ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ০৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দিনভর ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ১০০ পিস ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রথম অভিযানে, গত ০৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে সারুটিয়া ইউনিয়নের তালতলা বাজারের ব্রিজের ওপর থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সারুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম রাহুর ছেলে মোঃ রশিদ মন্ডল (৫০) এবং মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে মোঃ আক্তার শেখ (৬০)। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার সাথে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে ওত পেতে ছিল এবং তারা ব্রিজে আসামাত্রই তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে।
এরপর গভীর রাতে ফুলহরি ইউনিয়নের ভগবান নগর গ্রামে দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে মোঃ বিপুল মন্ডল (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে শৈলকূপা থানা পুলিশ। বিপুল মন্ডল ভগবান নগর গ্রামের মোঃ মজিবর মন্ডলের ছেলে। তাকে ওই গ্রামের জনৈক মোঃ আমজাদ ওরফে অনজেদ সরদারের বসতবাড়ির উঠান থেকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে যে, এই ইয়াবাগুলো সে খুচরা বিক্রির জন্য সেখানে মজুত করেছিল।
একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে রয়েড়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় অভিযান চালিয়ে মোঃ ইমন শেখ (৩৫) নামের আরেক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। ইমন শেখ রয়েড়া দক্ষিণ পাড়ার মোঃ ইউনুচ শেখের ছেলে। পুলিশ তাকে গ্রামের কেনাল রোডে অবস্থিত জনৈক মোঃ ইউনুচ মন্ডলের চায়ের দোকানের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে আরও ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কেনাল রোডের ওই চায়ের দোকানটিকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যেত, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।
দিনের অন্য এক অভিযানে গোসাইডাঙ্গা গ্রামের মোঃ করমআলী শেখের ছেলে মোহাম্মদ রুবেল শেখকে (২৮) ০১ পিস ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সামনে হাজির করা হয়। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ইউএনও মহোদয় সেখানে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। আদালতের রায়ে রুবেল শেখকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত সাজা ভোগ করতে হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে পুলিশ এখন ১০০% কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, শৈলকূপার সীমান্ত এলাকাগুলোতে টহল আরও জোরদার করা হোক যাতে বাইরের জেলা থেকে মাদক প্রবেশ করতে না পারে। পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের মাদকবিরোধী ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে তারা সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কোনো এলাকায় মাদকের কারবার চললে তাৎক্ষণিক পুলিশকে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
















