আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শৈলকুপায় বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। বিজ্ঞানের ছোঁয়া ছাড়া আধুনিক পৃথিবীর এক মুহূর্তও কল্পনা করা অসম্ভব। একটি দেশ বা জাতি সামনের দিকে কতটা দ্রুত এগিয়ে যাবে, তা নির্ভর করে সেই দেশের নতুন প্রজন্ম কতটা বিজ্ঞানমনস্ক ও উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী তার ওপর। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জেলা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা মূলত একটি কৃষিপ্রধান শান্ত জনপদ। এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত সহজ-সরল। তবে এই সহজ-সরল গ্রামীণ পরিবেশের মাঝেও লুকিয়ে আছে অনেক প্রতিভা। সম্প্রতি শৈলকুপায় এক উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অত্যন্ত চমৎকার বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শৈলকুপা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই বিজ্ঞান মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। এই বর্ণাঢ্য আয়োজন শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, বরং পুরো শৈলকুপাবাসীর মনে এক নতুন উদ্দীপনা ও আশার আলো জাগিয়েছে।

শৈলকুপায় বিজ্ঞান মেলার গুরুত্ব ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

শৈলকুপার মতো মফস্বল এলাকায় বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। সাধারণত আমাদের দেশের গ্রামের স্কুলগুলোতে ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগারের খুব একটা সুবিধা থাকে না। ফলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষা অনেক সময়ই কেবল বইয়ের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। বিজ্ঞানের কঠিন সূত্রগুলো তারা মুখস্থ করে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখার বা করার সুযোগ খুব কমই পায়। এই ধরনের বিজ্ঞান মেলা সেই ঘাটতি পূরণে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। এটি শিক্ষার্থীদের সামনে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয়, যেখানে তারা নিজেদের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারে। শহরের দামি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মতো শৈলকুপার সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরাও যে মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তিতে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই, এই মেলা তারই এক বড় প্রমাণ।

আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের মহতী উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা

যেকোনো বড় ও ভালো কাজের জন্য একজন সঠিক পথপ্রদর্শক বা পৃষ্ঠপোষকের প্রয়োজন হয়। শৈলকুপায় বিজ্ঞান মেলার এই বিশাল আয়োজনের পেছনের মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন মাননীয় আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি শুধু রাজনীতির মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং নিজ এলাকার তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশেও যে তিনি কতটা আন্তরিক, এই মেলার মাধ্যমে তিনি তা প্রমাণ করেছেন। তাঁর এই মহতী পৃষ্ঠপোষকতার কারণে মেলাটি একটি অন্যরকম মাত্রা পেয়েছে। সাধারণত আমরা দেখি, রাজনৈতিক নেতারা রাস্তাঘাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেই বেশি নজর দেন। কিন্তু মেধা ও মননের বিকাশে বিজ্ঞান মেলার মতো একটি আয়োজনে আইনমন্ত্রীর এই সরাসরি সম্পৃক্ততা সাধারণ মানুষের মনে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তৈরি করেছে।

উপজেলা প্রশাসনের চমৎকার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা

আইনমন্ত্রীর নির্দেশনায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই মেলাকে সফল করতে শৈলকুপা উপজেলা প্রশাসন যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পুরো মেলার ব্যবস্থাপনা করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এই মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। মেলা প্রাঙ্গণকে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের প্রজেক্টগুলো প্রদর্শনের জন্য আলাদা আলাদা স্টলের ব্যবস্থা করা হয়। বিচারক প্যানেল থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার দিকটিও প্রশাসন খুব চমৎকারভাবে সামলেছে, যার কারণে মেলায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চোখে পড়েনি।

খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চমক ও প্রজেক্ট প্রদর্শন

বিজ্ঞান মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং চোখজুড়ানো দিক ছিল স্কুল-কলেজ পড়ুয়া খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী প্রজেক্টগুলো। গ্রামের সাধারণ ছেলেমেয়েরা তাদের স্বল্প সামর্থ্য আর অসীম মেধা দিয়ে এমন সব প্রজেক্ট তৈরি করেছে, যা দেখে উপস্থিত দর্শনার্থীরা রীতিমতো অবাক হয়েছেন। কেউ বানিয়েছে পরিবেশবান্ধব স্মার্ট সিটির মডেল, কেউবা তৈরি করেছে কৃষি জমিতে স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা বা রোবটিক্স গাড়ি। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানি বিশুদ্ধকরণের ওপর চমৎকার সব মডেল উপস্থাপন করেছে শিক্ষার্থীরা। যখন এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দর্শনার্থীদের কাছে তাদের প্রজেক্টের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিচ্ছিল, তখন সত্যিই মনে হচ্ছিল—এই শিশুরাই একদিন বাংলাদেশের মুখ বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করবে।

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরির সুযোগ

আমাদের বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ আজ স্মার্টফোন, ইন্টারনেট আর ভিডিও গেমসে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। অনেক তরুণ অলস সময় কাটিয়ে বিপথগামী হচ্ছে। এই ধরনের বিজ্ঞান মেলা তরুণদের সেই অলসতা থেকে বের করে এনে সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার একটি দারুণ উপায়। যখন কোনো শিক্ষার্থী একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে, তখন তাকে অনেক পড়াশোনা করতে হয়, নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে হয় এবং সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজতে হয়। এটি তাদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করে এবং যুক্তিবাদী হতে শেখায়। মেলার এই কয়েকটা দিন শৈলকুপার তরুণরা আড্ডা বা গেমসের জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে বিজ্ঞানের এক নতুন জাদুকরী জগতে প্রবেশ করেছিল।

কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূরীকরণে বিজ্ঞানের প্রসার

আমাদের গ্রামীণ সমাজে এখনো অনেক সময় নানা ধরনের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস ও অবৈজ্ঞানিক রীতিনীতি দেখতে পাওয়া যায়। মানুষ অনেক সময় সামান্য অসুখ-বিসুখে ডাক্তারের কাছে না গিয়ে কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে। সমাজে বিজ্ঞানের প্রসার ঘটলে মানুষের এই অন্ধবিশ্বাসগুলো এমনিতেই দূর হয়ে যায়। বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করা এই শিক্ষার্থীরা যখন বড় হবে, তখন তারা কোনো কিছু অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে যুক্তি দিয়ে বিচার করতে শিখবে। এই খুদে বিজ্ঞানীরাই নিজেদের পরিবার ও সমাজের মানুষকে সচেতন করবে। তাই একটি সুস্থ ও আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।

উপসংহার

পরিশেষে নির্দ্বিধায় বলা যায়, আইন মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামানের পৃষ্ঠপোষকতায় ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শৈলকুপায় অনুষ্ঠিত এই বিজ্ঞান মেলাটি ছিল একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও শতভাগ সফল আয়োজন। এটি শুধু একটি একদিনের উৎসব ছিল না, বরং এটি ছিল শৈলকুপার আগামী প্রজন্মের জন্য বোনা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের বীজ। যে জাতি বিজ্ঞান ও গবেষণায় যত বেশি বিনিয়োগ করে, সে জাতি তত বেশি উন্নত হয়। আমরা আশা করি, আইনমন্ত্রীর এই চমৎকার উদ্যোগটি যেন প্রতি বছরই অব্যাহত থাকে। শুধু শৈলকুপায় নয়, সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় যদি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এমন বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করেন, তবে খুব দ্রুতই আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি একটি আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও স্বনির্ভর দেশে পরিণত হবে। শৈলকুপার এই খুদে বিজ্ঞানীদের জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক, এটাই আমাদের সবার প্রাণের প্রত্যাশা।


সম্পর্কিত নিবন্ধ