ঝিনাইদহের শৈলকূপায় অপরাধ দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতে উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে একজনকে ৩২ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করা হয় এবং অন্যজনকে মাঝরাতে রাস্তায় চিৎকার ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার নেতৃত্বে এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়। বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ১০০% সজাগ রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ১৫ আগস্ট রাত ৮:৪৫ মিনিটের (২০:৪৫ ঘটিকা) দিকে গারাগঞ্জ বাজার এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, বাজারের ‘সুমন অটোস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে মাদক কেনাবেচা চলছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে হানা দেয়। অভিযানে মধুপুর গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে মোঃ সুমন হোসেনকে (৩৫) আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১২,০০০ টাকা বা ১০০ ডলারের ($) কাছাকাছি। পুলিশের এই তড়িৎ পদক্ষেপে এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে শৈলকূপার যুবসমাজের অন্তত ১৫% থেকে ২০% ধ্বংসের মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। সুমন হোসেনের মতো মাদক ব্যবসায়ীরা সাধারণ ব্যবসার আড়ালে এই মরণনেশা ছড়িয়ে দিচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, সুমনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকের এই সরবরাহ চেইন ভাঙতে পুলিশ বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই অভিযানের ফলে গারাগঞ্জ এলাকায় মাদক কারবারিদের দাপট অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি বাজারের ওপর ১০০% নজরদারি বাড়িয়েছে।
একই রাতে অর্থাৎ ১৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১:১৫ মিনিটের দিকে শহরের কাজিপাড়া এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়। কুমিড়াদহ গ্রামের মোঃ আবুল কালাম আজাদের ছেলে মোঃ আব্দুর রহিম (৩৭) মাঝরাতে জনৈক চলাচলের রাস্তায় দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার ও চেঁচামেচি করছিলেন। তার এই অস্বাভাবিক আচরণে আশেপাশের বাড়ির অন্তত ৯০% মানুষের ঘুম ভেঙে যায় এবং সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে শৈলকূপা থানার টহল পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু রহিম পুলিশের বাধা অমান্য করে বিশৃঙ্খলা চালিয়ে যাওয়ায় তাকে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।
শৈলকূপা পৌরসভার কাজিপাড়া এলাকাটি সাধারণত শান্ত থাকে, কিন্তু গভীর রাতে এ ধরনের চিৎকার-চেঁচামেচি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, আব্দুর রহিম কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এই কাজ করছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনচলাচলে ব্যাঘাত ঘটানো এবং শান্তি নষ্ট করার অভিযোগে তাকে বিধি মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশে যেকোনো ধরনের উস্কানি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। ছোটখাটো অপরাধও যেন বড় কোনো ঘটনার রূপ নিতে না পারে, সেজন্য পুলিশ ১০০% সতর্ক রয়েছে।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা বিশৃঙ্খলাকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। শৈলকূপাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে উপজেলায় অপরাধের হার আগের তুলনায় প্রায় ১০% কমে এসেছে এবং এই ধারা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো অপরাধী সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
শনিবার সকালে গ্রেফতারকৃত উভয় আসামিকে কড়া পাহারায় ঝিনাইদহ বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক মামলায় সুমন হোসেনের রিমান্ড আবেদন করার প্রক্রিয়া চলছে যাতে করে এই ব্যবসার মূল হোতাদের খুঁজে বের করা যায়। অন্যদিকে, আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। শৈলকূপার সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পুলিশের এই সফল অভিযানের খবর নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাদক ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এই লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
















