমানা তার কোনো কথাই কানে তোলেননি। উল্টো প্রতিবাদ করায় সানজেদুরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকির সম্মুখীন হতে হয় বলে তিনি দাবি করেন। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৯ জুন রাতে রুমানা তার ৫ বছরের ছোট অবুঝ মেয়ে এবং স্বামীকে ফেলে রেখে প্রেমিক ভাতিজার হাত ধরে বাড়ি থেকে চিরতরে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি একেবারে খালি হাতে যাননি, বরং স্বামীর সারা জীবনের জমানো সম্পদ নিয়ে গেছেন। সানজেদুর অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী বাড়ি ছাড়ার সময় ঘরের আলমারি ভেঙে জমানো প্রায় তিন লাখ টাকা নগদ অর্থ নিয়ে গেছেন।
শুধু নগদ তিন লাখ টাকাই নয়, রুমানা তার সঙ্গে করে প্রায় তিন ভরি ওজনের দামি স্বর্ণালংকারও লুট করে নিয়ে গেছেন বলে স্বামী অভিযোগ করেছেন। এই স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল এক জোড়া স্বর্ণের রুলি, দামি কানের দুল, চুড়ি, একটি গলার চেইন এবং একটি আংটি। বর্তমান বাজারে নগদ টাকা এবং এই স্বর্ণের মোট মূল্য হিসাব করলে তা অনায়াসেই প্রায় ৬,০০০থেকে৭,০০০ (ডলার) বা সাত থেকে আট লাখ টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। স্বামীর তিল তিল করে জমানো এই বিশাল সম্পদ নিয়ে স্ত্রী উধাও হয়ে যাওয়ায় সানজেদুর এখন আর্থিকভাবে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন। একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এক রাতে এত বড় আর্থিক ক্ষতি সামলে ওঠা ১০০% অসম্ভব ব্যাপার।
স্থানীয় লোকজন জানান, এর আগেও এই চাচি ও ভাতিজার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়েছিল। তখন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামের মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠক করে বিষয়টির একটি সাময়িক সমাধান করা হয়। সালিশের পর তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আবার নিজ নিজ পরিবারে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের দুজনের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় প্রেমিক হাসানের বাবাও চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তিনি জানান, ছেলের এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডে তারা সামাজিকভাবে চরম মানহানির শিকার হচ্ছেন, মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না। তিনি অনেকবার ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নানা কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। তিনি এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও সামাজিকভাবে নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।
পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই হাসান ও রুমানার ব্যবহৃত সব কটি মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সাথে যোগাযোগের কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার এখন আইনি সহায়তা নেওয়ার জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে। দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, একটি পবিত্র পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে এমন জঘন্য ঘটনা সমাজে সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। এটি সমাজের অন্যান্য মানুষের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, হরিণাকুণ্ডু থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার রায় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষের তরফ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের খুঁজে বের করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বর্তমানে ৫ বছরের ওই অবুঝ শিশুটি তার মায়ের জন্য দিনরাত কান্নাকাটি করছে, যা দেখে পাড়া-প্রতিবেশীদেরও চোখ ভিজে যাচ্ছে। মায়ের এমন নিষ্ঠুর সিদ্ধান্তে শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
















