শৈলকুপায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: সাজাপ্রাপ্তসহ গ্রেপ্তার ৮, ৩ মাদক সেবনকারীর কারাদণ্ড

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকুপা থানা এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দিন ও রাতব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৫ জন পরোয়ানাভুক্ত আসামী এবং ৩ জন মাদক সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালত মাদক সেবনকারীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন।

শৈলকুপা থানা সূত্র জানায়, ২৩ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায়। অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ১ জন সিআর মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শেখরা গ্রামের রজব আলীর ছেলে মোঃ কবির (সিআর-৭৯৯/২৫), একই গ্রামের বিলাত আলী শেখের ছেলে রেজাউল শেখ এবং নিজা শেখের ছেলে শান্ত শেখ। এছাড়া বিপ্রবগদিয়া গ্রামের আকতারের স্ত্রী রেহেনা খাতুন (দায়রা-৫৩৩/২৪) এবং সাধুহাটি গ্রামের সজল কুমারের স্ত্রী অন্তরা রায়কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্তরা রায় জয় দাস বিশ্বাসের মেয়ে এবং তিনি একটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী। দীর্ঘদিন ধরে তারা আত্মগোপনে ছিলেন এবং পুলিশি তৎপরতায় অবশেষে ধরা পড়েন।

একই দিনে শৈলকুপা থানার অফিসার ও ফোর্স দিবা-রাত্রিকালীন টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় ৩ জন মাদক সেবনকারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন— হাবিবপুর গ্রামের প্রেম সরকারের ছেলে প্রান্ত সরকার (২৩), দেবতলা গ্রামের মোঃ মতিয়ার রহমানের ছেলে মোঃ মেহেদী হাসান (২৭) এবং বৃত্তিদেবি রাজনগর গ্রামের শ্রী বিনয় কুমার বিশ্বাসের ছেলে শ্রী বিপ্লব কুমার বিশ্বাস (২৪)। পুলিশ জানায়, তারা এলাকায় মাদক সেবন করে জনশান্তি বিঘ্নিত করছিল। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় মামলা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত এই মাদক সেবনকারীদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে ১ নম্বর আসামী প্রান্ত সরকারকে ০৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০০৳ (পাঁচ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ২ নম্বর আসামী মোঃ মেহেদী হাসানকে ০৭ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০০৳ (তিন হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ১ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৩ নম্বর আসামী শ্রী বিপ্লব কুমার বিশ্বাসকে ০৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০০০৳ (তিন হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে তাকে আরও ১৫ দিনের জেল খাটতে হবে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, এলাকায় অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান শতভাগ সফল করার জন্য স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, পরোয়ানাভুক্ত আসামীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পুলিশের এই সক্রিয় অবস্থানের ফলে এলাকায় অপরাধের হার প্রায় ২০% থেকে ৩০% কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের এই সফল অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদক ও অপরাধীদের কারণে এলাকায় মাঝে মাঝে অস্থিরতা তৈরি হয়, তবে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান চললে সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। গ্রেপ্তারকৃত পরোয়ানাভুক্ত আসামীদের আদালতে পাঠানোর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শৈলকুপা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সামনে দিনগুলোতেও এই ধরণের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সেবনকারীদের ধরতেও পুলিশ বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এবারের অভিযানে পুলিশের দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে ৩ জন মাদক সেবনকারীকে দ্রুত সাজার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, যা অন্যদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ