নগর যানজট সমস্যা কেন দিন দিন তীব্র হচ্ছে

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিসের উদ্দেশ্যে কিংবা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ার কথা মনে হলেই শহরের মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পা দেওয়া মাত্রই শুরু হয় প্রতিদিনের এক নীরব যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শত্রুর নাম হলো ‘যানজট’। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা দেশের অন্যান্য বড় শহরগুলোতে বসবাসকারী মানুষের কাছে যানজট এখন আর কোনো নতুন শব্দ নয়, বরং এটি যেন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং যন্ত্রণাদায়ক অংশে পরিণত হয়েছে।

আমরা দেখছি, শহরের বুকে বড় বড় ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, আন্ডারপাস বা মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্প তৈরি হচ্ছে। এই উন্নয়নমূলক কাজগুলো আমাদের মনে আশা জাগিয়েছিল যে, হয়তো এবার আমরা যানজটের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাব। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত এত অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরও রাস্তার দিকে তাকালে আমরা এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতি দেখতে পাই। ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়ির চাকায় স্থবির হয়ে আছে লাখো মানুষের মূল্যবান সময়। বর্তমান এই বাস্তবতায় একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্ন আমাদের সবার সামনে এসে দাঁড়ায়—নগর যানজট সমস্যা কেন দিন দিন তীব্র হচ্ছে? কেন কোনো পরিকল্পনা বা মেগা প্রকল্পই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না? আজ আমরা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি থেকে এই যানজট সমস্যার পেছনের মূল কারণ, জনজীবনে এর বহুমুখী প্রভাব এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে একটি বিস্তারিত ও সহজবোধ্য বিশ্লেষণ করব।

যানজটের বর্তমান রূঢ় বাস্তবতা

যানজট কেন বাড়ছে, তার গভীরে যাওয়ার আগে শহরের রাস্তাঘাটের বর্তমান অবস্থাটা একটু উপলব্ধি করা দরকার। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে রাস্তায় শুধু গাড়ির পর গাড়ি, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে সাধারণ মানুষের চরম কষ্ট ও হতাশা।

অফিসগামী একজন মানুষকে মাত্র ৫ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে বাসে বসে থাকতে হচ্ছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। যানজটে আটকে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রোগীর ছটফটানি আর স্বজনদের বোবা কান্না এখন শহরের খুব সাধারণ দৃশ্য। যানজটের কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেকের চাকরি হারাতে হচ্ছে, ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার হলে দেরিতে পৌঁছাচ্ছে। এই যানজট শহরের মানুষের জীবনের স্বাভাবিক গতিকে পুরোপুরি থামিয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, পুরো শহরটাই যেন একটি বিশাল পার্কিং লটে পরিণত হয়েছে, যেখানে গাড়িগুলো চলার চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই বেশি অভ্যস্ত।

নগর যানজট দিন দিন তীব্র হওয়ার মূল কারণসমূহ

এই যে প্রতিদিনের স্থবিরতা এবং যানজট, এটি হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্নীতি এবং আমাদের মানসিকতার কারণেই আজ যানজট এমন এক দানবে পরিণত হয়েছে, যা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এর পেছনের প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

ব্যক্তিগত গাড়ির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সড়কের অসম বণ্টন

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, যানজট দিন দিন তীব্র হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ব্যক্তিগত গাড়ির বা প্রাইভেট কারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ব্যাংক থেকে সহজেই কার লোন পাওয়ার সুবিধা এবং সামাজিক মর্যাদার কারণে যার একটু সামর্থ্য আছে, তিনিই একটি ব্যক্তিগত গাড়ি কিনে ফেলছেন।

রাস্তার দিকে তাকালে দেখা যায়, শহরের মোট রাস্তার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে ব্যক্তিগত গাড়ি, অথচ এসব গাড়িতে যাতায়াত করেন শহরের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ। একটি প্রাইভেট কার রাস্তায় যে পরিমাণ জায়গা দখল করে, তাতে মাত্র ১ বা ২ জন মানুষ যাতায়াত করেন, অথচ একটি বাস একই জায়গায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। নিম্নমানের গণপরিবহনের কারণেই মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনছেন। ফলে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দুর্বল, বিশৃঙ্খল ও মানহীন গণপরিবহন ব্যবস্থা

একটি শহরে যদি ভালো, আরামদায়ক ও নিরাপদ গণপরিবহন বা বাসের ব্যবস্থা থাকত, তবে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কম করত। কিন্তু আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থার অবস্থা খুবই শোচনীয়। লোকাল বাসের দিকে তাকালে মনে হয়, তারা যেন রাস্তায় কোনো মরণপণ প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

বাসচালকরা ‘চুক্তিভিত্তিক’ বা ‘ডেইলি টার্গেট’ ভাড়ায় গাড়ি চালান। ফলে বেশি আয়ের লোভে তারা অন্য বাসের সাথে রেষারেষি করেন এবং যেখানে-সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। বাসগুলোর কোনো নির্দিষ্ট স্টপেজ নেই। রাস্তার ঠিক মাঝখানে বা মোড়ে আড়াআড়ি করে বাস দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে পেছনের শত শত গাড়ি আটকে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মানহীন ও লক্কড়ঝক্কড় এই বাসগুলোর কারণে রাস্তায় চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

অপরিকল্পিত নগরায়ন ও রাস্তার চরম স্বল্পতা

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য শহরে মোট আয়তনের অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ রাস্তা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের রাজধানী ঢাকার মতো শহরে রাস্তার পরিমাণ মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। এই সামান্য রাস্তা দিয়ে বিপুল সংখ্যক গাড়ি চলাচল করা প্রায় অসম্ভব।

এর পাশাপাশি রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন। শহরের যেখানে-সেখানে বিশাল বিশাল শপিং মল, বহুতল আবাসিক ভবন, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠছে, কিন্তু সেগুলোর সামনে যাতায়াতের জন্য প্রশস্ত রাস্তা রাখা হয়নি। একটি সরু গলির ভেতরে দশতলা ভবন তৈরি হলে সেখান থেকে বের হওয়া গাড়িগুলো স্বাভাবিকভাবেই মূল রাস্তায় বিশাল চাপ সৃষ্টি করে।

ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং ও খোঁড়াখুঁড়ি

শহরের যানজটের আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাস্তার একটা বড় অংশ অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা। শহরের বেশিরভাগ ফুটপাত হকারদের দখলে। ফুটপাতে হাঁটার জায়গা না থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটেন, ফলে গাড়ির গতি কমে যায়।

এছাড়া যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং যানজটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শপিং মল বা অনেক বড় ভবনে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীরা রাস্তার ওপরই গাড়ি পার্ক করে রাখেন। অন্যদিকে, সারা বছর ধরেই শহরের রাস্তাগুলোতে কোনো না কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের (যেমন- ওয়াসা, ডেসা বা সিটি কর্পোরেশন) খোঁড়াখুঁড়ি চলতেই থাকে। উন্নয়নমূলক কাজের এই দীর্ঘসূত্রিতা রাস্তার প্রশস্ততা কমিয়ে দিয়ে যানজট বাড়িয়ে তুলছে।

ট্রাফিক আইন অমান্য করার সংস্কৃতি ও ম্যানুয়াল ব্যবস্থাপনা

আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন অমান্য করার এক অদ্ভুত প্রবণতা রয়েছে। সুযোগ পেলেই উল্টোপথে (Wrong route) গাড়ি চালানো, সিগন্যাল অমান্য করা, এবং মোটরসাইকেল ফুটপাতে উঠিয়ে দেওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে ভিআইপি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আইন ভাঙলে তাদের দেখাদেখি সাধারণ মানুষও আইন ভাঙতে উৎসাহিত হয়।

এছাড়া আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এখনও অনেক সেকেলে। উন্নত বিশ্বের মতো স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিবর্তে আমাদের দেশের ট্রাফিক পুলিশরা হাতের ইশারায় বা রশি টেনে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করেন। একজন মানুষের পক্ষে চারদিকের হাজার হাজার গাড়ি ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করা কখনোই বিজ্ঞানসম্মত বা সম্ভব নয়।

সবকিছুর কেন্দ্রীকরণ (Decentralization failure)

ঢাকাকেন্দ্রিক এই যানজটের অন্যতম বড় কারণ হলো সবকিছুর কেন্দ্রীকরণ। দেশের সেরা হাসপাতাল, সেরা বিশ্ববিদ্যালয়, সব বড় কোম্পানির হেড অফিস, সরকারি প্রধান দপ্তর, এবং হাইকোর্ট—সবকিছুই এই একটি শহরের ভেতরে অবস্থিত। ফলে সারা দেশ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ নানা প্রয়োজনে ঢাকায় আসছেন। এই বিশাল জনসংখ্যার চাপ নেওয়ার ক্ষমতা শহরের রাস্তার নেই।

যানজটের কারণে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের বহুমুখী ক্ষতি

যানজট শুধু আমাদের বিরক্তই করছে না, এটি আমাদের জীবন, স্বাস্থ্য এবং দেশের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি

যানজটের কারণে আমাদের অর্থনীতির যে পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু যানজটের কারণে প্রতিদিন লাখ লাখ কর্মঘণ্টা (Working hours) রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে। মানুষ সঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছাতে না পারায় উৎপাদনশীলতা কমছে।

রাস্তায় আটকে থাকা গাড়িগুলো যে পরিমাণ জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করছে, তার আর্থিক মূল্য বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুযায়ী, যানজটের কারণে বছরে দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে দেশের অনেক বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হতো।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি

প্রতিদিন যানজটে আটকে থেকে এবং গাড়ির হর্নের বিকট শব্দ শুনে শহরের মানুষের মানসিক চাপ (Stress), হতাশা ও মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সাথে কাটানোর বা নিজের বিনোদনের জন্য যে অমূল্য সময়, তা প্রতিদিন রাস্তাতেই নষ্ট হচ্ছে। মানুষ পরিবারকে সময় দিতে পারছে না, যার ফলে পারিবারিক দূরত্ব বাড়ছে।

এছাড়া যানজটে আটকে থাকা গাড়ি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং ধুলাবালির কারণে শহরের বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এই দূষিত বাতাসের কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং ফুসফুসের নানা জটিল রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যানজট আক্ষরিক অর্থেই শহরের মানুষের আয়ু কমিয়ে দিচ্ছে।

যানজট নিরসনে আমাদের করণীয় ও সমাধান

এই দমবন্ধ করা যানজটের পরিস্থিতি থেকে শহরকে বাঁচাতে হলে শুধু ফ্লাইওভার বা মেট্রোরেল বানালেই হবে না, দরকার সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর ব্যবস্থাপনা এবং আইনের শাসন।

প্রথমত, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং এর বিপরীতে মানসম্মত ও আরামদায়ক গণপরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে। বাসের ‘চুক্তিভিত্তিক’ ইজারা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করে চালকদের নির্দিষ্ট মাসিক বেতনের আওতায় আনতে হবে। ‘বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি’ বা কোম্পানি ভিত্তিক বাস সেবা চালু করে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাসের রেষারেষি বন্ধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো বা যেখানে-সেখানে পার্কিং করার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল (Automated Traffic Signal) ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে, যাতে কেউ আইন ভাঙলে ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নামে মামলা ও জরিমানা হয়ে যায়।

তৃতীয়ত, বিকেন্দ্রীকরণ বা Decentralization অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা শহর থেকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি অফিস, বড় বড় গার্মেন্টস বা শিল্প কারখানা শহরের বাইরে বা অন্যান্য জেলায় স্থানান্তর করতে হবে, যাতে একটি নির্দিষ্ট শহরের ওপর মানুষের চাপ কমে।

চতুর্থত, ফুটপাতগুলো সম্পূর্ণভাবে হকারমুক্ত করে সাধারণ মানুষের হাঁটার উপযোগী করতে হবে। মানুষ যদি স্বাচ্ছন্দ্যে অল্প দূরত্বের পথ হেঁটে যেতে পারে, তবে গাড়ির ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যাবে। এছাড়া অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, শহরজুড়ে যানজটের এই তীব্রতা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; এটি সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট একটি সংকট। বছরের পর বছর ধরে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা, দুর্বল নগর পরিকল্পনা, কিছু মানুষের অতিরিক্ত লোভ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবেই আমাদের শহরগুলো আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। শুধু বড় বড় মেগা প্রকল্প দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না, যতক্ষণ না আমরা মূল সমস্যাগুলোর গোড়ায় হাত দিচ্ছি।

একটি আধুনিক শহর শুধু উঁচু উঁচু দালান দিয়ে তৈরি হয় না; বরং এর যোগাযোগ ব্যবস্থা কতটা শৃঙ্খলিত এবং সাধারণ মানুষের জন্য কতটা স্বস্তিদায়ক, তার ওপরই নির্ভর করে একটি শহরের আসল সৌন্দর্য। আমরা সবাই একটি যানজটমুক্ত, নিরাপদ ও গতিশীল শহরের স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য সরকার, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ নাগরিক—সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। আইন মানার সংস্কৃতি তৈরি করতে না পারলে হাজারো উন্নয়নমূলক পদক্ষেপও যানজটের এই অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারবে না। যানজটের এই নৈরাজ্য থামিয়ে শহরের বুকে স্বস্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় ও জরুরি দাবি।


সম্পর্কিত নিবন্ধ