শৈলকুপায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ৬

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় অপরাধীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৬ জন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৪ জন নিয়মিত মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং ২ জন চিহ্নিত মাদকসেবী। পুলিশ এই অভিযানকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার সরাসরি তত্ত্বাবধানে একদল চৌকস পুলিশ সদস্য এই অভিযান পরিচালনা করেন। ২৭ আগস্ট ভোর থেকেই পুলিশের বিশেষ টিম উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান নেয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, নিয়মিত মামলার বেশ কয়েকজন আসামি আত্মগোপন করে এলাকায় নাশকতার চেষ্টা করছে। এরই প্রেক্ষিতে ত্রিপুরাকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশ কুবাদ আলী বিশ্বাস, সিজার, হাফিজুর বিশ্বাস এবং ফিরোজ নামের চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত কুবাদ আলী বিশ্বাস মৃত তিজারত বিশ্বাসের ছেলে। সিজার হচ্ছে উম্বাদ আলী বিশ্বাসের ছেলে। এছাড়া মৃত মকবুল বিশ্বাসের ছেলে হাফিজুর বিশ্বাস এবং মফিজ উদ্দীনের ছেলে ফিরোজকে পুলিশ তাদের নিজ এলাকা থেকে আটক করে। পুলিশ জানায়, এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে শৈলকুপা থানায় মামলা নং-২৯(৮)২৬ ও ৩০(৮)২৬ এর অধীনে এজাহার রয়েছে। গ্রেফতারের পর কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই তাদের থানায় নিয়ে আসা হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০০% অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই এই তৎপরতা চালানো হয়েছে।

একই দিনের অভিযানে মাদকবিরোধী তৎপরতায় বড় সাফল্য পায় শৈলকুপা থানা পুলিশ। মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশ বারইপাড়া এলাকা থেকে মোঃ রুবেল হোসেনকে এবং দুধসর এলাকা থেকে মোঃ জিহাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে। ৩০ বছর বয়সী রুবেল হোসেন মোঃ ডাবলু মোল্যার ছেলে এবং ১৯ বছর বয়সী জিহাদ হোসেন বকুল সর্দ্দারের ছেলে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া যায় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। যুব সমাজকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে এই ধরণের অভিযান নিয়মিত চলবে বলে জানানো হয়।

মাদকসেবী এই দুই আসামিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় আদালতে তোলা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামী মোঃ রুবেল হোসেন ও মোঃ জিহাদ হোসেনকে পৃথকভাবে ০৫ (পাঁচ) মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর পাশাপাশি প্রত্যেকের ওপর ২০০০/- (দুই হাজার) টাকা করে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যদি আসামীরা জরিমানার এই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের অতিরিক্ত আরও ১৫ দিন জেল খাটতে হবে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছি। সমাজে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং মাদকের নেশায় তরুণদের ধ্বংস করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের ধরতে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। তিনি এলাকার বাসিন্দাদের যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। পুলিশের এই সাফল্যে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে মাদকসেবীদের তাৎক্ষণিক সাজা হওয়ায় সচেতন মহলে পুলিশের প্রশংসা বাড়ছে।

বর্তমান সময়ে শৈলকুপায় অপরাধের হার ০% এ নামিয়ে আনতে পুলিশ বিভাগ বদ্ধপরিকর। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে কেবল অপরাধীরাই ধরা পড়ছে না, বরং এর ফলে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও ব্যাপক উন্নতি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, নিয়মিত এমন পুলিশি টহল থাকলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও মাদকের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও শৈলকুপা থানার এই কর্মতৎপরতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করে, আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং পুলিশের আন্তরিকতা থাকলে খুব দ্রুতই শৈলকুপা একটি আদর্শ ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে উঠবে। জনস্বার্থে পুলিশের এমন সাহসী ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ