শৈলকুপায় মাদক সেবনের দায়ে বৃদ্ধের কারাদণ্ড: জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযান

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email


ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৯/০৮/২০২৬ তারিখে এক বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে চলমান মাদক বিরোধী এই তদারকির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং মনে করছেন নিয়মিত এমন অভিযান চললে এলাকা থেকে ১০০% মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম কুদ্দুস মোল্লা (৬০)। তিনি শৈলকুপা থানার শেখপাড়া গ্রামের মৃত ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ ছিল। প্রশাসনের কাছে খবর ছিল যে, কুদ্দুস মোল্লা নিয়মিত মাদক সেবন করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। অবশেষে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। ৬০ বছর বয়সেও এমন অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শৈলকুপা উপজেলা প্রশাসনের একটি চৌকস দল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শৈলকুপার সুযোগ্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব দেবাশীষ অধিকারী। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট যখন কুদ্দুস মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন। এরপর আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। উপস্থিত সাধারণ মানুষ এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া দেখে প্রশাসনের ওপর তাদের আস্থা আরও বাড়িয়ে দেয়।

ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ অধিকারী অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে কুদ্দুস মোল্লাকে ০৫ (পাঁচ) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সাথে তাকে ১০০ (একশত) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। খবর নিয়ে জানা গেছে, দণ্ডিত ব্যক্তি সাথে সাথেই জরিমানার ১০০ টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে তাকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামান্য ১০০ টাকা জরিমানা বড় কথা নয়, বরং তাকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং অন্যদের সতর্ক করাই এই সাজার মূল উদ্দেশ্য।

শৈলকুপার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদক সেবনের প্রবণতা ইদানীং ১০% থেকে ১৫% বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে উঠতি বয়সের তরুণদের পাশাপাশি বয়স্কদের মাদকাসক্তি সমাজকে হুমকির মুখে ফেলছিল। কুদ্দুস মোল্লার মতো বয়োজ্যেষ্ঠরা যখন মাদক সেবন করেন, তখন তারা তরুণ প্রজন্মের কাছে নেতিবাচক উদাহরণ হয়ে দাঁড়ান। তাই এই কারাদণ্ড সমাজের জন্য একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে। অনেকে বলছেন, এই অভিযানের ফলে এলাকার অন্তত ৫০% মাদকসেবী এখন গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করবে।

মাদক বিরোধী এই অভিযান সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর। ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ অধিকারী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, মাদকের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই প্রতিটি গ্রাম মাদকমুক্ত থাকুক। আজকের এই সাজা কেবল শুরু, আগামীতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। শৈলকুপার প্রতিটি ইউনিয়নে ১০০% নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীকে এলাকায় ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

বর্তমানে দণ্ডিত কুদ্দুস মোল্লাকে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল তাকে কড়া পাহারায় জেলহাজতে নিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তার এই সাজার খবরে বিমর্ষ হয়ে পড়লেও প্রতিবেশী ও সচেতন মহল একে ন্যাবিচার হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের দাবি, শৈলকুপার প্রতিটি বাজার ও নির্জন স্থানে যেন নিয়মিত পুলিশি টহল বজায় থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের পেছনে মানুষের পকেট থেকে গড়ে বছরে কয়েক হাজার টাকা বা অনেক ক্ষেত্রে ১০০০$ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নষ্ট হচ্ছে যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

পরিশেষে বলা যায়, শৈলকুপায় কুদ্দুস মোল্লার এই সাজা মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অনড় অবস্থানেরই প্রতিফলন। ঝিনাইদহ জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল প্রশাসন নয়, সাধারণ মানুষেরও সমান সহযোগিতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এমন আরও অভিযান শৈলকুপাকে একটি আদর্শ ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে সবাই আশা প্রকাশ করছেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ