ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতে উপজেলার হাটফাজিলপুর এলাকা থেকে মোঃ ইউনুচ শেখ (৩৫) নামের এক মাদক সেবনকারীকে গ্রেফতার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে পুলিশ তাকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হয়। রাত তখন ঘড়ির কাটায় প্রায় ১০:৩০ মিনিট (২২:৩০ ঘটিকা)। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি আরও একবার স্পষ্ট হলো।
গ্রেফতারকৃত ইউনুচ শেখ শৈলকূপা থানার হাটফাজিলপুর গ্রামের সাইদুল শেখের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনুচ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবনের সাথে জড়িত ছিলেন এবং তার কারণে ওই এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। মাদক সেবনকারীদের কারণে এলাকার অন্তত ২৫% থেকে ৩০% তরুণ বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে আসছিলেন। পুলিশ তাকে নজরদারিতে রেখেছিল এবং সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিল। গত রাতে শৈলকূপা থানার অফিসার ও ফোর্সের একটি চৌকস দল তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের পর ইউনুচ শেখের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়। শৈলকূপা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই ১০০% আপসহীন। এরপর তাকে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত মামলার নথি ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ পর্যালোচনা করে ইউনুচ শেখকে ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি ইউনুচকে ৩,০০০ টাকা ($ প্রায় ২৫ এর সমতুল্য) নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। যদি দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি এই জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে অতিরিক্ত আরও ১৫ দিন জেল খাটতে হবে। আদালতের এই তাৎক্ষণিক ও কঠোর রায়ে এলাকায় অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের সাজার মাধ্যমে মাদকের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। আইনের কঠোর প্রয়োগই পারে সমাজ থেকে মাদক নামের এই মরণব্যাধি চিরতরে নির্মূল করতে।
শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা বলেন, আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বদ্ধপরিকর। সমাজ থেকে মাদকের শিকড় ১০০% উপড়ে ফেলতে আমাদের এই ঝটিকা অভিযান নিয়মিত চলবে। তিনি আরও যোগ করেন, মাদক সেবনকারী হোক বা কারবারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হাটফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জনৈক গ্রামবাসী জানান, মাদক সেবনকারীদের উৎপাত এলাকায় দিন দিন বাড়ছিল, যার ফলে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও প্রায় ১০% বৃদ্ধি পেয়েছিল। পুলিশের এই তড়িৎ ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের মনে শান্তি ফিরে এসেছে। শৈলকূপার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশের টহল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে রাত ৯টার পর জনমানবহীন স্থানে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে দণ্ডপ্রাপ্ত ইউনুচ শেখকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মাদকের আখড়াগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। সমাজ থেকে মাদকের অভিশাপ দূর করতে পরিবারের অভিভাবকদেরও সজাগ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। অন্তত ৮০% মাদকাসক্ত ব্যক্তি পারিবারিক অবহেলার কারণে এই পথে পা বাড়ায়। তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুলিশের কঠোর নজরদারি এই দুইয়ের সমন্বয়ে শৈলকূপাকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপারও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর জন্য জেলার প্রতিটি থানাকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঝিনাইদহের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ১০০% চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অপরাধের হার আগের চেয়ে অনেক কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। শৈলকূপাবাসীর প্রত্যাশা, পুলিশের এই তৎপরতা কেবল বিশেষ দিনগুলোতে নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিন অব্যাহত থাকবে।
















