শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান: ইয়াবাসহ মোটরসাইকেল আরোহী গ্রেপ্তার

LinkedIn
Twitter
Facebook
Telegram
WhatsApp
Email

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ৫৯ বিজিবি (মহানন্দা ব্যাটালিয়ন)। এরই ধারাবাহিকতায় শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃত ব্যক্তি একজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং তিনি ওই এলাকায় মাদক সরবরাহের সাথে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ ০২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬:৩০ মিনিটের দিকে ৫৯ বিজিবির একটি তুখোড় চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবির চকপাড়া বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন যে, সীমান্ত মেইন পিলার ১৮৪ হতে প্রায় ০৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে মাদকের একটি চালান নিয়ে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছেন। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই টহল দলটি কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। তারা ফতেপুর গ্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ওত পেতে থাকেন এবং সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীকে থামার সংকেত দেন। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও জওয়ানরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে আটক করতে সক্ষম হন।

আটককৃত ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুস সালাম (৪০)। তিনি শিবগঞ্জ থানার উত্তর ফতেপুর গ্রামের মোঃ কেতাব উদ্দিনের ছেলে। বিজিবি সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। এই মাদক ব্যবসায়ীর ব্যবহৃত ০১টি পালসার মোটরসাইকেল এবং তার সাথে থাকা ০১টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। বিজিবির মতে, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেল ব্যবহার অন্যতম। তারা মনে করে ১০০% সতর্কতা বজায় রাখলে এই ধরনের অপরাধ চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব।

মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিজিবি বর্তমানে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এই অভিযানের বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, মাদক চোরাচালান বন্ধে তাদের বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত কাজ করছেন। সীমান্তে বিজিবি যে কোনো মূল্যে মাদক ঢোকা বন্ধ করবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের তরুণ প্রজন্মকে এই সর্বনাশা আসক্তি থেকে বাঁচানো। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে ১০০% জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল আছি এবং ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”

বর্তমান বাজারে মাদকের বিস্তার রোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর হাজার হাজার $ ডলার সমমূল্যের টাকা পাচার করে বিদেশের বাজারে ইয়াবা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য কিনে আনছে। বিজিবি মনে করে, ফতেপুর গ্রামের মতো প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় যদি স্থানীয় মানুষ সচেতন হয়, তবে অপরাধীদের ধরা সহজ হবে। আটক আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। জব্দকৃত ইয়াবা, মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেলসহ তাকে শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শিবগঞ্জে চোরাচালানের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। তবে ৫৯ বিজিবি এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিজিবির নিয়মিত টহলের কারণে এখন চোরাকারবারিরা খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। তারা মনে করেন, যদি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এই তৎপরতা অব্যাহত থাকে, তবে মাদকের ব্যবহার ৯৯% কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের আড়ালে যারা মাদক বহন করে, তাদের ধরতে বিজিবি এখন অনেক বেশি পারদর্শী হয়ে উঠেছে।

পরিশেষে বলা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে বিজিবির এই সফলতা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। মাদক নির্মূলে শুধু বাহিনী নয়, জনগণের সম্পৃক্ততাও জরুরি। আটক আব্দুস সালামের মতো মাদক ব্যবসায়ীদের সঠিক শাস্তির আওতায় আনা হলে অন্যরা এই পথে আসার সাহস পাবে না। বিজিবি আশা প্রকাশ করছে যে, এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে তারা খুব শীঘ্রই একটি মাদকিমুক্ত সীমান্ত এলাকা উপহার দিতে পারবে। সমাজ থেকে মাদক দূর করতে বিজিবির এই আপোষহীন লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সবসময় সজাগ থাকবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ