ঝিনাইদহের শৈলকুপায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে স্থানীয় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ গভীর রাতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শৈলকুপা থানাধীন ভুলুন্দিয়া গ্রামের কবরস্থানের সামনের পাকা রাস্তায়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ জুলাই রাত ২টা ০৫ মিনিটের দিকে শৈলকুপা থানার অফিসার ও ফোর্সের একটি দল নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, ভুলুন্দিয়া কবরস্থানের সামনের নির্জন রাস্তায় কয়েকজন যুবক মাদক সেবন ও কেনাবেচার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে পালানোর চেষ্টা চালায় যুবকরা, কিন্তু অফিসাররা তাদের ঘিরে ফেলেন। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছে থাকা ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গভীর রাতে এমন নির্জন জায়গায় মাদকের আড্ডা চলায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন যুবকের বয়সই ১৯ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারা হলেন গোসাইডাঙ্গা গ্রামের মিল্টন হোসেনের ছেলে মোঃ তামিম হোসেন (২০), একই গ্রামের লাল্টু রহমানের ছেলে বান্না (১৯) এবং ভুলুন্দিয়া গ্রামের মোঃ শরিফুল ইসলামের ছেলে মোঃ তামিম ইকবাল (১৯)। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিয়মিত মাদক সেবনের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। তাদের এই স্বীকারোক্তির পর পুলিশ ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় একটি মামলা দায়ের করে এবং দ্রুত তাদের আদালতে সোপর্দ করে।
আদালতে আসামিদের তোলা হলে বিজ্ঞ বিচারক সব তথ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দি পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করেন। রায়ে তিন যুবককেই ০১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের জন্য ১০০০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়। যদি কোনো আসামি জরিমানার এই ১০০০ টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে আরও ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হুমায়ূন কবির মোল্লা জানিয়েছেন, মাদক নির্মূল করতে তারা ১০০% বদ্ধপরিকর এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
শৈলকুপার সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মাদকের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১৯-২০ বছরের তরুণদের এমন নেশার কবলে পড়া খুবই উদ্বেগের বিষয়। এলাকার সচেতন মহলের মতে, গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে মাদকাসক্তের হার অন্তত ৩০% থেকে ৪০% বেড়ে গেছে। তারা মনে করছেন, নিয়মিত এমন পুলিশি টহল ও তাৎক্ষণিক সাজা প্রদানের ফলে মাদক ব্যবসায়ীদের মনে ভয় তৈরি হবে এবং অপরাধের মাত্রা অন্তত ৮০% কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ওসি হুমায়ূন কবির মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য আমাদের বার্তা পরিষ্কার। হয় এই পথ ছাড়ুন, না হয় শ্রীঘরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিন।” তিনি আরও জানান যে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানে ভুলুন্দিয়া ও আশেপাশের এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। কবরস্থানের মতো একটি শান্ত ও পবিত্র জায়গার সামনে যারা এমন অনৈতিক কাজ করছিল, তাদের গ্রেপ্তারে খুশি গ্রামবাসী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু জেল-জরিমানা দিয়ে মাদক পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। এর জন্য প্রয়োজন পরিবারের সচেতনতা। পরিবারের তরুণ সদস্যরা গভীর রাতে কোথায় যাচ্ছে বা কাদের সঙ্গে মিশছে, সেদিকে ১০০ ভাগ নজর রাখা উচিত। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের মধ্যে ইয়াবার মতো ভয়ংকর মাদক ছড়িয়ে পড়া সমাজের জন্য একটি বড় অভিশাপ। পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। শৈলকুপা থানা পুলিশ জানিয়েছে, তাদের এই অভিযান আগামী দিনেও নিয়মিত চলবে।
















