যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার খালিয়া গ্রামে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছেন তরুণ সমাজসেবক ও সফল ব্যবসায়ী ফারিয়াল আহম্মেদ। ছোটবেলা থেকেই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ফারিয়াল এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জনসেবায় নামতে চান। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট পদের প্রয়োজন হয়, যা তাকে আরও বড় পরিসরে সেবা করার সুযোগ দেবে। মূলত এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি এখন দিনরাত গ্রামবাসীর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন।
ফারিয়াল আহম্মেদ ১৯৯৩ সালের ১লা জানুয়ারি এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মনছুর আহমেদ এবং মা মাজেদা বেগম। পড়াশোনার হাতেখড়ি গ্রামে হলেও তিনি ২০০৮ সালে রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সফলতার সাথে এসএসসি পাশ করেন। এরপর রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে আইএ পাশ করার পর নানা পারিবারিক কারণে তাকে পড়াশোনা থামিয়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে হয়। বর্তমানে তিনি একজন সফল রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার ব্যবসায়িক সততা তাকে অল্প সময়েই জনপ্রিয় করে তুলেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় রড-সিমেন্টের দাম প্রায় ১৫% থেকে ২০% বৃদ্ধি পেলেও তিনি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করার চেষ্টা করেন। তার ব্যবসার লভ্যাংশের একটি বড় অংশ তিনি দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন।
২০১১ সাল থেকে ফারিয়াল নিজেকে সমাজসেবায় বিলিয়ে দিয়েছেন। গত ১৩ বছরে তিনি খালিয়া গ্রামের অসংখ্য অসহায় মানুষকে আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক কাজ করা সম্ভব হলেও সরকারি বরাদ্দ ছাড়া গ্রামের টেকসই উন্নয়ন কঠিন। খালিয়া ৮ নং ওয়ার্ডে প্রায় ২,৫০০ জন নারী ও পুরুষ ভোটার রয়েছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য একটি আধুনিক ও ডিজিটাল গ্রাম গড়ার স্বপ্ন দেখেন ফারিয়াল। তিনি পরিকল্পনা করেছেন, নির্বাচিত হতে পারলে সরকারি বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সুবিধা ১০০% নিশ্চিত করবেন। বর্তমানে অনেক যোগ্য লোক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলেও তিনি শতভাগ স্বচ্ছতার মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
খালিয়া গ্রামের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাতের অন্ধকার। গ্রামটির বেশ কিছু রাস্তা এখনো কাঁচা বা সোলিং করা। ফারিয়াল আহম্মেদ জানান, তিনি মেম্বার হতে পারলে প্রথম কাজ হিসেবে খালিয়া মোড় থেকে শুরু করে উত্তর পাড়া ও স্কুল মাঠ পর্যন্ত প্রায় ০.৫ কিলোমিটার (৫০০ মিটার) সোলিং রাস্তা পিচ ঢালাই করার ব্যবস্থা করবেন। এর ফলে কৃষকদের পণ্য পরিবহনে খরচ প্রায় ৩০% কমে আসবে। এছাড়া গ্রামের রাস্তায় রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ বা স্ট্রিট লাইটের মাধ্যমে তিনি পুরো গ্রামকে আলোকিত করতে চান যাতে রাতে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। এই প্রকল্পে তিনি অন্তত ৫০টি সোলার লাইট স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের কৃষকদের নিয়েও ফারিয়ালের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি চান খালিয়ার কৃষকরা বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল উৎপাদন করুক। বর্তমানে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা ১০% থেকে ১৫% কমে যাচ্ছে। ফারিয়াল কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চান এবং উন্নত মানের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে চান যাতে কৃষকরা কোনোভাবেই লোকসানের শিকার না হন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পরামর্শ ও সহায়তা পেলে এলাকার কৃষি উৎপাদন অন্তত ২৫% বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃষকদের লোকসান থেকে বাঁচাতে তিনি সরাসরি বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায়ও তদারকি করতে চান।
মাদক বর্তমান সমাজের একটি বড় অভিশাপ। ফারিয়াল আহম্মেদ তার গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আগামী প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে চান। তিনি মনে করেন, যুবসমাজ যদি বিপথে যায় তবে একটি জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তিনি গ্রামে একটি আধুনিক লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ সংস্কারের পরিকল্পনা করেছেন। এলাকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও আশ্বাস দিয়েছেন। এতে করে গ্রামের বেকারত্বের হার অন্তত ৪০% কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে ফারিয়াল আহম্মেদ বলেন, “আমি পদের লোভে নয়, বরং মানুষের ভালোবাসার টানে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমি চেষ্টা করি মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তবে মেম্বার হতে পারলে সরকারি তহবিল ব্যবহার করে বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজগুলো করা সহজ হবে। আমি চাই আমাদের খালিয়া গ্রাম হবে মণিরামপুর উপজেলার মধ্যে একটি মডেল ওয়ার্ড।” তিনি আরও জানান, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে প্রয়োজনে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ১০% থেকে ১৫% অর্থ খরচ করতেও দ্বিধা করবেন না। তার এই নিঃস্বার্থ মনোভাব গ্রামবাসীর মনে আশার আলো জাগিয়েছে।
খালিয়া গ্রামের প্রতিটি মানুষের কাছে এখন ফারিয়াল আহম্মেদ দোয়া ও সমর্থন প্রার্থী। তার নির্বাচনী প্রচারণা ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বয়স্ক ব্যক্তিরা তাকে আশীর্বাদ করছেন আর তরুণরা তাকে পরিবর্তনের কাণ্ডারি হিসেবে দেখছেন। ফারিয়াল বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচনে ভোটাররা সঠিক ব্যক্তিকেই বেছে নেবেন। তিনি যদি নির্বাচিত হতে পারেন, তবে খালিয়া গ্রাম হবে নিরাপদ, আলোকিত ও সমৃদ্ধ এক জনপদ। তার এই জনসেবার মানসিকতা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাচেতনা এখন পুরো রাজগঞ্জ এলাকার মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।
















