শৈলকূপায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় ৩ জন গ্রেফতার: নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

ঝিনাইদহের শৈলকূপায় চাঞ্চল্যকর এক অভিযানে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট, ২০২৬) ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে তাদের আটক করা হয়। গত ৫ আগস্ট শৈলকূপা থানায় দায়ের হওয়া একটি নিয়মিত মামলার তদন্তে এদের নাম উঠে আসে। এরপরই পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ নজরদারিতে থাকা এই ব্যক্তিদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের সংবেদনশীলতা ও দেশের চলমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে ১০০% সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার বালাপাড়া গ্রামের মৃত নূর আলী মণ্ডলের ছেলে ৫৭ বছর বয়সী আজিজুল ইসলাম, গোসাইডাঙ্গা গ্রামের মন্টু শেখের ছেলে ১৯ বছর বয়সী আল নাহিয়ান সজীব এবং মাধবপুর গ্রামের মোঃ কুবা আলী শেখের ছেলে ২২ বছর বয়সী মোঃ হাসিবুল ইসলাম। পুলিশ জানিয়েছে, এরা সবাই মামলার সরাসরি এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তের মাধ্যমে এদের সংশ্লিষ্টতার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ১৯ এবং ২২ বছরের তরুণদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নিয়ে এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের (২০২৬ সালের সংশোধিত) ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধারাগুলো মূলত নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে কাজ করা, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে প্রয়োগ করা হয়। ৫ই আগস্টের ঘটনার পর থেকে শৈলকূপার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায় ৩০% থেকে ৪০% অস্থিতিশীল ছিল, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নিরলস কাজ করছে। মামলার নম্বর ০৫ এবং তারিখ ০৫/০৮/২০২৬ হিসেবে এটি রেকর্ড করা হয়েছে।

শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লার নেতৃত্বে এই অভিযান সফল হয়। রাত ১২টার পর থেকে পুলিশের আলাদা আলাদা দল গ্রামগুলোতে অবস্থান নেয়। প্রথমে বালাপাড়া থেকে আজিজুল ইসলামকে এবং পরে বাকি দুই যুবককে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানে পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে। হঠাৎ করে গভীর রাতে বাড়িতে পুলিশ আসায় পরিবারের সদস্যরা কিছুটা ভড়কে গেলেও কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ কেবল সন্দেহভাজনদেরই চিহ্নিত করে নিয়ে গেছে।

শৈলকূপা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ সবসময়ই একটু বেশি থাকে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে এলাকায় বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিল একটি স্বার্থান্বেষী মহল। পুলিশ বলছে, এই আসামিরা গোপনে নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছিল যা জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারত। বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের কড়া নির্দেশে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সাধারণ মানুষ মনে করছেন।

অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য প্রদান করেছে যা মামলার পরবর্তী তদন্তে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছি না। কেবল যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এবং নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।” পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১০ দিনে এই ধরনের মামলায় এলাকায় আরও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে আসামিদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঝিনাইদহ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করতে পারেন। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের এই ধারাগুলো অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে ১০০% কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।

শৈলকূপার সাধারণ মানুষ এই গ্রেফতারের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও জনমনে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণরা যেন ভুল পথে পরিচালিত না হয়, সেজন্য অভিভাবকদের আরও সজাগ থাকতে অনুরোধ করেছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় কোনো প্রকার উস্কানি বা গুজব ছড়ালে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে শৈলকূপা ও এর আশেপাশের এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ