চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বড় ধরনের মাদকের চালান জব্দ করেছে। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এই অভিযানে ১৯৬ বোতল নিষিদ্ধ ভারতীয় এসকাফ (Eskuf) সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ১:০০ টার দিকে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্র থেকে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান বাংলাদেশে ঢুকছে—এমন গোপন খবর পায় মহানন্দা ব্যাটালিয়ন। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত প্রস্তুতি নেয়। তারা শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রাম এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। বিশেষ করে ওই এলাকার একটি মৎস্য হ্যাচারির আশপাশে বিজিবি সদস্যরা ওত পেতে থাকেন। রাত যখন গভীর হয়, তখন চোরাকারবারিদের গতিবিধি তাঁদের নজরে আসে।
সোনাপুর গ্রামস্থ মৎস্য হ্যাচারি সংলগ্ন এলাকায় যখন বিজিবি টহল দল এগিয়ে যায়, তখন চোরাকারবারিরা বুঝতে পারে যে তারা বিপদে পড়েছে। বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা তাদের সাথে থাকা বস্তা ও মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্তের ওপাড়ে পালিয়ে যায়। সীমান্ত পিলার ১৮৫/১-এস থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে এই ঘটনাটি ঘটে। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৯৬ বোতল ভারতীয় এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করে। এই মাদকগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় মোড়কে পাচারের জন্য আনা হয়েছিল।
মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, সীমান্ত এলাকায় অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে ১০০% সজাগ রয়েছে যাতে করে একটি মাদকও দেশের ভেতরে ঢুকতে না পারে। তিনি আরও বলেন, “মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি সব সময় কার্যকর থাকবে।” এই অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দ করা এই এসকাফ সিরাপগুলো ধ্বংস করার জন্য এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এর আগেও এই সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ফেনসিডিল ও হেরোইন উদ্ধার করেছে ৫৯ বিজিবি। শিবগঞ্জের শাহবাজপুর ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় চোরাকারবারিরা প্রায়ই এই পথ ব্যবহারের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারির কারণে তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। বিজিবি তাঁদের গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ আর না ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিজিবির নিয়মিত অভিযান চললে সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে। শিবগঞ্জ এলাকায় মাদকের সরবরাহ কমাতে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মহলকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক। উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজার মূল্যও বেশ চড়া বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজিবি জানিয়েছে, চোরাকারবারিরা পালিয়ে গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান বন্ধে ৫৯ বিজিবি দিনের ২৪ ঘন্টাই কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও মাদকবিরোধী এমন বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীটি। এই অভিযানের ফলে সোনাপুর ও এর আশপাশের গ্রামগুলোতে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির এই জিরো টলারেন্স নীতি মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সবাই আশা করছেন।
















