শৈলকুপায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: মাদক সেবনের অপরাধে দুই যুবকের কারাদণ্ড ও জরিমানা

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান এখন জিরো টলারেন্স। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শৈলকুপা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুই মাদক সেবনকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃত এই দুই যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করা হয়েছে। পুলিশের এমন কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযান সূত্র থেকে জানা যায়, ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাত ঠিক ০০:৩০ ঘটিকার সময় শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে একটি ফোর্স নিভৃত পল্লী এলাকায় তল্লাশি শুরু করে। এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের ব্যাসপুর গ্রাম থেকে মোঃ রাসেল মোল্লা (২৮) নামে এক যুবককে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। রাসেল মোল্লা ওই গ্রামের মান্নান মোল্লার ছেলে। আটকের পরপরই তাকে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, এই অভিযানে ১০০% গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল যাতে অপরাধী পালিয়ে যেতে না পারে।

রাসেল মোল্লাকে গ্রেফতারের ঠিক ২ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ রাত ০২:৩০ ঘটিকার সময় পুলিশ আরও একটি সফল অভিযান চালায়। এই অভিযানে মির্জাপুর এলাকা থেকে মোঃ বাহার ইসলাম (২৫) নামে আরেক যুবককে আটক করা হয়। বাহার ইসলাম মির্জাপুর গ্রামের মোঃ কহিনুর ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, সে গভীর রাতে নির্জন স্থানে বসে মাদক সেবন করছিল। বাহারকেও একই আইনের অর্থাৎ ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এক রাতেই ২ জন মাদকসেবী গ্রেফতার হওয়ায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে এলাকায় ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত এই দুই আসামিকে ঝিনাইদহের বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক রায় প্রদান করেন। রায়ে মোঃ রাসেল মোল্লা এবং মোঃ বাহার ইসলাম—উভয়কেই ৩ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ৩০০০/- (তিন হাজার) টাকা করে নগদ জরিমানা করা হয়। আদালতের আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি আসামিরা জরিমানার এই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের অতিরিক্ত ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ৩ মাসের এই জেল ও জরিমানার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা এই অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, “আমাদের থানা এলাকায় কোনোভাবেই মাদকের বিস্তার ঘটতে দেওয়া হবে না। আমরা প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে আছি। রাসেল ও বাহারের মতো যারা মাদক সেবন করে সমাজকে নষ্ট করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের এই অভিযান নিয়মিত চলবে এবং মাদকের সাথে জড়িত মূল হোতাদেরও আমরা আইনের আওতায় আনব।” ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ জনগণ যদি মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করে, তবে শৈলকুপাকে খুব দ্রুত ১০০% মাদক মুক্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে শৈলকুপা থানায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে মাদকের কুফল সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। রাসেল ও বাহারের সাজা হওয়ার ফলে স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাব বজায় থাকলে অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে আসবে। বিশেষ করে রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত পুলিশের বিশেষ টহল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। ৩০০০ টাকা জরিমানা এবং ৩ মাসের জেল হওয়ার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন।

ঝিনাইদহের সচেতন মহল মনে করেন, শুধুমাত্র গ্রেফতার বা জেল দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ। তবে পুলিশের এই অভিযান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া অপরাধীদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করবে। ১৬ আগস্টের এই দুই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, পুলিশ অপরাধ দমনে কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো পুলিশের এই কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ