গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে এখন পুরো এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয় সবখানেই নেতাকর্মীদের মধ্যে একটাই প্রশ্ন, কে হচ্ছেন আগামী দিনের সাধারণ সম্পাদক? দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই পদের নাম ঘোষণা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা কাজ করছে। সবাই চায় এমন একজন নেতা, যিনি প্রতিকূল পরিবেশেও দলের হাল শক্তভাবে ধরতে পারবেন। এলাকার প্রায় ১০০% নেতাকর্মী মনে করছেন, এবার নতুন ও সাহসী নেতৃত্ব দলের ভাগ্য বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এবারের দৌড়ে ৫ জন প্রার্থীর নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। তারা সবাই ইউনিয়ন পর্যায়ে সফলভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই পাঁচ নেতা হলেন সাঘাটা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিয়ান আহম্মেদ রাজু, ঘুড়িদহ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রায়হান সিদ্দিক, একই ইউনিয়নের তুখোড় নেতা ও সহ-সভাপতি জিয়াম আহম্মেদ, বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহরিয়াল কবির স্বপ্ন এবং জুমারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ময়নুল হাসান। এদের মধ্যেকার প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে। মাঠের জরিপ অনুযায়ী, এদের প্রত্যেকের জনপ্রিয়তা কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৮০% থেকে ৯০% এর মধ্যে ওঠানামা করছে।
জিয়ান আহম্মেদ রাজু দীর্ঘদিন ধরে সাঘাটা ইউনিয়নে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক মজবুত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠের লড়াইয়ে যারা ঘাম ঝরিয়েছেন, দল তাদেরই মূল্যায়ন করবে। অন্যদিকে রায়হান সিদ্দিক ঘুড়িদহ ইউনিয়নে ছাত্রদলকে নতুন করে সুসংগঠিত করেছেন। তার সমর্থকরা দাবি করছেন, রায়হান সাধারণ সম্পাদক হলে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল অন্তত ৭০% কমে যাবে। এই দুই নেতার মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতার লড়াই এখন সাধারণ কর্মীদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঘুড়িদহ ইউনিয়নের আরেক প্রভাবশালী নেতা জিয়াম আহম্মেদও পদের দিক থেকে পিছিয়ে নেই। তিনি তরুণ প্রজন্মের ছাত্রনেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় মুখ। এদিকে বোনারপাড়া ইউনিয়নের শাহরিয়াল কবির স্বপ্ন তার এলাকায় নিজের একটা শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন। স্বপ্নের অনুসারীরা বলছেন, সাঘাটা উপজেলায় দলকে চাঙ্গা করতে হলে স্বপ্নের মতো লড়াকু নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। তিনি দলের পেছনে নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের ১০% থেকে ১৫% অর্থ নিয়মিত ব্যয় করেন বলে শোনা যায়, যা সাধারণ কর্মীদের বেশ উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি দলের দুঃসময়ে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০০০$ সমমূল্যের জরুরি সহায়তা তহবিল সংগ্রহের রেকর্ডও গড়েছেন তৃণমূল পর্যায়ে।
জুমারবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ময়নুল হাসানও এই পদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। তার এলাকার নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখছেন। ময়নুল মনে করেন, আগামী দিনে সাঘাটায় ছাত্রদলকে অন্তত ৯০% ভোট নিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজন। ইউনিয়ন পর্যায়ে তার কাজের পরিধি দেখে অনেক সিনিয়র নেতাই তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। তিনি মাঠের রাজনীতিতে যেমন পটু, তেমনি সাধারণ কর্মীদের বিপদে-আপদে সবার আগে ঝাপিয়ে পড়েন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার নেতা নির্বাচনে কোনো ভুল করতে চায় না জেলা কমিটি। তারা চায় এমন একজন সাধারণ সম্পাদক, যিনি রাজপথে অন্তত ৫০০ থেকে ৭০০ নতুন কর্মীকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করতে পারবেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে জল্পনা চলছে যে, কমিটির ৯৯% সিদ্ধান্তই হতে পারে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে। যোগ্যতার বিচারে ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিকদের প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে সবাই আশা করছেন। সাধারণ কর্মীদের বড় একটা অংশ মনে করেন, ছাত্রদলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হলে পরিশ্রমী ও মেধাবী নেতার বিকল্প নেই।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রদলের দায়িত্ব নেওয়া অনেক বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। সাধারণ সম্পাদক পদের ৫ প্রার্থীই জানিয়েছেন, তারা দলের জন্য যেকোনো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছেন। তারা কোনো পকেট কমিটি চান না, বরং একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া আশা করেন। তারা চান এমন এক রাজনীতি, যেখানে তৃণমূলের ছোট কর্মীদের মতামতের অন্তত ৫% হলেও গুরুত্ব থাকবে। এই ৫ জন প্রার্থীর বাইরেও অন্য কেউ চমক হিসেবে পদের ভাগিদার হন কি না, তা নিয়েও কিছু গুঞ্জন আছে। তবে মূল আলোচনা এই পাঁচজনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।
এখন শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা। সাঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ কার ভাগ্যে জোটে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাঘাটার সাধারণ নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তের দিকে। সাঘাটার স্থানীয় রাজনীতিতে এই কমিটি গঠন আগামী দিনের আন্দোলনে ১০০% প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শেষ পর্যন্ত এই ৫ নেতার মধ্য থেকে কে মাঠের বাজি মারবেন, তা দেখার জন্য পুরো উপজেলার ছাত্রদল কর্মীরা এখন প্রহর গুনছেন।
















